শান্তিপুরে 60-70টি মূর্তি ভাঙার অভিযোগ, সরব বিজেপি, শুরু পুলিশি তদন্ত
অমিত দে ও অসিত দে নামে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ৷ তারা পলাতক৷

Published : January 7, 2026 at 8:12 PM IST
শান্তিপুর (নদিয়া), 7 জানুয়ারি: গভীর রাতে একাধিক ঠাকুরের নির্মীয়মাণ প্রতিমা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নদিয়ায়৷ সোমবার রাতে ঘটনাটি ঘটে নদিয়ার শান্তিপুর থানা এলাকার সর্বনন্দীপাড়া লোকনাথ মন্দিরের সামনে৷ এক প্রতিমা শিল্পীর প্রায় 60-70টি নির্মীয়মাণ মূর্তি ভাঙা হয় বলে অভিযোগ৷ এই নিয়ে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে৷ পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে৷
তবে এই ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছেন বিজেপির নেতা অমিত মালব্য৷ তিনি সোশাল মিডিয়ায় এই নিয়ে পোস্ট করেন৷ সেখানে এই ঘটনাকে সনাতন ধর্মের উপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন৷ তবে এই নিয়ে তৃণমূলের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি৷ তাদের বক্তব্য, এই নিয়ে যা বলার পুলিশই বলবে৷
কী ঘটনা ঘটেছে?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শান্তিপুরের আগমেশ্বরী স্টেট এলাকার সর্বনন্দীপাড়ায় একটি লোকনাথ মন্দির রয়েছে৷ সেই মন্দিরের সামনেই মূর্তি তৈরি করেন জয়ন্ত দাস ও তাঁর ছেলে পলাশ দাস৷ প্রায় 30 বছর ধরে তাঁরা এই কাজ করছেন৷ সামনেই সরস্বতী পুজো, সেই কারণে এখন তাঁরা সরস্বতী প্রতিমা তৈরি করছেন৷ এছাড়া কিছু কালীপ্রতিমা তৈরির কাজও চলছিল৷
পলাশ দাস বলেন, ‘‘সোমবার রাতে স্থানীয় বাসিন্দা অমিত দে আসে আমার দোকানে৷ আমার বাড়িতে পুজোর জন্য তখন একটি প্রতিমা সাজাচ্ছিলাম৷ ও এসে বলল, ‘এত রাতে কী করছিস’৷ আমি ওকে বললাম, আমার বাড়িতে পুজো৷ তাই ঠাকুর সাজাচ্ছি৷ তুইও যাস৷ তখন অমিত মত্ত অবস্থায় ছিল৷ তাই আর বেশি কথা বলিনি৷’’
এর পর পলাশ বাড়িতে চলে যান৷ মঙ্গলবার সকালে উঠে দেখেন যে তাঁদের তৈরি করা অনেক মূর্তিই ভেঙে দেওয়া হয়েছে৷ তখন এই নিয়ে হইচই হয়৷ খতিয়ে দেখা হয় সিসিটিভি ফুটেজ৷ তখন দেখা যায় অমিত দে ও অসিত দে মূর্তির ভাঙার সঙ্গে জড়িত৷
স্থানীয় বাসিন্দা স্বপন দেবনাথ জানান, অমিত এলাকায় মদ্যপ হিসেবে পরিচিত৷ বিভিন্ন সময় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক দুষ্কর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে৷ যদিও তাঁর ভাই অসিত এমন নন৷ তার পরই দু’জনে কেন এই ঘটনা ঘটালো, সেই প্রশ্ন তুলছেন তিনি৷ এই ঘটনাকে অত্যন্ত খারাপ বলেই দাবি করেছেন স্বপন দেবনাথ৷
পুলিশ কী বলছে?
শান্তিপুর থানায় এই নিয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে৷ মৃৎশিল্পী পলাশ দাস জানিয়েছেন, পুলিশ এসে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখেছে৷ তারা সিসিটিভি ফুটেজও নিয়ে গিয়েছে৷ তবে ঘটনার পর 24 ঘণ্টা কেটে গেলেও গ্রেফতার করা যায়নি অভিযুক্ত অমিত ও অসিতকে৷
এই নিয়ে রানাঘাট পুলিশ জেলার এসপি আশিস মৌর্য বলেন, ‘‘ইতিমধ্যেই অভিযোগ দায়ের হয়েছে৷ পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। দুইজনকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে৷ তবে তারা পলাতক৷ তাদের খুঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।’’
মূর্তি ভাঙা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা
যদিও এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে৷ এই নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন বিজেপি অমিত মালব্য৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘মমতার জঙ্গলরাজে সনাতন ধর্মের ওপর আরও একটি নৃশংস হামলা!’’ তাঁর দাবি, এই ধরনের ঘটনা আগেও হয়েছে বাংলায়৷ পুরোটাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের মদতে হচ্ছে৷ ভোট ব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্যই তৃণমূল এসব করছে বলে তাঁর দাবি৷ পোস্টের শেষে অমিত মালব্য লিখেছেন, ‘‘2026 সালে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। সনাতন ধর্ম আবার মাথা তুলে দাঁড়াবে। মমতার উগ্রপন্থী সাম্রাজ্যের পতন অবশ্যম্ভাবী।’’
এদিকে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যে এই ঘটনায় অমিত দে এবং অসিত দে নামক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। দোকানের মালিকের সঙ্গে ব্যক্তিগত বিরোধ বা রাগের জেরেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। শীঘ্রই পুলিশের তরফ থেকেও এই নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে বিস্তারিত জানানো হবে।

