ETV Bharat / state

সেনার তৎপরতায় 20 দিনে জুড়ল শিলিগুড়ি-মিরিক, দুধিয়া বেইলি ব্রিজের ভার্চুয়াল উদ্বোধন মুখ্যমন্ত্রীর

বুধবার বিকেল থেকে যান চলাচল শুরু হল বালাসন নদীর উপর তৈরি হওয়া বেইলি ব্রিজে ৷ শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন সাংসদ রাজু বিস্তার ৷

Dudhia Bailey Bridge
সেনার তৎপরতায় 20 দিনে জুড়ল শিলিগুড়ি-মিরিক সড়ক যোগাযোগ ৷ (নিজস্ব ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : July 8, 2026 at 9:22 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

মিরিক, 8 জুলাই: দীর্ঘ 20 দিন বিচ্ছিন্ন থাকার পর অবশেষে সচল হল শিলিগুড়ি-মিরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ৷ ভারতীয় সেনা মাত্র 20 দিনে দুধিয়ার বালাসন নদীর উপর নতুন বেইলি ব্রিজ তৈরি করে দিয়েছে ৷ বুধবার কলকাতা থেকে সেই বেইলি ব্রিজের ভার্চুয়াল উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ৷ পাশাপাশি, দার্জিলিংয়ে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেনা ও প্রশাসনের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন ৷

গত 19 জুন প্রবল জলোচ্ছ্বাসে দুধিয়ার অস্থায়ী হিউম পাইপের সেতুটি ভেঙে যায় ৷ ফলে এই রুটে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল ৷ পাহাড়বাসীর সেই দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে এ দিন 8 জুলাই, দুধিয়ার বালাসন নদীর উপর ভারতীয় সেনার তৈরি নতুন বেইলি ব্রিজটি সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হল ৷ কলকাতায় নবান্ন সভাঘর থেকে মুখ্যমন্ত্রী এই সেতুর উদ্বোধন করার পর বিকেল থেকেই বেইলি ব্রিজে গাড়ির চাকা গড়াতে শুরু করেছে ৷

দুধিয়া বেইলি ব্রিজের ভার্চুয়াল উদ্বোধন মুখ্যমন্ত্রীর (ইটিভি ভারত)

এ দিনের এই ভার্চুয়াল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা ৷ অন্যদিকে, দুধিয়ার অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী, দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক এবং জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ৷ তিন মিটার চওড়া এবং 58 মিটার লম্বা এই বেইলি ব্রিজ চালু হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে পাহাড়ের বাসিন্দারা ৷

প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা

উল্লেখ্য, গত বছরের 4 অক্টোবর পাহাড়ের অবিরাম বৃষ্টির জেরে ফুলেফেঁপে উঠেছিল বালাসন নদী ৷ জলের তীব্র স্রোতে দুধিয়ার মূল লোহার সেতুর একটি খুঁটি হেলে গিয়ে সেটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৷ প্রায় 42 দিন যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকার পর পূর্ত দফতরের (PWD) উদ্যোগে তৈরি একটি অস্থায়ী হিউম পাইপের সেতু দিয়ে যাতায়াত শুরু হয়েছিল ৷

কিন্তু চলতি বছরের বর্ষার শুরুতেই, গত 19 জুন পাহাড়ে টানা বৃষ্টির জেরে বালাসনের জলস্ফীতিতে সেই হিউম পাইপের সেতুটিও নদীগর্ভে তলিয়ে যায় ৷ ফলে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে শিলিগুড়ি ও মিরিকের মধ্যে পণ্য ও যাত্রী পরিবহণ ৷ স্থানীয় মানুষের চরম দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে গত 23 জুন সেনাবাহিনীর তরফে প্রথমে একটি ফুট ব্রিজ তৈরি করা হয়েছিল ৷

নজিরবিহীন গতিতে কাজ সেনার

সেতু ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করেছিল ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ড ৷ মাত্র 20 দিনের রেকর্ড সময়ে এই সম্পূর্ণ বেইলি ব্রিজটি নির্মাণ করে তারা নজির সৃষ্টি করেছে ৷ এই দ্রুত পদক্ষেপের জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা ৷

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, "দার্জিলিং পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্স—বিশেষ করে সমগ্র মিরিক মহকুমার মানুষের পক্ষ থেকে আমি মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে দ্রুত ও কার্যকরী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই ৷ তাঁর এই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করে যে পাহাড়ের মানুষের প্রতি এই সরকারের গভীর দায়বদ্ধতা রয়েছে ৷ বিজেপি সরকার যে পাহাড়বাসীর প্রকৃত কল্যাণ চায়, তা এই কাজের গতি থেকেই স্পষ্ট ৷"

পূর্বতন সরকারের সমালোচনা করে সাংসদ আরও দাবি করেন, "গত প্রায় পাঁচ দশক ধরে, সিপিআই(এম)-এর 34 বছর এবং তৃণমূলের 15 বছরের শাসনে পাহাড়ের মানুষ কখনও প্রশাসনের এই স্তরের তৎপরতা ও আন্তরিকতা দেখেনি ৷ সেনাবাহিনীর অসাধারণ ইঞ্জিনিয়ারিং দক্ষতা এবং জেলা প্রশাসন ও পূর্ত দফতরের সমন্বয়ে এই অসাধ্য সাধন সম্ভব হয়েছে ৷"

Dudhia Bailey Bridge
দুধিয়া বেইলি ব্রিজের উদ্বোধনে সেনাবাহিনীর আধিকারিক এবং জেলা প্রশাসনের কর্তারা ৷ (নিজস্ব ছবি)

খুশির হাওয়া পাহাড়ে

মিরিক ও পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য দুধিয়ার এই সেতুটি পণ্য পরিবহণের প্রধান লাইফলাইন ৷ বর্ষার মুখে এই রাস্তা বন্ধ থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ এবং পর্যটনে বড়সড় ধাক্কা লাগার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল ৷ অবশেষে 20 দিন পর ফের মিরিক ও শিলিগুড়ির মধ্যে গাড়ির চাকা গড়াতে শুরু করায় খুশির হাওয়া দার্জিলিং ও মিরিকের পার্বত্য অঞ্চলে ৷