বাঘ শুমারি শুরু, দু’দিনের জন্য পর্যটকদের জন্য বন্ধ সুন্দরবন
শুরু হচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত বাঘশুমারি। রাজ্যের বনদফতরের তরফে ইতিমধ্যেই সেই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

Published : November 9, 2025 at 8:51 PM IST
|Updated : November 10, 2025 at 4:08 PM IST
কলকাতা, 9 নভেম্বর: শীতের মরশুমে যখন পর্যটকদের ঢল নামে সুন্দরবনে। বিভিন্ন নদীতে পিকনিক ও পর্যটন চলে। ঠিক তখনই দু’দিনের জন্য বন্ধ হতে চলেছে রাজ্যের এই বিশ্বখ্যাত ব্যাঘ্র অভয়ারণ্য। ডিসেম্বরের 11 ও 12 তারিখ সুন্দরবনে কোনও পর্যটক প্রবেশ করতে পারবেন না। কারণ, ওই দুই দিনজুড়ে শুরু হচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত বাঘশুমারি। রাজ্যের বনদফতরের তরফে ইতিমধ্যেই সেই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভ কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, শুমারির প্রথম ধাপ হিসেবে ওই দু’দিন জঙ্গলে পর্যটন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখা হবে। কোনও লঞ্চ, বোট বা পর্যটকবাহী ক্রুজ সুন্দরবনের জলে চলাচল করতে পারবে না। এমনকি 11 ও 12 ডিসেম্বরের জন্য কোনও অনলাইন বুকিংও করা যাবে না। বাঘের উপস্থিতি, চলাফেরা ও প্রজনন সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহের জন্যই এই পদক্ষেপ বলে জানানো হয়েছে বনদফতরের তরফে।
সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের ডেপুটি ফিল্ড ডিরেক্টর জোন্স জাস্টিনস ইটিভি ভারতকে বলেন, “আমরা চাইছি যেন বাঘ গণনার কাজটি বৈজ্ঞানিকভাবে এবং সম্পূর্ণ নির্ভুলভাবে সম্পন্ন হয়। এজন্যই পর্যটন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে যাতে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহে কোনও ভুল না হয়। আশা করছি, এবারের শুমারিতে আগের চেয়ে বেশি সংখ্যক বাঘের খোঁজ মিলবে।”
এ বছর শুমারিতে ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যাধুনিক ক্যামেরা ট্র্যাপ প্রযুক্তি। বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, সুন্দরবনের বিভিন্ন অঞ্চলে মোট 1484টি ক্যামেরা বসানো হবে, যা একসঙ্গে নজর রাখবে 4100 বর্গকিলোমিটার অরণ্যের উপর। এই ক্যামেরাগুলি টানা একমাসেরও বেশি সময় ধরে ছবি তুলবে, পরে সেই ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বাঘের সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি এবার বাঘের খাদ্যশৃঙ্খল নিয়েও সমীক্ষা চালানো হবে।
অর্থাৎ, শুধু রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার নয়— বাঘের শিকার প্রাণী যেমন হরিণ, বন্য শুকর, বন্য ছাগল ইত্যাদির উপস্থিতি ও চলাচলও এবার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। বনদফতরের এক আধিকারিক জানান, “বাঘ যত বাড়বে, তার খাবারের জোগানও ঠিক রাখতে হবে। সেই ভারসাম্য বজায় থাকছে কি না, সেটাও এবার শুমারির মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে।”
এবারই প্রথম বাঘ গণনার তথ্য সংগ্রহে একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করা হবে। মাঠে থাকা বনকর্মীরা প্রতিদিনের রিপোর্ট, ছবি ও তথ্য সরাসরি কেন্দ্রীয় ডেটাবেসে পাঠাবেন এই অ্যাপের মাধ্যমে। পুরো প্রক্রিয়াটি হবে রিয়েল-টাইম মনিটরিংয়ের আওতায়।
এই বিষয়ে দক্ষিণ 24 পরগনার জেলার বনবিভাগের মুখ্য বন আধিকারিক (DFO) নীশা গোস্বামী বলেন, "আগামী 11 এবং 12 ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে চলেছে সুন্দরবনের বাঘ শুমারির কাজ। সুন্দরবন জুড়ে লাগানো হবে 320টি ক্যামেরা। সর্বশেষ বাঘ গণনায় সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল 111টি। গত চার বছরে মোট 22টি বাঘ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা 133টি। আশা করা যাচ্ছে এ বছর ডিসেম্বর মাসে যে বাঘ গণনার কাজ শুরু হবে সেই গণনায় সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।"
অধিকারিকদের মতে, বাঘশুমারির কাজ অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই পর্যটকদের আনাগোনা থাকলে বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক আচরণ ব্যাহত হতে পারে। সেই কারণেই দু’দিনের জন্য জঙ্গলকে পর্যটকমুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু বাঘের সংখ্যা জানা নয়, সুন্দরবনের সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্র সম্পর্কেও নতুন তথ্য উঠে আসবে বলে আশা করছে বনদফতর।

