ETV Bharat / state

'মেসি' কাণ্ডে তদন্তের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, সিটের স্ক্যানারে মন্ত্রীরাও ! কড়া বার্তা নবান্নের

চারটি সাব-কমিটি এবং সিট-এর তদন্তের উপর ভিত্তি করে দ্বিতীয় রিপোর্ট জমা পড়বে মুখ্যমন্ত্রীর টেবিলে ৷ সিটের অনুমতি না-পাওয়া পর্যন্ত বন্ধ যুবভারতীর সংস্কার ৷

YUVA BHARATI INCIDENT
যুবভারতী-কাণ্ডে সিটের স্ক্যানারে রাজ্যের মন্ত্রী থেকে আমলা সকলেই ৷ (ফাইল ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : December 19, 2025 at 8:14 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 19 ডিসেম্বর: ​বিশ্বকাপজয়ী তারকা লিওনেল মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে যে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার সাক্ষী থেকেছে বাংলা, তা নিয়ে এবার আরও কড়া অবস্থান নিল রাজ্য প্রশাসন ৷ এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে আপাতত অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে অরূপ বিশ্বাসকে ৷ কিন্তু, এতেই কি সব দায় শেষ ? শুক্রবার নবান্ন সূত্রে যে ইঙ্গিত মিলল তাতে বলা হচ্ছে, তদন্ত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না-কেউই ৷

রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ মহল থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তদন্তের ঊর্ধ্বে কেউ নয় ৷ প্রশাসনিক তদন্তে প্রয়োজনে মন্ত্রীদের পাশাপাশি পুলিশের শীর্ষ কর্তা ও আমলাদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হবে ৷

​মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে অব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভের আঁচ পৌঁছায় সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে ৷ তড়িঘড়ি হস্তক্ষেপ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ তাঁর নির্দেশেই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীম রায়ের নেতৃত্বে গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি ৷ শুক্রবার নবান্ন সূত্রে খবর, এই কমিটি এবং তাদের সহযোগী সিট (SIT)-এর স্ক্যানারে থাকছেন একাধিক হাইপ্রোফাইল ব্যক্তি ৷

​সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, প্রশাসনিক গাফিলতির দায় খুঁজতে গিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশাসনের রথী-মহারথীদের শোকজ করা হয়েছে ৷ নবান্ন সূত্রে খবর, রাজ্য পুলিশের ডিজি (DG) রাজীব কুমার, বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার এবং রাজ্যের ক্রীড়া সচিবের মতো শীর্ষ আধিকারিকদের কাছে ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়ে আগেই শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছিল ৷

শুক্রবার প্রশাসনের তরফে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই তাঁদের শোকজের জবাব জমা দিয়েছেন ৷ তবে, শোকজের জবাবে এই শীর্ষ কর্তারা ঠিক কী লিখেছেন, তা নিয়ে এখনই মুখ খুলতে নারাজ নবান্ন ৷ এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, তদন্তের স্বার্থেই ডিজি, সিপি এবং ক্রীড়া সচিবের দেওয়া জবাব এখনই প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে না ৷ গোপনীয়তা বজায় রেখেই জমা পড়া জবাবের প্রতিটি শব্দ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে ৷

​অন্যদিকে, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীম রায়ের নেতৃত্বাধীন মূল কমিটি ইতিমধ্যেই তাঁদের প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিয়েছে ৷ তবে, তদন্ত এখনও শেষ হয়নি ৷ নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী 15 দিনের মধ্যে এই কমিটি তাদের দ্বিতীয় রিপোর্টটি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জমা দিতে চলেছে ৷ মূলত, চারটি সাব-কমিটি এবং সিট-এর তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতেই এই দ্বিতীয় রিপোর্ট তৈরি করা হবে ৷ তদন্তের স্বার্থে এবং আরও দ্রুত সত্য উদঘাটনের জন্য সিট-এ প্রয়োজনে আরও আধিকারিক নিয়োগ করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে ৷

​তবে, তদন্ত প্রক্রিয়ায় যাতে কোনও ফাঁক না-থাকে, সেজন্য সিট-কে কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা বা 'ডেডলাইন' বেঁধে দেওয়া হয়নি ৷ রাজ্য প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক স্পষ্ট করেছেন, এই তদন্ত প্রক্রিয়া 'টাইম বাউন্ড' না-হলেও, যত দ্রুত সম্ভব রিপোর্ট পেশ করার চেষ্টা চলছে ৷ তদন্তের স্বচ্ছতা বজায় রাখাই এখন প্রশাসনের পাখির চোখ বলে জানাচ্ছেন ওই আধিকারিক ৷

​এদিকে, বিশৃঙ্খলার জেরে স্টেডিয়ামের পরিকাঠামোর কী অবস্থা, তা নিয়েও চিন্তিত সরকার ৷ দর্শকদের হুড়োহুড়িতে স্টেডিয়ামের গেট, চেয়ার বা অন্যান্য সম্পত্তির কতটা ক্ষতি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে রাজ্যের পূর্ত দফতর ৷ তবে, এখনই মেরামতি বা পুনর্নির্মাণের কাজে হাত দেওয়া যাচ্ছে না ৷ সূত্রের খবর, সিট যতক্ষণ না-পর্যন্ত অনুমতি দিচ্ছে, ততক্ষণ সল্টলেক স্টেডিয়ামের পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করা যাবে না ৷ ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজ শেষ হলেই মিলবে সবুজ সংকেত ৷

​ভবিষ্যতে যাতে আন্তর্জাতিকমানের ইভেন্টে এমন বিশৃঙ্খলা না-ঘটে, সেদিকেও নজর দিচ্ছে রাজ্য ৷ নবান্ন সূত্রে খবর, এই ধরনের অনুষ্ঠানের জন্য রাজ্য সরকারের নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) বা নির্দেশিকা রয়েছে ৷ রিপোর্ট হাতে এলেই সেই এসওপি আরও উন্নত ও কঠোর করা হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে ৷