লাগাতার বাবা-দাদুর লালসার শিকার কিশোরী ! সব জেনেও মুখে কুলুপ মায়ের
স্কুলের শিক্ষিকাদের তৎপরতায় সমস্ত বিষয়টি সামনে আসে ৷ পুলিশ নাবালিকার মা-সহ অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে ৷

Published : July 9, 2026 at 5:10 PM IST
হাবরা, 9 জুলাই: বাবা ও দাদুর লাগাতার লালসার শিকার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী । সব জেনেও নীরব ছিলেন মা । অবশেষে স্কুলের শিক্ষিকার তৎপরতায় গ্রেফতার কীর্তিমান বাবা ও দাদু । মাকেও শ্রীঘরে পাঠাল পুলিশ । বুধবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর 24 পরগনা জেলার হাবরায় । বৃহস্পতিবার ধৃত তিনজনকে বারাসত আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ ।
বারাসত পুলিশ জেলার এক পদস্থ আধিকারিক বলেন, "স্কুলের পক্ষ থেকে সৎ দাদু ও সৎ বাবার বিরুদ্ধে ছাত্রীকে লাগাতার যৌন নির্যাতনের লিখিত অভিযোগ হয়েছে । সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে অভিযুক্ত দু'জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে । তদন্ত প্রক্রিয়ায় আমরা জানতে পেরেছি, মায়ের নীরবতাও ওই কিশোরী নির্যাতিত হওয়ার অন্যতম কারণ । তাই মাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে ।"

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক বছর আগে ওই কিশোরীর মায়ের সঙ্গে বাবার বিচ্ছেদ হয়ে যায় । মা আবার বিয়ে করেন । মেয়েকে নিয়ে মা নতুন স্বামীর বাড়িতেই থাকতেন । ওই কিশোরী হাবরার একটি নামী স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে । গত কয়েক দিন ধরে স্কুলের শিক্ষিকারা লক্ষ্য করেন, ওই কিশোরী স্কুলে কেমন যেন মনমরা হয়ে থাকছে । শিক্ষিকারা বিষয়টি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকাকে জানান । প্রধান শিক্ষিকা শ্রেণি শিক্ষিকাকে ওই কিশোরীর সঙ্গে কথা বলতে নির্দেশ দেন ।
বুধবার স্কুলে ওই কিশোরী একটি ফাঁকা ঘরে চুপচাপ মাথা নিচু করে বসেছিল । শ্রেণি শিক্ষিকা তখন তাকে ডেকে নিভৃতে কথা বলেন । শ্রেণি শিক্ষিকার সামনে ওই কিশোরী কেঁদে ফেলে । সে জানায়, সৎ বাবা ও সৎ দাদু দু'বছর ধরে তার সঙ্গে জোর করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করছে । প্রথমে সৎ দাদু তার ওপর অত্যাচার করা শুরু করেছিলেন । পরে সৎ বাবাও তার ওপর অত্যাচার শুরু করেছেন । ওই কিশোরী শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে ।
শিক্ষিকা সমস্ত ঘটনা জানার পর হাবরা থানায় কল করেন । হাবরা থানার নবাগত ইন্সপেক্টর ইনচার্জ অভিজিৎ বিশ্বাস অভিযোগের গভীরতা বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে ওই স্কুলে যান । শিক্ষিকা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন । তারপরই পুলিশ হাবরার ওই এলাকা থেকে সৎ দাদু ও সৎ বাবাকে গ্রেফতার করেছে ।
দিনের পর দিন মেয়ের উপর অত্যাচার হলেও মা কেন চুপ করেছিলেন তা নিয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেন । পুলিশি জেরায় মা জানান, শ্বশুর ও স্বামীর কার্যকলাপের প্রতিবাদ করতে গেলে সংসার ভেঙে যাওয়ার ভয়ে তিনি নীরব ছিলেন । পুলিশ ওই কিশোরীর মাকেও গ্রেফতার করেছে । ধৃত সৎ বাবা ও সৎ দাদুকে রাতে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে । পুলিশের দাবি, জেরায় দু'জনেই তাঁদের কীর্তির কথা স্বীকার করে নিয়েছেন । ধৃত দু'জনকে বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ বারাসত আদালতে পাঠিয়েছে । তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার স্বার্থে পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতের কাছে সাতদিনের হেফাজত চাওয়া হয়েছে ।
বারুইপুরে নাবালিকার যৌন নির্যাতন ও খুনের ঘটনায় ইতিমধ্যে রাজ্যজুড়ে তোলপাড় চলছে । জনরোষে গণপিটুনিতে সন্দেহভাজন এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে । অপরাধের পুনর্নির্মাণের সময় পালানোর চেষ্টা করতে গিয়ে এনকাউন্টারের মৃত্যু হয়েছে আরও একজনের । বারুইপুরের ঘটনাকে ঘিরে যখন উত্তপ্ত গোটা রাজ্য, ঠিক তখন হাবরায় দাদু ও বাবার লালসার শিকার হল অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী । স্কুলের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত বাবা ও দাদুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করা হয়েছে ।

