ETV Bharat / state

রঙের উচ্ছ্বাসে কড়া নজরদারি! দোল–হোলিতে শহরজুড়ে গ্রেফতার 330

বিশেষ নজর ছিল গঙ্গার ঘাটগুলিতে, রং মেখে বা মত্ত অবস্থায় কেউ যাতে জলে না নামেন, সেজন্য শহরের 66টি ঘাটে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয় ।

Police
দোল–হোলিতে কড়া নজরদারি (নিজস্ব চিত্র)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : March 4, 2026 at 6:52 PM IST

2 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 4 মার্চ: রঙের উৎসবের আনন্দে যাতে একফোঁটা কালিমা না লাগে, সে জন্য দোলের পর হোলির দিনও কার্যত নিরাপত্তার চাদরে মোড়া রইল মহানগর । সকাল থেকে রাত — শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, পাড়া-গলি, এমনকি গঙ্গার ঘাট — সর্বত্র কড়া নজরদারি ছিল পুলিশের৷ তবু উৎসবের আবহে অভব্য আচরণ, জোর করে রং মাখানো বা মত্ত অবস্থায় গোলমালের অভিযোগে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মোট 330 জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে । পাশাপাশি বেআইনি মদের বিরুদ্ধে অভিযানে 25 লিটার মদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর ।

মঙ্গলবার ভোর থেকেই রাস্তায় নেমে পড়ে কলকাতা পুলিশ । প্রায় 400টি পুলিশ পিকেট বসানো হয় শহরজুড়ে । এর মধ্যে 86টি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ পিকেটে ছয়জন করে পুলিশ আধিকারিক ও কর্মী মোতায়েন ছিলেন । বাকি 312টি স্থানে তিনজন করে পুলিশকর্মী দায়িত্বে ছিলেন । শুধু সংখ্যায় নয়, নজরদারির কড়াকড়িতেও ছিল আলাদা জোর । যুগ্ম পুলিশ কমিশনার ও ডিসি পদমর্যাদার আধিকারিকরাও রাস্তায় নেমে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন ।

police
পুলিশের নজরদারি (নিজস্ব চিত্র)

শহরের বিভিন্ন প্রান্তে টহল দেয় 62টি পিসিআর ভ্যান ও কুইক রেসপন্স টিম । প্রতিটি থানার অধীন সরু ও ঘিঞ্জি রাস্তায় বাইক টহলের ব্যবস্থাও রাখা হয়, যাতে কোনও অভিযোগ উঠলেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারে বাহিনী । সব থানাকে আগাম সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল, যে রং খেলার আড়ালে অসভ্যতা বা শ্লীলতাহানির মতো ঘটনা সামনে এলে কোনও ছাড় নেই ।

বিশেষ নজর ছিল গঙ্গার ঘাট ও জলাশয়গুলিতে । রং মেখে বা মত্ত অবস্থায় কেউ যাতে জলে না-নামেন, সে জন্য শহরের 66টি ঘাটে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয় । অন্তত 24টি ঘাটে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ (ডিএমজি) টিম রাখা হয়েছিল । পাশাপাশি শহরের দশটি ডিভিশনে একটি করে ডিএমজি দল প্রস্তুত রাখা হয় জরুরি পরিস্থিতি সামলাতে ।

বহুতলের ছাদ বা বারান্দা থেকে পথচারীদের দিকে রং কিংবা জলভর্তি বেলুন ছোড়া রুখতেও কড়া নজরদারি ছিল । পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, জোর করে রং দেওয়া, মত্ত অবস্থায় মহিলাদের সঙ্গে অসভ্যতার অভিযোগ এলেই তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে । গ্রেফতার হওয়া 330 জনের অধিকাংশই এই ধরনের অভিযোগে ধরা পড়েছেন ।

তবে কড়াকড়ির মধ্যেও উৎসবের আনন্দে ভাটা পড়েনি বলেই দাবি প্রশাসনের । অধিকাংশ জায়গাতেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দোল ও হোলি উদযাপন হয়েছে । কোথাও গোলমালের খবর এলেই দ্রুত হস্তক্ষেপ করেছে পুলিশ । প্রশাসনের দাবি, সক্রিয় নজরদারি ও দ্রুত পদক্ষেপের ফলেই বড় ধরনের কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো গিয়েছে ।

আরও পড়ুন: