অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত 'বিতর্কিত' সিদ্ধান্ত স্থগিত, নেপথ্যে নির্বাচন ?
নয়া বিজ্ঞপ্তিতে 'নির্দিষ্ট সংস্থা'কে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মীদের ফাইল যাচাইয়ের কথা উল্লেখ ৷

Published : January 11, 2026 at 8:22 PM IST
কলকাতা, 11 জানুয়ারি: ভোটের আগে কি তাহলে নতুন কোন বিতর্ক না-হোক, এমনটাই চাইছে রাজ্য সরকার ? বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, আধিকারিক ও শিক্ষাকর্মীদের অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখায় এমনই প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষা ও প্রশাসনিক মহলে ৷ শুক্রবার শিক্ষা দফতরের তরফে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী 6 মাস বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মী-আধিকারিকদের পেনশন ও গ্র্যাচুয়িটি সংক্রান্ত বিষয়ে রাজ্য সরকার কোনও হস্তক্ষেপ করবে না ৷ ফলে 2026 সালের জুন মাস পর্যন্ত অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণের পূর্ণ দায়িত্ব থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির হাতেই ৷
এর আগে রাজ্য সরকার জানিয়েছিল, 1 অক্টোবরের পর (2025 সালে) জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড (জিপিএফ) প্রকল্পের আওতায় যাঁরা অবসর নিয়েছেন, তাঁরা সম্পূর্ণ নয়, শুধুমাত্র প্রভিশনাল অবসরকালীন সুবিধা পাবেন ৷ এই সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র প্রতিবাদ জানায় রাজ্যের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন ৷ কলকাতা, যাদবপুর, বর্ধমান, রবীন্দ্রভারতী-সহ মোট 18টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দেয় ৷
বলা হচ্ছে, শিক্ষক সংগঠনগুলির চাপের মুখেই অবস্থান বদল করল উচ্চশিক্ষা দফতর ৷ নতুন বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পেনশন ও গ্র্যাচুয়িটির ক্ষেত্রে জুন 2026 পর্যন্ত সরকার সরাসরি কোনও সিদ্ধান্ত নেবে না ৷ তবে, ওই সময়সীমার পর যাঁরা অবসর নেবেন, তাঁদের অবসর সংক্রান্ত সমস্ত নথি ছয় মাস আগে উচ্চশিক্ষা দফতরের কাছে পাঠাতে হবে ৷ সেই নথি একটি নির্দিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে যাচাই করে চূড়ান্ত আর্থিক সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য সরকার ৷
এ প্রসঙ্গে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সংগঠন জুটার সাধারণ সম্পাদক পার্থপ্রতিম রায় বলেন, "আমরা সরাসরি প্রশ্ন তুলেছিলাম—বিকাশ ভবনের কর্তারা দাবি করছেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধায় কাটছাঁট করা হচ্ছে ৷ তা হলে কী মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এই সিদ্ধান্ত চাইছেন ?"
উচ্চশিক্ষা দফতরের চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী কোনও শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী বা আধিকারিককে সম্পূর্ণ অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা পেতে হলে অন্তত 20 বছর চাকরি করা বাধ্যতামূলক ৷ কিন্তু, একাধিক ক্ষেত্রে তেরো থেকে চোদ্দো বছর চাকরি করার পর অনেককে পেনশন ও গ্র্যাচুয়িটির 100 শতাংশ সুবিধা দেওয়া হয়েছে ৷ সেই কারণেই নিয়মে পরিবর্তনের প্রয়োজন বলে দাবি সরকারের ৷
তবে, এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ শিক্ষক সংগঠনগুলি ৷ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি সনাতন চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, "বিশ্ববিদ্যালয়গুলি সরকারি বিধি মেনেই হিসাব করে ৷ সরকার যদি নিজে থেকে সেই হিসাব করতে চায়, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকারে হস্তক্ষেপ ৷ সমস্যা থাকলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেত ৷"

