হাওড়া স্টেশনের বাইরে ভোলবদল ! এবার এক ছাতার তলায় বাস-অটো-অ্যাপ ক্যাব
হাওড়া স্টেশনের বাইরে থাকা বাজার ও গঙ্গারঘাট সংস্কারের পরিকল্পনা ৷ তার আগে রাজ্য প্রশাসন, কেএমডিএ ও রেলের যৌথ পরিদর্শন ৷

Published : September 1, 2026 at 4:09 PM IST
হাওড়া, 1 সেপ্টেম্বর: হাওড়া স্টেশনকে কেন্দ্র করে থাকা গোটা পরিবহণ ব্যবস্থার চেহারা বদলানোর উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার ৷ শুধু বাস টার্মিনাসের সংস্কার নয়, স্টেশন সংলগ্ন এলাকা জুড়ে একটি সমন্বিত পরিবহণ কেন্দ্র তৈরি করার লক্ষ্য নিয়েছে প্রশাসন ৷ তার আগে সমগ্র এলাকা পরিদর্শন করলেন পুর ও নগরোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই, জেলাশাসক পি দিপাপ প্রিয়া-সহ রেল, কেএমডিএ, হাওড়া সিটি পুলিশ এবং পুরনিগমের আধিকারিকরা ৷
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, রেল, রাজ্য প্রশাসন, কেএমডিএ এবং হাওড়া পুরসভাকে নিয়ে একটি যৌথ টাস্ক ফোর্স তৈরি হবে ৷ স্টেশন চত্বরের সামগ্রিক পুনর্বিন্যাসের দায়িত্ব থাকবে তাদের উপর ৷ কারণ প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক যাত্রীর যাতায়াতের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বারে শুধু স্টেশন ভবন আধুনিক হলেই সমস্যা মিটবে না ৷ যাত্রী বেরোনোর পর বাস, অটো, অ্যাপ-ক্যাব, ট্যাক্সি এবং পার্কিং—সবকিছুকে একই পরিকল্পনার মধ্যে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে ৷
পরিকল্পনার প্রথম ধাপে স্টেশনের সাবওয়েগুলি পরিষ্কার করে উন্নত করা, শৌচাগার এবং নিকাশি ব্যবস্থার সংস্কার করা হবে ৷ হাওড়া, কলকাতা এবং দিঘাগামী বাস পরিষেবার পরিকাঠামোও নতুন করে সাজানোর কথা ভাবা হয়েছে ৷ বর্তমান বাস টার্মিনাসের পরিবর্তে, তৈরি হবে বড় বহুতল পরিবহণ কেন্দ্র ৷ একদম নিচের তলায় থাকবে বাস, অন্য স্তরে ট্যাক্সি ও অ্যাপ-ক্যাবের ব্যবস্থা রাখার ভাবনা রয়েছে ৷ আর যতদিন কাজ চলবে, ততদিন পরিবহণের অস্থায়ী ব্যবস্থা করবে প্রশাসন ৷
আর বহুতল পরিবহণ কেন্দ্র সংলগ্ল এলাকায় ভবিষ্যতে বাজার, শপিংমল, মাল্টিপ্লেক্স এবং পার্কিংয়ের সংস্থান করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের ৷ এ নিয়ে উমেশ রাই বলেন, "গত 50 বছরে হাওড়া স্টেশন চত্বরের কোনও উন্নতি হয়নি ৷ পশ্চিমবঙ্গে আসা মানুষের কাছে স্টেশনের বেহাল ছবি প্রথমে ধরা পড়ে ৷ আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে স্টেশন চত্বরের ভোল পাল্টে যাবে ৷ ট্রেন থেকে নেমে বেরিয়ে এলে যেন মনে হয় মুম্বইয়ে এসেছেন ৷"
স্টেশনের সামনের গঙ্গার পাড়কেও এই সামগ্রিক পরিকল্পনার অংশ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় 250 কোটি টাকা খরচে বর্তমান বাজারের জায়গায় ছ’তলা বিশ্বমানের মাছের বাজার তৈরির প্রস্তাব রয়েছে। প্রশাসনের দাবি, প্রকল্পটির ডিপিআর তৈরি হয়ে গিয়েছে। সেখানে আধুনিক প্যাকেজিং ও মাল ওঠানামার ব্যবস্থা, পার্কিং, ব্যবসায়ীদের থাকার জায়গা এবং কর্মীদের জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্র রাখার পরিকল্পনা রয়েছে ৷

হাওড়া শহরের নিকাশি সমস্যাকেও এই বৃহত্তর পরিকাঠামো পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে ৷ প্রায় 4700 কোটি টাকার নিকাশি মাস্টার প্ল্যানের কাজ আগামী বছরের জানুয়ারি মাস থেকে শুরু করার কথা ৷ পাঁচ বছরের মধ্যে তা শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে ৷ রাস্তা সংস্কারের ক্ষেত্রে পুজোর পরে দু’দফায় শহরের বিভিন্ন রাস্তার কাজ করার কথা জানিয়েছেন পুর ও নগরোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী ৷

