তিনদিনের মধ্যে ফের উত্তপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, কানের পর্দা ফেটে হাসপাতালে ছাত্র
আবারও অশান্তি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ৷ শুক্রবার শিক্ষক নিগ্রহের পর সোমে দুই দলের মধ্যে ফের ঝামেলা । কালেক্টিভ সংগঠন-এসএফআইয়ের সংঘর্ষে কানের পর্দা ফাটল পড়ুয়ার ৷

Published : February 24, 2026 at 10:33 AM IST
কলকাতা, 24 ফেব্রুয়ারি: ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর । শুক্রে শিক্ষক নিগ্রহের ঘটনার পর সোমবার সন্ধ্যায় আবারও দু'টি ছাত্রগোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা সামনে এল । কালেক্টিভ সংগঠন ও এসএফআইয়ের সমর্থকদের মধ্যে বচসা থেকে হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয় । এই ঘটনায় স্নাতকোত্তর ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র প্রিয়ম চট্টোপাধ্যায় গুরুতর আহত হন । তাঁর কানের পর্দা ফেটে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে এবং বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার (20 ফেব্রুয়ারি) শিক্ষকদের উপর হামলার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন প্রিয়ম । সেই সময় তিনি আক্রান্ত শিক্ষকদের উদ্ধার করার চেষ্টা করেছিলেন । এসএফআইয়ের অভিযোগ, সেই ঘটনার জেরেই সোমবার তাঁকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় । অভিযোগ, 10 থেকে 12 জনের একটি দল তাঁকে ঘিরে মারধর করে । কানে আঘাত লাগায় তিনি মাটিতে পড়ে গিয়ে জ্ঞান হারান ৷ অধ্যাপকরা তড়িঘড়ি অচৈতন্য অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন ৷ প্রিয়ম এখন কেপিসি মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন ৷
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এসএফআইয়ের আঞ্চলিক কমিটির সহ-সম্পাদক কৌশিকী ভট্টাচার্য জানান, শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানোর কারণেই প্রিয়মকে নিশানা করা হয়েছে । হামলায় তাঁর কানে গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং তিনি এখন চিকিৎসাধীন ।

এদিকে, 20 ফেব্রুয়ারি অধ্যাপক নিগ্রহের ঘটনায় অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি তুলেছেন শিক্ষকদের একাংশ । দাবি পূরণ না-হলে তাঁরা কর্মবিরতি পালন করবেন বলেও জানিয়েছেন । এই আবহে সোমবার সকালেই কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ । গড়া হয়েছে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি । 20 ফেব্রুয়ারি যাদবপুরে ক্যাম্পাসে দুই শিক্ষক নিগ্রহের ঘটনার জেরে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে যাদবপুর কর্তৃপক্ষ । ওই দিন ছাত্রদের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে আক্রান্ত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন অধ্যাপক ।
ঘটনাকে ঘিরে উদ্বেগের সৃষ্টি হওয়ায় উপাচার্যের নির্দেশে একটি অনুসন্ধান কমিটি তৈরি করা হয়েছে । বিশ্ববিদ্যালয় একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, ঘটনার কারণ নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করার লক্ষ্যে কমিটিকে দ্রুত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে ৷ তদন্ত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে আইএসআই কলকাতার প্রাক্তন অধিকর্তা অধ্যাপক বিমল রায়কে । সদস্য হিসেবে রয়েছেন সিবিপিবিইউ-র প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক শ্যামল রায়, বোস ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক শম্পা দাস এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক অমিতাভ দত্ত, যিনি সমন্বয়কারীর দায়িত্বও পালন করবেন ।
প্রেজেন্টিং অফিসার হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার ড. আবুল হাসনাথ । বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে সংশ্লিষ্ট সকলকে তদন্ত প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে । পাশাপাশি, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কোনও লিখিত বক্তব্য বা তথ্য থাকলে তা সিল করা খামে প্রেজেন্টিং অফিসারের কাছে আগামী 27 ফেব্রুয়ারির মধ্যে জমা দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে ।

