শহরের দূষণ নিয়ে উদ্বেগ, সাফাই কর্মীদের 'স্বচ্ছ কবচ' বিলি করে সবুজায়নের বার্তা শুভেন্দুর
পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে প্রাথমিকভাবে রাজ্যের 50 হাজার সাফাই কর্মীর হাতে এই বিশেষ কিট তুলে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে ।

Published : July 8, 2026 at 4:35 PM IST
কলকাতা, 8 জুলাই: রাজ্যকে দূষণমুক্ত করতে এবং পরিচ্ছন্নতার প্রসারে বড় পদক্ষেপ করল সরকার । কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভা এলাকার সাফাই কর্মীদের সুরক্ষার জন্য চালু হল 'স্বচ্ছ কবচ' কর্মসূচি । একটি পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে প্রাথমিকভাবে রাজ্যের 50 হাজার সাফাই কর্মীর হাতে এই বিশেষ কিট তুলে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে ।
এই উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে রাজ্যের পরিবেশ দূষণ এবং সবুজ ধ্বংস নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । তিনি বলেন, "আধুনিকীকরণের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় জোর না-দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের অপরাধী হয়ে থাকতে হবে ।"

রাজ্যের নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক দফতরের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী সাফাই কর্মীদের প্রকৃত সেবাদানকারী হিসেবে উল্লেখ করে তাঁদের ধন্যবাদ জানান । তবে তাঁর বক্তব্যের বড় অংশ জুড়েই ছিল পরিবেশ রক্ষার আকুল আবেদন । মুখ্যমন্ত্রী নিজে একসময় পরিবেশ দফতরের দায়িত্বে ছিলেন । সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে শহরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন ।
তাঁর কথায়, "যেভাবে পরিবেশ তৈরি হয়েছে, স্বচ্ছতার অভাবে যেভাবে বৃক্ষ ছেদন করে কংক্রিটের জঙ্গলে পরিণত করা হয়েছে এবং যেভাবে 15 বছরের বয়সের থেকে বেশি গাড়ি যা শহর এলাকায় চলাচল কার্যত নিষিদ্ধ, তার ভিজিলেন্স উপেক্ষা করা হয়েছে, এর সবচেয়ে খারাপ প্রভাব যদি কারও মধ্যে পড়ে থাকে তাহলে শিশু কিশোর এবং বয়স্ক মানুষদের উপরই পড়ে ।"

শহরের দূষণের কারণে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি যে কতটা বাড়ছে, সে কথাও মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী । বিশেষ করে শীতকালে বায়ুদূষণের মাত্রা মারাত্মক আকার ধারণ করে বলে তিনি জানান । এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "পরিবেশের ইন্ডেক্সগুলো এত বিপজ্জনক জায়গায় যায় যে, ডাক্তারবাবুরা বলেন মর্নিং ওয়াক করবেন না ইভনিং ওয়াক করুন ।" দূষণের জেরে চর্ম এবং শ্বাসজনিত নানা জটিল রোগে যে বহু মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন, সে কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে ।
উন্নয়নের নামে কেবল ইমারত গড়া যে কাজের কথা নয়, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী । শিলিগুড়ি থেকে আসানসোল কিংবা দার্জিলিং থেকে দিঘা - রাজ্যের প্রতিটি শহরকে বাঁচানোর ডাক দিয়েছেন তিনি । মুখ্যমন্ত্রীর মতে, "সব জায়গায় শুধুমাত্র ফ্লাইওভার, রোডওভার ব্রিজ, সুন্দর সুন্দর দৃষ্টিনন্দন নানা হল- অডিটোরিয়াম এগুলোর যেমন প্রয়োজন রয়েছে, তেমনি স্বচ্ছতা, স্বচ্ছ পরিস্রুত পানীয় জল, অরণ্য সৃষ্টির মধ্যে দিয়ে সবুজায়ন এবং পরিবেশ বান্ধব পরিবেশ, এই বহুমুখী লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে যদি আমরা এগোতে না-পারি তাহলে আগামী দিনে সমাজের কাছে আমরা নিজেদের অপরাধী হিসেবে উপস্থাপিত করব ।"
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির 'স্বচ্ছ ভারত অভিযান'-এর প্রশংসাও শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রীর গলায় । সম্প্রতি আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে কলকাতা ও বিধাননগর পুরসভার স্বচ্ছতা কর্মসূচির কথা প্রধানমন্ত্রী খোদ রেড রোডের অনুষ্ঠান থেকে উল্লেখ করেছেন বলে তিনি জানান । এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী জানান, দিনকয়েক আগে কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রী মনোহর লাল খাট্টারের উপস্থিতিতে 'স্বচ্ছ অ্যাপ'-এর উদ্বোধন করা হয়েছে । নতুন দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই এমন সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ নেওয়ার জন্য রাজ্যের নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং রাষ্ট্রমন্ত্রী উমেশ রায়কে প্রশংসায় ভরিয়ে দেন তিনি । মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন, এই দফতরকে আরও গতিশীল ও পরিবেশবান্ধব করে তুলতে নবান্ন থেকে সবরকম সহযোগিতা করা হবে ।
সবুজায়নের লক্ষ্যে রাজ্য সরকার যে বড়মাপের পরিকল্পনা নিয়েছে, সে কথাও এ দিন ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী । গত 5 জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস থেকে 'মায়ের নামে একটি গাছ' কর্মসূচি শুরু হয়েছে । এই বছর রাজ্যে মোট সাত কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে । তবে গাছ লাগিয়েই যে দায় সারা হবে না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ।
তিনি বলেন, "পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই বর্ষে সাত কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে, যা আগামী দু'বছর ধরে রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে যাতে গাছগুলো লাগানো আর ছবি তোলার মধ্যে দিয়েই নিজেদের দায়িত্ব শেষ না হয়ে যায় ।" আগামী 14 থেকে 20 জুলাই রাজ্যজুড়ে অরণ্য সপ্তাহ পালিত হবে । সেই কর্মসূচিতে সকলকে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েই এ দিনের বক্তব্য শেষ করেন মুখ্যমন্ত্রী ।

