ETV Bharat / state

ব্রিগেডে গীতাপাঠ: চিকেন প্যাটিস বিক্রেতাদের মারধরে গ্রেফতার তিন, পরে জামিন

গীতাপাঠের অনুষ্ঠান চলাকালীন দুই হকার চিকেন প্যাটিস বিক্রি করায় মারধর ৷ ঘটনার তিন দিন পর গ্রেফতার তিন যুবক ৷ পরে জামিনে মুক্ত তিন জনই ৷

Etv Bharat
ব্রিগেডে গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে জনসমাগম (ফাইল ছবি - পিটিআই)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : December 11, 2025 at 11:40 AM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 11 ডিসেম্বর: ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে 5 লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ অনুষ্ঠানের দিন ঘটে গিয়েছে নিন্দাজনক ঘটনা । ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাঝে চিকেন প্যাটিস বিক্রি করাকে কেন্দ্র করে দুই খাবার বিক্রেতাকে প্রকাশ্যে হেনস্তা করার অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেফতার করেছে ময়দান থানার পুলিশ । ধৃতদের নাম সৌমিক গোলদার, তরুণ ভট্টাচার্য ও স্বর্ণেন্দু চক্রবর্তী । বুধবার গভীর রাতে এই তিন জনকে গ্রেফতার করা হয় ৷ তবে বৃহস্পতিবার কলকাতা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট ধৃতদের জামিন মঞ্জুর করে ৷

ময়দান থানার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার তিন জনকে এদিন আদালতে পেশ করা হয় ৷ ধৃতদের আইনজীবী জানান, সৌমিক অসুস্থ এবং তাঁর একটিপা বাদও গিয়েছে। সরকারি আইনজীবী ধৃতদের 14 দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানান । তিনি আদালতে দাবি করেন, “চিকেন প্যাটিস বিক্রেতাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে । তাঁদের আটকে রেখে শারীরিকভাবে মারধর করা হয়েছে ।”

অভিযুক্তদের আইনজীবীরা পাল্টা দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট বিক্রেতার বিরুদ্ধেও ‘নিরামিষ প্যাটিস’ বলে চিকেন প্যাটিস বিক্রির অভিযোগ পুলিশের কাছে জমা পড়েছে । তাঁদের প্রশ্ন, সেই অভিযোগে কেন কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি ? আদালতও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আদালতে উপস্থিত গোরক্ষা ও বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা ক্ষোভপ্রকাশ করেন।

গত রবিবার আরএসএস-ঘনিষ্ঠ সনাতন সংস্কৃতি সংসদ ব্রিগেডে বিশাল গীতাপাঠের আয়োজন করে । বহু মানুষের সমাগমে সেখানে খাবার বিক্রি করতে হাজির হয়েছিলেন দুই বিক্রেতা আরামবাগের বাসিন্দা শেখ রিয়াজুল এবং তপসিয়ার মহম্মদ সালাউদ্দিন । অভিযোগ অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন যুবক তাঁদের উদ্দেশে মন্তব্য করতে শুরু করে, "ধর্মীয় অনুষ্ঠানে চিকেন প্যাটিস বিক্রি হয় কীভাবে ?" সেই প্রশ্ন তুলেই নাকি শুরু হয় অপমান ও হেনস্তা ।

অভিযোগকারীদের দাবি, রিয়াজুল ও সালাউদ্দিনের প্যাটিস মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়, তাঁদের মারধর করা হয় ৷ এমনকি কান ধরে ওঠবোসও করানো হয় । রিয়াজুলের প্রায় 3 হাজার টাকার খাবার নষ্ট হয়ে যায় বলে অভিযোগ । পুরো ঘটনার ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ে সোশাল মিডিয়ায় ৷ যা নিয়ে ক্ষোভ বাড়তে থাকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ।

এরপর দুই ভুক্তভোগী পৃথকভাবে অভিযোগ দায়ের করেন ময়দান থানায় । অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ এবং সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিয়ো যাচাইয়ের পর চিহ্নিত করা হয় অভিযুক্তদের । তারপরই গ্রেফতার হয় তিন যুবক । পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত সৌমিক গোলদার উত্তর 24 পরগনার গোবরডাঙার বাসিন্দা, তরুণ ভট্টাচার্যের বাড়ি হুগলির উত্তরপাড়ায় এবং স্বর্ণেন্দু চক্রবর্তী অশোকনগরের বাসিন্দা ।

চাঞ্চল্যকর এই হেনস্তার ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে— প্রকাশ্যে এত বড় অনুষ্ঠানে কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, নিরাপত্তার ত্রুটি কোথায় ? তদন্তের অগ্রগতির দিকেই এখন তাকিয়ে সকলেই । যদিও এই বিষয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, "অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করা হয়েছে । গ্রেফতারও হয়েছে । বাকিটা দেখা হচ্ছে ।"

ঘটনার প্রেক্ষিতে উত্তাল হয়েছে রাজনীতি । তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিএম— উভয় দলই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে এবং অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছে । ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এমন আচরণের নিন্দায় সরব হয়েছে নানান মহলও । পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত আরও বিস্তৃত করা হবে এবং প্রয়োজনে ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজন গ্রেফতার হতে পারে ।