সংঘর্ষের যাদবপুরে 10 হাজার কণ্ঠে ধ্বনিত 'বন্দে মাতরম', থ্রেট কালচার শেষ করার বার্তা শুভেন্দুর
শুভেন্দুর বার্তা, শুধু নিজের পরিবারের দায়িত্ব নিলেই হবে না । দেশকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও যুব সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।

Published : August 28, 2026 at 8:09 PM IST
কলকাতা, 28 অগস্ট: দুটি ঘটনার মধ্যে ব্য়বধান মাত্র 9 দিনের । গত সপ্তাহে ছাত্র সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় । অশান্তির জেরে ভাঙা পড়েছিল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির গর্বের প্রতীক । এবার রাখির উৎসবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে একসঙ্গে দশহাজার কণ্ঠ বলে উঠল 'বন্দে মাতরম' ।
অনুষ্ঠানের সূচনা করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যাদবপুর থানা থেকে শুরু করে সুকান্ত সেতুর মুখ পর্যন্ত বিশাল রাম্প তৈরি করা হয়েছিল । যেখানে হাজির হয়ে একসঙ্গে বন্দেমাতরম গাইল ভিড়। 8বি-র মূল মঞ্চে দাঁড়িয়ে দেশপ্রেমের বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। বললেন, যাদপুরের থ্রেট কালচার শেষ করার সময় এসেছে ।
তিনি বলেন, "রাখি পূর্ণিমায় দেশপ্রেমকে অটুট এবং শক্তিশালী করার জন্য 10 হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরমের আহ্বান জানিয়েছিলাম। অনেক দূর থেকে অনেকে এসেছেন । কেউ বৃষ্টিতে ভিজেছেন । কেউ গাছের নীচে আশ্রয় নিয়েছেন । সকলের একটাই লক্ষ্য- এই পবিত্র মাটিতে দেশপ্রেম জাগ্রত করতে বন্দে মাতরম উচ্চারণ করা।’’ মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও আজ ছিলেন মন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, তাপস রায়, কল্যাণ চক্রবর্তী, ইন্দ্রনীল খাঁ-সহ বিজেপির একাধিক নেতা-কর্মী। দলের দাবি এদিন রাজ্যের প্রায় চার হাজার জায়গায় রাখি উৎসব পালন করা হয়েছে।

শুভেন্দুর বক্তব্যের বেশিরভাগ অংশ জুড়েই ছিল যাদবপুর। তাঁর বক্তব্য, "দীর্ঘ 34 বছরের বাম আমল থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ একটি নির্দিষ্ট মতাদর্শের প্রভাবে থেকেছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে সেন্টার অফ এক্সেলেন্স হিসেবে গড়ার কথা বললেও সেখানে জাতীয়তাবাদ এবং দেশের সাংস্কৃতিক পরম্পরা নিয়ে চর্চা হয়নি ।"
তাঁর প্রশ্ন, কলাবিভাগের দেওয়ালে কেন ‘রেড স্যালুট কিষেণজি’ লেখা থাকে, কেন সেখান থেকে ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজ়াদি’-র মতো স্লোগান ওঠে। তাঁর কথায়, "কলকাতার রাস্তায় যখন আজ়াদি-আজ়াদি দেখি, তখন কষ্ট হয়। কীসের আজ়াদি ভাই ? আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ত্যাগ, নেতাজির লড়াই, মাতঙ্গিনী হাজরার বলিদান মনে রাখতে হবে। ভারত 1947 সালেই স্বাধীন হয়ে গিয়েছিল। একইভাবে কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের সঙ্গে এত যুদ্ধ ও লড়াই হয়েছে । সেই কাশ্মীরের নামে আজ়াদির স্লোগান ওঠা অত্যন্ত পীড়াদায়ক।"

এবিভিপি-র কর্মী-সমর্থকদের 'আক্রান্ত' হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে 'টুকরে টুকরে গ্যাং'-এর বিরুদ্ধেও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। গেরুয়া রং নিয়ে বিতর্কের জবাব দিতে গিয়ে তাঁর মন্তব্য, স্বামী বিবেকানন্দের গায়েও গেরুয়া ছিল। মন্দিরের মাথায় গেরুয়া ধ্বজা আছে। দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য থেকে নতুন প্রজন্মকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, শুধু নিজের পরিবারের দায়িত্ব নিলেই হবে না । দেশকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও যুব সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। ইজ়রায়েলের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, সেখানে নাগরিকদের ন্যূনতম সামরিক প্রশিক্ষণ নিতে হয়। ভারত উদার দেশ এবং ভবিষ্যতেও উদার থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

পাশাপাশি, আগামী দিনে দেশের প্রতিটি স্কুল ও কলেজে এনসিসি বাধ্যতামূলক করার পক্ষেও সওয়াল করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, এ রাজ্যে এনসিসি বন্ধ করে জয়হিন্দ বাহিনী চালু করা হয়েছিল । এই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হয়নি।
সবমিলিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ঘটনার 9 দিন পর 8বি মোড়ে ‘দশ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরম’ অনুষ্ঠানের আয়োজন তাই শুধু রাখিপূর্ণিমার সাংস্কৃতিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের রাজনীতি, জাতীয়তাবাদ এবং মতাদর্শকে সামনে রেখে যাদবপুর থেকেই নতুন করে রাজনৈতিক বার্তা দিলেন শুভেন্দু।

