স্বরূপের সঙ্গে আইনি বিচ্ছেদের পথে স্ত্রী জুঁই বিশ্বাস, জানালেন 2 কন্যা থেকে টলিপাড়ার নানা কথা
2019 সাল থেকেই তাঁরা একে অপরের থেকে আলাদা থাকছেন বলে ইটিভি ভারতের প্রতিবিধিকে জানিয়েছেন জুঁই বিশ্বাস ।

Published : May 29, 2026 at 12:50 PM IST
কলকাতা, 29 মে: রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই উত্তপ্ত টলিপাড়া । সিনে ইন্ডাস্ট্রিতে ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের 'দাদাগিরি' নিয়ে চলছে জোর চর্চা । স্টুডিয়ো পাড়ায় প্রায় প্রতিদিনই আছড়ে পড়ছে প্রতিবাদ । এক এক সময় এক এক গিল্ড শামিল হচ্ছে প্রতিবাদে । স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে রয়েছে প্রতিবাদীদের হরেক অভিযোগ ! কাটমানি থেকে শুরু করে কথায় কথায় শিল্পী-কলাকুশলীদের ব্যান করে দেওয়া, হুমকি - এহেন নানা অভিযোগ উঠে আসছে তাঁর বিরুদ্ধে । এসবের মধ্যেই ফেডারেশন সভাপতির ব্যক্তিগত জীবনেও ঘটতে চলেছে বড় রকমের পরিবর্তন । আইনি বিচ্ছেদের পথে তাঁর স্ত্রী তথা দক্ষিণ কলকাতার 81 নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জুঁই বিশ্বাস ।
যদিও এই সিদ্ধান্ত আজকের নয় । 2019 সাল থেকেই তাঁরা একে অপরের থেকে আলাদা থাকছেন বলে ইটিভি ভারতের প্রতিবিধিকে জানিয়েছেন জুঁই বিশ্বাস । আর এবার আইনি পথে হাঁটতে চলেছেন জুঁই ও স্বরূপ উভয়েই । দক্ষিণ কলকাতার 81 নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার জুঁই জানিয়েছেন, চলতি বছরের শুরুতেই এই বিচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছিলেন তাঁরা । কয়েক মাসের মধ্যেই বিচ্ছেদ আইনিভাবে সম্পন্ন হবে ।
টলিউডে স্বরূপ বিশ্বাসের নামে যে সব অভিযোগ উঠে আসছে সেই প্রসঙ্গ তুললে তিনি ইটিভি ভারতের প্রতিনিধিকে বলেন, "টলিউড নিয়ে আমি কোনওকালেই আগ্রহী নই । 2010 সাল থেকে আমি কাউন্সিলর । আজ 2026 ৷ এই সময়ের মধ্যে কেউ আমাকে কখনও টলিউডের কোনও প্রোগ্রামে দেখতে পায়নি । আমাকে প্রিমিয়ারেও দেখা যায়নি কখনও । তাই এই পাড়াটায় কী হচ্ছে আমি একেবারে ওয়াকিবহাল ছিলাম না কোনওদিনই । 2019 সাল থেকেই আমরা আলাদা থাকি । তাই ঘরে এসব নিয়ে আলোচনার তো কোনও অবকাশই ছিল না । তাই কারওর কোনও কাজের দায়ভার তো আমি নিতে পারব না ।"
উল্লেখ্য, স্বরূপ বিশ্বাস এবং জুঁই বিশ্বাসের দুই কন্যা । একজনের বয়স 12, আরেকজনের আট । বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ ওদের মনেও প্রভাব ফেলতে পারে । এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমি কখনও এই ব্যাপারে কোথাও মুখ খুলিনি । খুব ঘনিষ্ঠ কিছু সাংবাদিক কোনও বিক্ষিপ্ত ঘটনায় হয়তো জেনেছেন । তবে, আমি কোথাও এই নিয়ে কথা বলিনি আজ অবধি । এটা একেবারে ব্যক্তিগত বিষয় । সেটা নিয়ে কেন বাইরে চর্চা হবে । আমি চাই না আমার মেয়েরা কখনও ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাক । বাচ্চাদের কথা ভেবে আমি কখনওই জনসমক্ষে কোনও কথা বলিনি ।"
মেসি-কাণ্ডে ব্যাপকভাবে সমালোচনার শিকার হতে হয়েছিল তৎকালীন মন্ত্রী তথা স্বরূপ বিশ্বাসের দাদা অরূপ বিশ্বাসকে । মাঠে কয়েক ঝলক দেখা গিয়েছিল জুঁই-স্বরূপের কন্যাদেরও । তখন ওই দুই একরত্তির মেসির পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা নিয়েও কম কটাক্ষ হয়নি ।
এই নিয়ে কথা তুললে জুঁই বলেন, "ওদের ওখানে একটা প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করার কথা ছিল । আর আমাকে যেখানে বসতে বলা হয়েছে আমি সেখানেই বসেছি । যদি আমার সেখানে বসার কথা না-থাকত, তা হলে পুলিশ আমাকে ঢুকতেও দিত না । কিন্তু ঢুকতে দিয়েছিল তো । তাই বসেছিলাম । মাঠে প্রচুর ভিড়, মেয়েদের দেখতে পাচ্ছিলাম না । তাই আমি একটিবারই মাঠে ঢুকি । তখন মেসি বেরিয়ে যাচ্ছেন । তার আগে ওই 30 মিনিটে আমাকে মাঠে কোথাও দেখা গেছে বলে আমার জানা নেই । এরকম ঘটনার জন্য তো কেউ প্রস্তুত থাকে না । কে জানত মেসি আসার দিন ওরকম একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে ?"
ট্রোলিং কীভাবে সামলান ? জুঁই বলেন, "কিছু মানুষ সারাদিন সোশাল মিডিয়া খুলে বসে আছেন । যা ঘটছে না-জেনেই তাতে কমেন্ট করে দিচ্ছেন । কেউ মারা গেলে তাঁর স্ত্রী কেন কাঁদছেন না সেটাও ট্রোলারদের নাকি দেখার বিষয় । মানুষের মানসিকতার পরিচয় তাঁদের কাজেই পাওয়া যায় । যাঁরা ট্রোল করে তাঁদের সারাদিনে আর কোনও কাজ নেই । আমি এগুলো নিয়ে ভাবি না । ভাবার সময় নেই ।"
রাজনৈতিক পালাবদল হয়েছে । দল নিয়ে কীভাবে নতুন করে ভাবছেন ? জুঁই বলেন, "পালাবদল হয়েছে এক মাসও হয়নি । আমি চাই নতুন সরকার ভালোভাবে কাজ করুক । মানুষের উন্নয়নের স্বার্থে সবরকমের সহযোগিতা করব সরকারকে ।"

