ETV Bharat / state

'সংখ্যালঘু ভোটারদের একজোট হতে হবে', 'বাবরি মসজিদ' শিলান্যাস অনুষ্ঠানে বার্তা হুমায়ুনের

মাথায় ইট নিয়ে 'বাবরি মসজিদ' নির্মাণের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের অনুষ্ঠানে এলাকায় ভিড় জমান বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষ ৷

BABRI MASJID IN MURSHIDABAD
বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা হুমায়ুন কবীর (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : December 6, 2025 at 12:02 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

বেলডাঙা, 6 ডিসেম্বর: সংখ্যালঘু ভোটারদের একজোট হয়ে লড়াই করতে হবে ৷ শনিবার বেলডাঙায় পৌঁছে এমনই হুঁশিয়ারি দিলেন ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর ৷ এদিন দুপুরেই বেলডাঙা ও রেজিনগর সংলগ্ন এলাকায় 'বাবরি মসজিদ' নির্মাণের শিলান্যাস করবেন বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা ৷

অনুষ্ঠান শুরুর আগে সভাস্থলে পৌঁছে হুঁশিয়ারির সুরে হুমায়ুন বলেন, "বাংলায় 2 কোটি 82 লক্ষ 533 মুসলিম ভোটার রয়েছেন ৷ 90টি আসনে সংখ্যালঘু ভোট নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে ৷ প্রতিটি আসনেই আমাদের সংখ্যালঘু প্রতিনিধিদের জয়ী করতে হবে ৷ রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোটারদের একজোট হয়ে লড়াই করতে হবে ৷" সেই সঙ্গে হুঙ্কার দিয়ে হুমায়ুন বলেন, "মসজিদ চত্বরে 25 বিঘা জমির উপর হাসপাতাল এবং বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা হবে ৷ মসজিদ তৈরির জন্য টাকার কোনও অভাব হবে না ৷ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সংস্থা মসজিদ নির্মাণের জন্য 80 কোটি টাকা দেবে ৷"

বাবরি মসজিদ শিলান্যাস উপলক্ষে মানুষের ঢল (ইটিভি ভারত)

শিলান্যাস অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এলাকায় এদিন সকাল থেকেই উপচে পড়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষের ঢল ৷ মাথায় ইট নিয়ে তাঁরা হাজির হয়েছেন বেলডাঙা 1 নম্বর ব্লকের ছেতিয়ানি মরাদিঘিতে ৷ হুমায়ুন জানান, দুপুর 12টা থেকে কোরান পাঠের মাধ্যমেই মসজিদের শিলান্যাস করা হবে ৷ এদিন সকাল থেকে ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানের ভিড় জমাতে শুরু করেন হুমায়ুন অনুগামীরা ৷

শুক্রবার সন্ধ্যায় হরিহরপাড়া ও রেজিনগর থানার দুই ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক হুমায়ুনের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন । এরপরই এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী ৷ রাতে এলাকায় রুট-মার্চ করে বাহিনী । নিরাপত্তা রক্ষায় রয়েছেন 250 জন ব়্যাফ, 100 জন কনস্টেবল এবং একাধিক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আধিকারিক ৷ জেলা পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সমস্তরকম ব্যবস্থা রাখা হয়েছে ।

হুমায়ুন কবীর ও এলাকার ইমাম, মহজ্জেম, আলেমদের বাগে আনতে শুক্রবার রাতে সার্কিট হাউসে সাংবাদিক বৈঠক করেন রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী । হুমায়ুনের নাম না-করে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী বলেন, "ওনার সঙ্গে দলের একটা দূরত্ব তৈরি হচ্ছিল । আজ তা এই জায়গায় পৌঁছেছে । এতে দলেরই ক্ষতি হচ্ছে । দলের আগেই ভাবা উচিত ছিল । তাহলে এই পরিস্থিতি হত না । আমি আলেমদের বলব, গা ভাসিয়ে দেবেন না । কেউ দাওয়াত( নিমন্ত্রণ) করতে পারেন । কিন্তু আপনারা মুসলিম ধর্ম মেনেই কাজ করবেন ৷" যুবসমাজকেও না-যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি ৷ তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিধায়ককে কার্যত বাগে আনতে এবং মসজিদ নির্মাণ থেকে সরিয়ে আনতেই সিদ্দিকুল্লাকে পাঠানো হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত ।

অযোধ্যায় রাম মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে ভক্তরা যেমন ইট নিয়ে এসেছিলেন । হুমায়ুনের প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদের শিলান্যাসেও একইভাবে মানুষ ইট নিয়ে হাজির হন কয়েকশো মানুষ । শনিবার সকাল থেকেই ইট আনার হিড়িক পড়ে যায় ।

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ তৈরি করার কথা জানিয়েছিলেন ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবির ৷ আজ অর্থাৎ 6 ডিসেম্বর রেজিনগরে মসজিদ নির্মাণের শিলান্যাস করবেন তিনি ৷ তবে এই বিতর্কে 4 ডিসেম্বর অর্থাৎ গত বৃহস্পতিবার হুমায়ুন কবিরকে দল থেকে সাসপেন্ড করে তৃণমূল ৷

পড়ুন: বাবরি মসজিদের শিলান্যাস নিয়ে অনড় হুমায়ুন! 17 ডিসেম্বর ইস্তফা দেবেন বিধায়ক পদে