রাজনীতি কেন নিয়ন্ত্রণ করবে ক্রীড়াক্ষেত্র ? প্রশ্ন মুখ্যমন্ত্রীর, খেলোয়াড়দের আর্থিক সাহায্য ও চাকরি
ক্রীড়াক্ষেত্রে পরিকাঠামো উন্নয়নে 400 কোটির বাজেট রাজ্যের ৷ প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় আধুনিক সুবিধাযুক্ত মিনি ইন্ডোর স্টেডিয়াম ৷

Published : August 29, 2026 at 7:50 PM IST
কলকাতা, 29 অগস্ট: গত 11 বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে পড়ে থাকা ফাইল অবশেষে ছাড়পত্র পেল ৷ পঞ্চদশ জাতীয় ক্রীড়া দিবসে রাজ্যের খেলোয়াড়দের জন্য ঢালাও অনুদান ও সরকারি চাকরির ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ৷ যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া দফতরের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় ৷ সেখানেই মুখ্যমন্ত্রী জানান, ক্রীড়া সংস্থায় আর কোনও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না ৷ পাশাপাশি, পরিকাঠামো উন্নয়নে 400 কোটি টাকার বাজেটের কথাও ঘোষণা করেন তিনি ৷
মেজর ধ্যানচাঁদের জন্মদিন উপলক্ষে এদিন তাঁর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন শুভেন্দু ৷ উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ, অলিম্পিক পদকজয়ী কিংবদন্তি হকি খেলোয়াড় সর্দার গুরবক্স সিং, জ্যোতির্ময়ী শিকদার, বুলা চৌধুরী, দিব্যেন্দু বড়ুয়া, শান্তি মল্লিক, পৌলমী ঘটক, সোমা বিশ্বাস, মহম্মদ আলী কামার এবং সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কল্যাণ চৌবে ৷
মঞ্চ থেকে 145 জন কৃতী ক্রীড়াবিদকে সংবর্ধনা ও মোট 4 কোটি 31 লক্ষ 50 হাজার টাকার আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয় ৷ 10 মিটার এয়ার রাইফেলের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সোনাজয়ী অভিনব শ-এর হাতে 25 লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন শুভেন্দু ৷ 400 মিটার রিলে রেসে পদকজয়ী তহুরা খাতুনকে সাড়ে 12 লক্ষ টাকা আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয় ৷ এছাড়াও কীর্তিবাস মাহাতো, অনির্বাণ ঘোষ, ঐহিকা মুখোপাধ্যায়, প্রণতি দাস, শিল্পা দাসের মতো ক্রীড়াবিদদের আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয় ৷
স্পোর্টস কোটায় রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল ও লেডি কনস্টেবল পদের নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয় সুব্রত কুণ্ডু, কাজল হালদার, সুজিৎ সাহা, স্নেহা মণ্ডল, পলি মণ্ডল, রুম্পা মালিক, দেবেশ শাও এবং অনিকেত সেন চৌধুরীর হাতে ৷
ক্রীড়া প্রশাসনে রাজনীতিকরণের অভিযোগে এদিন সরব হন শুভেন্দু অধিকারী ৷ তাঁর কথায়, "ক্রীড়া ক্ষেত্রে না-থেকেও, ক্রীড়া সংগঠনকে কেবলমাত্র রাজনৈতিক পরিচয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হবে কেন ? এ প্রশ্ন বাংলার ক্রীড়াপ্রেমী জনগণ বারেবারে তোলে ৷" পূর্বতন সরকারকে নিশানা করে তিনি বলেন, "যাঁদেরকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া হল, তাঁদের মধ্যে এমন সফল ক্রীড়াবিদরা আছেন, যাদের ফাইল মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে 11 বছর পড়েছিল ৷ 2015 সাল থেকে পড়েছিল ৷"
জাতীয় স্তরে ক্রীড়াক্ষেত্রে বাংলার পিছিয়ে পড়া নিয়ে তাঁর আক্ষেপ, "এই বাংলায় মেধা আছে, বুদ্ধি আছে, একাগ্রতা আছে, অর্জুনের মতো লক্ষ্য স্থির আছে, নিষ্ঠা আছে ৷ কেবল সহযোগিতা নেই, অনুপ্রেরণা নেই, ব্যবস্থা নেই, উদ্যোগ নেই ৷" পরিকাঠামো উন্নয়নে বড়সড় পদক্ষেপের কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী ৷
তাঁর ঘোষণা, "আমরা পর্যায়ক্রমে 294টা বিধানসভা কেন্দ্রে আধুনিক সুবিধাযুক্ত মিনি ইন্ডোর স্টেডিয়াম করব ৷ এ বছর আমরা 100টা করার টার্গেট নিয়েছি ৷" এই স্টেডিয়ামগুলির নাম হবে 'শ্রী অরবিন্দ স্টেডিয়াম' ৷ রাজ্যের প্রথম স্পোর্টস ইউনিভার্সিটির জন্য বিশেষ বরাদ্দও করা হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু ৷ 'অটল খেল সম্মান'-এর আওতায় জাতীয় ক্লাবগুলিকে বছরে এক কোটি টাকা করে সাহায্য করা হবে বলে ঘোষণা করেছেন তিনি ৷
কলকাতায় লিওনেল মেসির সফর নিয়ে হওয়া বিশৃঙ্খলার প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, "মেসির মতো খেলায় কেলেঙ্কারি হয়েছে... 33 হাজার চিটেড ক্রীড়াপ্রেমী ৷ তাঁদের টাকাও ফেরত যাতে দিতে পারি বা ফেরত করাতে পারি, তার প্রক্রিয়াও আমি ইন্টারনালি চালাচ্ছি ৷" সবশেষে ফুটবলের প্রতি বাঙালির চিরন্তন আবেগের কথা স্মরণ করিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আমার বাড়িতে দু’রকমই আছে ৷ আমি নিজে মোহনবাগান ৷ আর আমার মা ইস্টবেঙ্গল ৷"

