ETV Bharat / state

দুর্গাপুর 'গণধর্ষণ': বিচারকের উপস্থিতিতে টিআই প্যারেড, অভিযুক্তদের চেনালেন নির্যাতিতা

দুপুর 12টার সময় নির্যাতিতাকে দুর্গাপুর উপ-সংশোধনাগারে নিয়ে আসা হয় ৷ আদালতের নির্দেশে সংশোধনাগারে অতিরিক্ত জেলা বিচারকের উপস্থিতিতে হয় টিআই প্যারেড ৷

DURGAPUR GANG RAPE
দুর্গাপুর 'গণধর্ষণ'-কাণ্ডে অতিরিক্ত জেলা বিচারকের উপস্থিতিতে টিআই প্যারেড (নিজস্ব ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : October 24, 2025 at 7:44 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

দুর্গাপুর, 24 অক্টোবর: ডাক্তারি পড়ুয়ার গণধর্ষণ-কাণ্ডে দুর্গাপুর উপ-সংশোধনাগারে করা হল টিআই প্যারেড ৷ শুক্রবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা বিচারকের উপস্থিতিতে হওয়া টিআই প্যারেডে, নির্যাতিতা ডাক্তারি পড়ুয়া অভিযুক্তদের চিহ্নিত করেছেন এবং কার কী ভূমিকা ছিল, তাও জানিয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর ৷ জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা পড়ুয়া তাঁর আগের দেওয়া বয়ান অনুযায়ী, তাঁকে ধর্ষণকারী মূল অভিযুক্তকেও চিহ্নিত করেছেন ৷

এ দিন দুপুর বারোটা নাগাদ কড়া নিরাপত্তায় দুর্গাপুর গণধর্ষণ-কাণ্ডে নির্যাতিতা ডাক্তারি পড়ুয়াকে সংশোধনাগারে নিয়ে আসা হয় পুলিশের গাড়িতে ৷ এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে পৌঁছান অতিরিক্ত জেলা বিচারক রাজীব সরকার এবং আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেটের তদন্তকারী আধিকারিকরা ৷ শুরুতেই পাঁচ অভিযুক্তকে নির্যাতিতার মুখোমুখি দাঁড় করানো হয় ৷ সকলের উপস্থিতিতে নির্যাতিতা, তাঁর ধর্ষণকারী মূল অভিযুক্তকে চিহ্নিত করেন ৷ পাশাপাশি, বাকি চারজনের কার, কী ভূমিকা ছিল, তা তুলে ধরেন ৷ এই টিআই প্যারেডে নির্যাতিতার সহপাঠী তথা 'প্রেমিক' ছিলেন না-বলে জানা গিয়েছে ৷

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেটের এক উচ্চপদস্থ কর্তা বলেন, "আদালতের সমস্ত নিয়ম-নীতি মেনেই টিআই প্যারেড সম্পন্ন হয়েছে ৷ নিয়ম মেনে ভিডিয়োগ্রাফি করা হয়েছে ৷ সমস্ত রিপোর্ট এবার আদালতে জমা দেওয়া হবে ৷"

উল্লেখ্য, গত বুধবার এই মামলায় দ্বিতীয় দফায় গ্রেফতার হওয়া নির্যাতিতার সহপাঠী-সহ চারজনকে আদালতে তোলা হয় ৷ সেদিন পুলিশের তরফে সংশোধনাগারেই টিআই প্যারেডের আবেদন করা হয় ৷ পুলিশের আবেদন মঞ্জুর করে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতের বিচারক নির্দেশ দেন, 24 অক্টোবর অতিরিক্ত জেলা বিচারকের উপস্থিতিতে টিআই প্যারেড করতে হবে ৷

উল্লেখ্য, গত 10 অক্টোবর দুর্গাপুর থানা এলাকার বিজড়া শোভাপুরে একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের দ্বিতীয় বর্ষের ডাক্তারি পড়ুয়া ছাত্রীকে পরাণগঞ্জের জঙ্গলে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে ৷ ওড়িশার বাসিন্দা ওই ডাক্তারি পড়ুয়ার গণধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয় রাজ্য রাজনীতিতে ৷ যে ঘটনায় রাজ্যের নারী সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে ৷ ওড়িশা সরকারের তরফেও অভিযুক্তদের গ্রেফতারি এবং সঠিক তদন্তের দাবিতে চাপ বৃদ্ধি করা হয় ৷

এরপরেই তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে ৷ পরেরদিন আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয় গণধর্ষণের ঘটনায় ৷ এই ঘটনায় শুরু থেকেই নির্যাতিতার সহপাঠী তথা 'প্রেমিকে'র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে ৷ এমনকি নির্যাতিতার পরিবারের তরফেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয় ৷ এই পরিস্থিতিতে নির্যাতিতার সহপাঠীকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ ৷ তারপরেই ওই যুবককে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় ৷

এই 6 জনের গ্রেফতারির পরে আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেটের কমিশনার সাংবাদিক বৈঠক করে জানান, ওই ডাক্তারি পড়ুয়াকে ধর্ষণ করেছেন কেবল একজন ৷ নির্যাতিতা পুলিশকে দেওয়া বয়ানে তেমনটাই জানিয়েছিলেন ৷ তবে, বাকিরা ঘটনায় জড়িত থাকায় গণধর্ষণের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ ৷