ETV Bharat / state

'খুনি'রা বাইরে, লাগাতার হুমকির জন্যই নিজেকে শেষ করতে চেয়েছিলেন তামান্নার মা !

পুলিশের চাপের মুখে সরকারি হাসপাতাল থেকে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তামান্নার মা’কে ৷ ভর্তি করানো হয়েছে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে ৷

KALIAGANJ MINOR GIRL DEATH CASE
কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে তামান্নার মা’কে ৷ (ফাইল ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : January 2, 2026 at 2:22 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 2 জানুয়ারি: বিচারের নামে প্রহসন ! একদিকে মেয়ের খুনে অভিযুক্তদের একাংশ বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে ৷ আর তার পরে লাগাতার হুমকির অভিযোগ ৷ এই পরিস্থিতিতে মানসিক অবসাদেই নাকি নিজের প্রাণনাশের চেষ্টা করেছেন কালীগঞ্জের 9 বছরের মৃত বালিকা তামান্নার মা ৷ এমনটাই অভিযোগ করলেন তামান্নার বাবা হোসেন শেখ ৷ পাশাপাশি পুলিশের বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ করেছেন, সুস্থ না-হলেও চাপ দিয়ে তামান্নার মা’কে শক্তিনগর জেলা হাসপাতাল থেকে রিলিজ করানো হয়েছে ৷

তিনি অভিযোগ করলেন, "দশজনকে তামান্নার হত্যায় ধরেছে পুলিশ ৷ এখনও 14 জন বাকি ৷ ওরা নিজেদের মতো কাজ করছে, খাওয়া-দাওয়া করছে দোষীরা ৷ আমরা সবটাই দেখতে পাচ্ছি ৷ পুলিশকে আমরা বলেছি ওদের ধরতে ৷ পুলিশ বলছে আমরা দেখছি ৷ প্রায়ই বলি, এসপি-কেও বলা হয়েছে ৷ কতদিন ধরে বাইরে অপরাধীরা ঘুরবে ? একটা চাপ, চিন্তা, ভয় চলে আসছে ৷ হুমকি দেওয়া হচ্ছে তামান্নার মাকে ৷ ওঁরা চাইছে হুমকি দিয়ে যদি কেসটা বন্ধ করা যায় ৷ নানা চাপ আর মেয়ের বিচার হবে না, এই অবসাদে ভুগছিল ওর মা ৷ পুলিশ কোনও কাজ করছে না ৷ হঠাৎ রাতে ঘুমের ওষুধ খায় ৷ এখন দেখে এলাম, ঘুমিয়ে আছে ৷ চিকিৎসকরা এখন কাছে যেতে দিচ্ছে না ৷"

লাগাতার হুমকির জন্যই নিজেকে শেষ করতে চেয়েছিলেন তামান্নার মা, অভিযোগ স্বামী হোসেন শেখের ৷ (ইটিভি ভারত)

উল্লেখ্য, কালীগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনের ফলপ্রকাশের দিন তৃণমূলের বিজয় মিছিল থেকে বোমা ছোড়ার অভিযোগ ওঠে ৷ সেই বোমার আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল 9 বছরের তামান্না ৷ গত বছরের মাঝামাঝি সেই ঘটনা ঘটলেও এখনও অনেক অভিযুক্ত বাইরে ঘুরছে বলে অভিযোগ ৷ এমনকি তাঁদের তরফে লাগাতার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে পরিবারকে ৷

অভিযোগ, এসবের জেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তামান্নার মা ৷ এরপর গত 31 ডিসেম্বর অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তাঁকে ৷ প্রথমে তাঁকে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ৷ তামান্নার বাবা অভিযোগ করেছেন, সেখানেও প্রশাসনের চাপের মুখে পড়তে হয় ৷ বাধ্য হয়ে সরকারি হাসপাতাল ছেড়ে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে তামান্নার মা’কে ৷

তামান্নার বাবা হোসেন শেখ অভিযোগ করেছেন, "কৃষ্ণনগর হাসপাতালে প্রথম নিয়ে গেছিলাম, পুলিশ আসে ৷ পুলিশই ভর্তি করে শক্তিনগর হাসপাতালে রাত বারোটা-একটার দিকে ৷ পুলিশই সিদ্ধান্ত নেয় পরের দিন ছাড়া হবে ৷ রোগীকে জিজ্ঞেস করেনি সে ভালো আছে কি না ৷ পুলিশ বলে ডাক্তারের কাছে চলো, আমাকে নিয়ে গেল ৷ আমাকে বলছে সই করেন ৷ একজন মহিলা পুলিশ ছিল ৷ রোগীকে ছাড়িয়ে নিলাম বলে সই করান উনি ৷ সামনে সাংবাদিক ছিল বলে পিছন দিয়ে বের করিয়েছে ৷ সাংবাদিকদের কাছে কথা বলতে বাধা দেয়, বেরিয়ে নিয়ে চলে আসে ওখান থেকে ৷ ডাক্তার এখন বলেছে, সুস্থ না-হওয়া পর্যন্ত ছাড়ব না আমরা ৷ এর জন্যই বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে এসেছি ৷ কারণ সরকারি হাসপাতাল, নেতা-মন্ত্রী, পুলিশ সব ওদের ৷ ওদের জন্যই হচ্ছে, তাই কলকাতায় নিয়ে আসতে বাধ্য হলাম ৷"

অন্যদিকে, কলকাতার হাসপাতলে তামান্নার মা ভর্তি হয়েছেন শুনে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের নির্দেশে সকালে হাসপাতালে এসে তামান্নার মা’কে দেখে যান দলের নেতা আশুতোষ চট্টোপাধ্যায় ৷ পরিবারের সঙ্গে কথাও বলেন তিনি ৷

এ নিয়ে ইটিভি ভারতকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বলেন, "মায়ের সামনে মেয়ের খুনিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে ৷ অসভ্যতামি করছে, হুমকি দিচ্ছে ৷ সেইটা আর নিতে পারছেন না তামান্নার মা ৷ বড় কথা যে শেষমেষ তিনি বেঁচে আছেন ৷ আপনার মেয়েকে যাঁরা মেরে ফেলেছে, তাদের বিচার হবে একদিন ৷ এই সরকারের আমলে আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে রাজ্যে ৷ আমি ওঁকে বলেছি, 'আপনি একটি মেয়েকে মানুষ করছিলেন ৷ এখন আপনার এলাকার যত অবহেলিত শিশু-সন্তানরা আছে, তাদের মানুষ করুন, তৈরি করে দেখিয়ে দিন' ৷ যাতে তারা খুনি-গুন্ডাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারে ৷"