অন্নপূর্ণা যোজনায় সরাসরি টাকা ট্রান্সফারের আনুষ্ঠানিক সূচনা শুভেন্দুর, কারা পাবেন না
কোনও মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারের সরাসরি যোগাযোগের জন্য নতুন হেল্পলাইন নম্বর চালু করার কথাও তিনি ঘোষণা করেন ।

Published : June 3, 2026 at 2:53 PM IST
কলকাতা, 3 জুন: রাজ্যে পালাবদলের পর শপথ গ্রহণের মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই নারী সশক্তিকরণ ও জনকল্যাণে বড়সড় পদক্ষেপ করল নতুন সরকার । বুধবার নবান্নে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী 'অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার' প্রকল্পের সরাসরি টাকা ট্রান্সফারের আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন । বিগত সরকারের 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' প্রকল্পের বদলে এবার থেকে রাজ্যে চালু হল 'অন্নপূর্ণা যোজনা', যেখানে যোগ্য মহিলাদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি তিন হাজার টাকা করে অনুদান পাঠানো শুরু হল । পাশাপাশি, মহিলাদের জন্য সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধাও কার্যকর করা হয়েছে বলে তিনি জানান ।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই পশ্চিমবঙ্গের নারী শক্তিকে প্রণাম জানিয়ে বলেন, "পশ্চিমবাংলার নারী শক্তিকে বন্দন করি এবং জাগ্রত নারী শক্তিকে প্রণাম করি ।" তিনি জানান যে, নির্বাচনের আগে ডাবল ইঞ্জিন সরকারের যে সংকল্পপত্র প্রকাশ করা হয়েছিল, তা দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়িত করা হচ্ছে । তাঁর কথায়, "আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজিকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই যে, তিনি মাননীয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহজির হাত ধরে নির্বাচনের প্রাক্কালে যে সংকল্পপত্র প্রকাশ হয়েছিল, তার গ্যারান্টার ছিলেন ।"
মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে এত বড় কর্মসূচিকে সফল করার পদ্ধতিও ব্যাখ্যা দেন মুখ্যমন্ত্রী । তিনি জানান, "গত নয় তারিখে আমি এবং আমার পাঁচ সহযোগী দায়িত্ব নিয়েছিলাম, পরে আরও 35 জন যুক্ত হয়েছেন । আমরা খুব অল্প সময়ের মধ্যে মুখ্যসচিব এবং অর্থসচিবের, অন্যান্য আধিকারিকদের সম্পূর্ণ সহযোগিতায়...এই কর্মসূচি আজকে কার্যকর করতে চলেছি ।"
ইতিমধ্যেই মহিলাদের জন্য সরকারি বাসে (ডব্লিউবিটিসি, এনবিএসটিসি, এসবিএসটিসি) বিনামূল্যে টিকিট দেওয়া শুরু হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে । এছাড়া কোনও মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারের সরাসরি যোগাযোগের জন্য নতুন হেল্পলাইন নম্বর চালু করার কথাও তিনি ঘোষণা করেন ।
এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনের সবচেয়ে বড় ঘোষণাটি ছিল 'অন্নপূর্ণা যোজনা' নিয়ে । মুখ্যমন্ত্রী জানান, মাননীয়া মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের তত্ত্বাবধানে নতুন করে ফর্ম দিয়ে নথিভুক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে । বিগত সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এখন থেকে স্বচ্ছতার সঙ্গে ভেরিফিকেশন করা হচ্ছে । বিশেষ করে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেছে, তাঁদের আর এই সুবিধা দেওয়া হবে না ।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আমরা এসআইআর-এর পরবর্তী সময়ে দেখেছি যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে বাদ গেছে, এমন লক্ষ লক্ষ ভোটার তালিকায় নাম না-থাকা ব্যক্তিগণ বিগত সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার-সহ নানা সামাজিক প্রকল্পে কেন্দ্র এবং রাজ্যের সুযোগ পাচ্ছিলেন ।" তাঁর কথায়, "অভারতীয়, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, বয়স বাড়িয়ে, বয়স কমিয়ে অথবা মহিলাদের জন্য অর্থনৈতিক সুরক্ষা স্কিমকে বিগত দিনে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে...পুরুষরা যে যেভাবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুযোগ পাচ্ছিলেন, আমাদের এই স্বচ্ছতার সঙ্গে যে ফর্ম ফিলাপ এবং ভেরিফিকেশন, তাতে তাঁরা সুযোগ পাচ্ছেন না, পাবেন না, পাওয়া উচিতও নয় ।"
তবে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে আসা শরণার্থীদের আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী । তিনি জানান, "বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় উৎপীড়নের কারণে যে হিন্দু শরণার্থীরা প্রাণ বাঁচাতে পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন, যাঁরা 1 লক্ষ 21 হাজার সিএএ-তে আবেদন করেছেন...তাঁদেরকেও স্থায়ীভাবে নাম বাতিল তালিকায় আমরা ধরছি না ।" এছাড়া যাঁদের মামলা ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন, তাঁদেরও তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে না বলে তিনি জানান ।
মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, আগামী তিনমাস ধরে এই নতুন প্রকল্পের ফর্ম পূরণের কাজ চলবে । যাঁরা অনলাইনে বা সশরীরে ফর্ম জমা দিতে অক্ষম, সরকারের সাহায্যকারীরা তাঁদের বাড়িতে গিয়ে ফর্ম ফিলাপ করে আনবেন । এই প্রক্রিয়ার অবিশ্বাস্য গতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "গত তিনদিন প্রধান সচিব পর্যায়ে আধিকারিকরা জেলা থেকে পড়ে থেকে...আমরা পোর্টালে নথিভুক্ত করতে পেরেছি 28 লক্ষ 25 হাজার 769 জন । 28 লক্ষ 25 হাজার 769 জনের অ্যাকাউন্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজির গ্যারান্টি স্কিম, ডাবল ইঞ্জিন সরকার আপনাদের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করল ।" প্রতি সাতদিন অন্তর সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রী সাংবাদিক বৈঠক করে নতুন উপভোক্তাদের তথ্য জানাবেন বলেও তিনি কথা দেন ।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন 'স্বাস্থ্যসাথী' প্রকল্পকে 'আয়ুষ্মান ভারত' পোর্টালে স্থানান্তরের কাজ শুরু হওয়ার কথাও ঘোষণা করেন । সবশেষে, বাংলার মাটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব স্মরণ করে, স্বামী বিবেকানন্দ, রানি রাসমণি এবং মাতঙ্গিনী হাজরার কথা উল্লেখ করে মাতৃশক্তিকে প্রণাম জানিয়ে নতুন এই জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ।

