200 বছরের পুরনো হেরিটেজ ভবনে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল! গৃহীত হবে যাবে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড
বৃহস্পতিবার ওই হাসপাতালের উদ্বোধনে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম-সহ একাধিক মন্ত্রী ও সাংসদ-বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন৷

Published : February 26, 2026 at 9:11 PM IST
কলকাতা, 26 ফেব্রুয়ারি: প্রায় 200 বছরের পুরনো গ্রেড 1 তালিকাভুক্ত হেরিটেজ ভবনে পশ্চিমবঙ্গে প্রথম বেসরকারি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল চালু করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের হাত ধরে আনুষ্ঠানিক ভাবে তা চালু করা হয়। পূর্বে এই হাসপাতাল লোহিয়া মাতৃ সেবা সদন নামে পরিচিত ছিল। আজকের উদ্বোধনের মাধ্যমে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে বলা চলে। সংরক্ষিত ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য এবং অত্যাধুনিক চিকিৎসা পরিকাঠামোর মধ্যে 250 শয্যার সুপার স্পেশালিটি সুবিধা রাখা হয়েছে।
হাসপাতাল উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী শশী পাঁজা, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সুজিত বোস, সাংসদ দোলা সেন, বিধায়ক বিবেক গুপ্তা ছাড়াও স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা৷

কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম হাসপাতাল ঘুরে দেখেন। তিনি বলেন, "এই হাসপাতাল তৈরির আগে কর্তৃপক্ষ অনুমতি নিতে গিয়েছিল৷ তাদের আমি দু’টো প্রস্তাব রেখেছিলাম। এক, হেরিটেজ ভবনে সুরক্ষা বজায় রাখতে হবে। দুই, স্বাস্থ্য সাথী কার্ডে চিকিৎসা পরিষেবার ব্যবস্থা রাখতে হবে। কর্তৃপক্ষ দুটোই মেনে নিয়েছে। হাতের নাগালের মধ্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়া উচিত। বিশেষ করে শহরের মানুষের। তাই আমরা স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে যারা এগিয়ে আসে, তাদের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেব।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘ঠিক তেমনই অন্যান্য শিল্পে যেমন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয় স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও অনেক কর্মসংস্থান। বরং তুলনামূলক স্থানীয় যুবক-যুবতীরা স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বেশি কাজে সুযোগ পান। এই হেরিটেজ হাসপাতালে স্বাস্থ্য সাথী কার্ডে চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যাবে।"
রাজ্যের অর্থমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, "বেসরকারি সংস্থা সরকারি সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কাজ করছে বলেই বাংলার এত উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে। বাংলার পথপ্রদর্শক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বে বাংলা স্বাস্থ্য, শিল্প সব দিক থেকে এগিয়ে চলেছে। তাছাড়া আজকের এই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের ভিত ভুলে যায়নি। এই কারণেই হেরিটেজকে বজায় রেখে সুন্দর করে আধুনিক প্রযুক্তির চিকিৎসা পরিষেবার ব্যবস্থা করেছে।"

মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, "উত্তর কলকাতায় নতুন ইতিহাস তৈরি হল। উত্তর কলকাতার মানুষ তো বটেই দক্ষিণ কলকাতার পাতার বাইরের অংশের মানুষও এখন উত্তর কলকাতা চিকিৎসা পরিষেবা নিতে পারবে। এর থেকে ভালো আর কী হতে পারে।"
মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ এবং সংসদ দোলা সেন কার্যত একই ধরনের বক্তব্য রাখেন। উন্নতমানের চিকিৎসা পরিষেবা যাতে গরিব মানুষ পান, তাঁরা সেই বিষয়টি সুনিশ্চিত করার দাবি রাখেন কর্তৃপক্ষের কাছে। হাসপাতালের এমডি প্রশান্ত শর্মা নেতা-মন্ত্রীদের আহব্বানে সাড়া দিয়েছেন। স্বাস্থ্য সাথী কার্ড কিংবা গরিব মানুষের চিকিৎসা পাওয়া যাবে বলে আশ্বস্ত করেছেন।

প্রায় চার বিঘা জমি জুড়ে বিস্তৃত, চার্নক লোহিয়া হাসপাতালটিতে আধুনিক সুপার স্পেশালিটি স্বাস্থ্যসেবা সুবিধায় সাজানো হয়েছে। 250 কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করেছেন কর্তৃপক্ষ। এক হাজার জনের বেশি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে বলে জানিয়েছে তারা। গিরিশ পার্ক মেট্রো স্টেশন থেকে 500 মিটার দূরে অবস্থিত এই হাসপাতালটিতে বড়বাজার, জোড়াসাঁকো, নিমতলা ঘাট স্ট্রিট এবং বিবেকানন্দ রোডের সহজে যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। একাধিক প্রবেশ পথ, পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা-সহ কলকাতার ঘনবসতিপূর্ণ কেন্দ্রীয় ব্যবসায়িক এলাকায় উচ্চমানের তৃতীয় স্তরের চিকিৎসা পরিষেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
চার্নক লোহিয়া হাসপাতালে বিশ্বমানের পরিকাঠামো রয়েছে। টারশিয়ারি এবং ক্রিটিক্যাল কেয়ার পরিষেবা প্রদানের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। 250 শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালে 90টিরও বেশি ওয়ার্ড শয্যা এবং 20টি ব্যক্তিগত কেবিন রয়েছে। একাধিক ক্রিটিক্যাল কেয়ার, স্পেশালিটিতে 70টি আইসিইউ শয্যা রয়েছে। হাসপাতালটি 4-6টি অত্যাধুনিক মডুলার অপারেশন থিয়েটার রয়েছে। ডেডিকেটেড ক্যাথ ল্যাব, সিটিভিএস এবং নিউরো অপারেশন থিয়েটার, 10 শয্যা বিশিষ্ট জরুরি বিভাগ এবং 10 শয্যা বিশিষ্ট ডায়ালিসিস ইউনিট রয়েছে।

চার্নক হাসপাতালের এমডি প্রশান্ত শর্মা বলেন, "বঙ্গজুড়ে প্রচুর সম্ভাবনাময় বেশ কিছু ঐতিহাসিক সম্পত্তি এখনও অব্যবহৃত রয়ে গিয়েছে। চার্নক লোহিয়া হাসপাতালের মাধ্যমে আমরা প্রমাণ করেছি যে ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নির্বিঘ্নে সহাবস্থান হতে পারে। মধ্য কলকাতা, বিশেষ করে বড়বাজার এবং এর আশেপাশের এলাকাগুলি দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রাণবন্ত বাণিজ্যিক কেন্দ্র ছিল। কিন্তু পাঁচ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে একটি আধুনিক বেসরকারি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের অভাব ছিল। চার্নক লোহিয়া হাসপাতাল চালু হওয়ার মাধ্যমে, আমরা এই গুরুত্বপূর্ণ ব্যবধান পূরণ করছি।’’

