মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের শিলান্যাসের দিনই রাম মন্দিরের ভূমি পুজো, রবিবার হবে গীতাপাঠ
মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের শিলান্যাসের 30 কিমি দূরে বহরমপুরের বানজেটিয়া এলাকায় রাম মন্দিরের ভূমি পুজো করল বিজেপি৷ রবিবার এখানেই হবে শতকন্ঠে গীতাপাঠ।

Published : December 6, 2025 at 11:03 PM IST
বহরমপুর, 6 ডিসেম্বর: মুর্শিদাবাদে 30 কিমি ব্যবধানে হল বাবরি মসজিদের শিলান্যাস ও রামমন্দিরের ভূমি পুজো। বেলডাঙা ব্লকের মরাদিঘি এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের বহিস্কৃক বিধায়ক হুমায়ুন কবীর করলেন বাবরি মসজিদের প্রস্তাবিত জমিতে শিলান্যাস। সেখান থেকে 30 কিমি দূরে বহরমপুরের বানজেটিয়া এলাকায় রাম মন্দিরের ভূমি পুজো করলেন দক্ষিণ মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি শাখারভ সরকার। সনাতনি সংস্কৃতি মতে পুজোপাঠ-যাগযজ্ঞ, আরতির মাধ্যমে রাম মন্দিরের শিলা পুজো করা হয়। আগামীকাল এখানেই শতকন্ঠে গীতাপাঠ অনুষ্ঠিত হবে। শাখারভ সরকার বলেন, "অযোধ্যার আদলেই এখানে রাম মন্দির হবে। মন্দির সংলগ্ন জমিতে হাসপাতাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও তৈরি করা হবে। অনেক আগেই এই জেলায় রাম মন্দির তৈরির ঘোষণা করেছিলাম। সেই কাজই শুরু হচ্ছে।"
অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভেঙে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তৈরি হয়েছে রাম মন্দির। রামলালায় ভূমি পুজোর দিন সারা দেশ থেকে মানুষ রাম নাম লেখা ইট নিয়ে গিয়েছিলেন অযোধ্যায়। এবার মুর্শিদাবাদে হচ্ছে সেই রাম। বলা ভালো, মন্দিরের ক্ষুদ্র সংস্করণ। তার জন্য বহরমপুর পুরিসভা লাগোয়া মণন্দ্রনগর গ্রাম। পঞ্চায়েতের বানজেটিয়া এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। পূর্ব ঘোষণা মতো সেখানেই শনিবার হয়ে গেল ভূমি পুজো। যদিও এদিন প্রচারের আলোয় ছিল হুমায়ুন কবীরের বাবরি মসজিদ। মিডিয়া ফুটেজ কার্যত শুষে নিয়েছিল বেলডাঙা। বিভিন্ন জেলা থেকে বাবরি মসজিদের সমর্থনে বিশাল সমর্থক হাজির হয়েছিল।
বানজেটিয়ায় রাম মন্দিরের ভূমি পুজো সেই ভাবে সমর্থন কুড়োতে না পারলেও জাঁকজমকের কোনও খামতি ছিল না। অনেক আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল, 6 ডিসেম্বর রাম মন্দিরের ভূমি পুজো ও শিলা পুজো হবে। সেই মতো প্রস্তুতি চলছিল। শনিবার বেলা 10টা নাগাদ পুজো শুরু হয়। আরতি, যাগযজ্ঞে সামিল হয়েছিলেন এলাকার নারী পুরুষ। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও বিজেপি সমর্থকরা হাজির হয়েছিলেন। কার্যত জেলা বিজেপির উদ্যোগেই রাম মন্দির তৈরির ঘোষণা করা হয় এখানে।
গত লোকসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদে প্রচারে এসে যোগী আদিত্যনাথ এই জেলায় শাখারভ সরকারকে রাম মন্দির তৈরিতে অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন বলেই গেরুয়া শিবির সূত্রে খবর। সে সময় শাখারভ সরকার বিজেপির জেলা সভাপতি ছিলেন। বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রে ত্রিমুখী লড়াই হওয়ায় বিজেপি জিততে না পারলেও 2 লক্ষ 75 হাজার ভোট পেয়েছিল। নির্বাচনের পর রাম মন্দিরের জন্য জমি দেখার কাজ শুরু করে বিজেপি। কান্দি এলাকায়, মহুলা এলাকায় জমি দেখা হয়েছিল। পরে বানজেটিয়াকে বেছে নেওয়া হয়। আগামিকাল রবিবার এখানেই হবে শতকন্ঠে গীতাপাঠ।

