এক কোটির মাইলফলকে স্বাস্থ্যসাথী, ফেসবুকে ঘোষণা মমতার
মুখ্যমন্ত্রী ফেসবুক জানান, এই প্রকল্পের আওতায় এখনও পর্যন্ত মোট 13 হাজার 156 কোটি টাকার স্বাস্থ্যসেবার সুবিধা পেয়েছেন রাজ্যবাসী ৷

Published : November 3, 2025 at 7:19 PM IST
কলকাতা, 3 নভেম্বর: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রধান স্বাস্থ্য–নিশ্চয়তা প্রকল্প স্বাস্থ্যসাথী নতুন অধ্যায় রচনা করল। রাজ্যের এই বহুল জনপ্রিয় স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পটির আওতায় 2025 সালের 31 অক্টোবরের মধ্যে এক কোটি মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৷ এমনটাই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। তাঁর মতে এত সংখ্যক মানুষকে পরিষেবা দিয়ে রেকর্ড করেছে এই স্বাস্থ্য প্রকল্পটি ৷
সোমবার সকালে নিজের ফেসবুক পেজে এই তথ্য প্রকাশ করে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান জানান, প্রকল্পটির আওতায় এখনও পর্যন্ত মোট 13 হাজার 156 কোটি টাকার স্বাস্থ্যসেবার সুবিধা রাজ্যবাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে ৷ আর এই সম্পূর্ণ খরচ বহন করেছে রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের যে কোনও বাসিন্দা (যিনি অন্য কোনও রাজ্যের দেওয়া স্বাস্থ্য প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত নন) স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধা নেওয়ার যোগ্য। বর্তমানে প্রায় 8.5 কোটি মানুষ এই প্রকল্পের সুরক্ষার পরিধিতে আছেন। তার মধ্যে চলতি বছর এই প্রকল্পের আওতায় এক কোটি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হলেন ৷
প্রকল্পটির শক্তিশালী আইটি প্ল্যাটফর্ম, হাসপাতাল থেকে শুরু করে অন্য অংশীদারদের দ্রুত পেমেন্ট দেওয়া এবং সময়োচিত প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা পরিষেবাকে আরও নির্ভরযোগ্য ও দ্রুততর করেছে বলেও দাবি করেন মমতা। ওই পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, “আপনারা যখন কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, তখন রাজ্য সরকার সর্বদা আপনাদের পাশে রয়েছে।” 2016 সালে রাজ্য সরকার স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পটি চালু করেছিল ৷মূল উদ্দেশ্য ছিল সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা দেওয়া। প্রকল্পের আওতায় পরিবার প্রতি বছরে 5 লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হয় ৷ সরকারি হাসাপাতালের মতো বেসরকারি হাসপাতালেও এই কার্ডের সাহায্যে চিকিৎসা পাওয়া যায়।
বছরের পর বছর প্রকল্পটির পরিসর ও ভরসা ক্রমশ বেড়েছে বলে দাবি রাজ্য প্রশাসনের ৷ স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিক বলেন, “প্রকল্পটির সাফল্যের পেছনে রয়েছৈ স্বচ্ছ পেমেন্ট প্রক্রিয়া, ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং দ্রুত অভিযোগ–নিরসনের কাঠামো।” মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারি তহবিল ছাড়াও রাজ্য নিজস্ব রাজস্ব থেকেই এই স্বাস্থ্য যোজনা চালাচ্ছে, যা বাংলার প্রতিটি পরিবারের স্বাস্থ্য-নিরাপত্তাকে নিশ্চিত করছে। এই মাইলফলকে পৌঁছনোর মধ্য দিয়ে স্বাস্থ্য সাথী শুধু সংখ্যার দিক থেকে নয়, মানবিকতার দিক থেকেও এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল বলে মনে করছে রাজ্য প্রশাসন।

