ভস্মীভূত হওয়া জলদাপাড়ার হলং বাংলো ফের তৈরির অনুমোদন রাজ্যের
2024 সালের 18 জুন রাতে ভস্মীভূত হলং বাংলোতে৷ ঘণ্টাখানেকের মধ্য়ে বাংলোটি ভস্মীভূত হয়ে যায়৷ দেড় বছর পর এই বাংলো ফের তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হল৷

Published : December 5, 2025 at 5:43 PM IST
জলপাইগুড়ি, 5 ডিসেম্বর: আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যাওয়া জলদাপাড়ার হলং বাংলো ফের তৈরি করবে বন দফতর৷ সম্পূর্ণ কাঠের তৈরি এই বাংলোটি গত বছর 18 জুন পুড়ে যায়৷ প্রায় দেড় বছর ফের সেটিকে নতুন করে তৈরির উদ্যোগ শুরু হল৷
জলদাপাড়া বন্যপ্রাণী বিভাগের বিভাগীয় বনাধিকারিক প্রবীণ কাশোয়ান বলেন, ‘‘হলং বনবাংলোটি পুড়ে যাওয়ার পর আমরা সেটি নতুন তৈরি করার জন্য ডিটেইল প্রোজেক্ট রিপোর্ট (ডিপিআর) রাজ্য সরকারের কাছে জমা করি। রাজ্য সরকার ডিপিআর-এর অনুমোদন দিয়েছে।’’
1967 সালে হলং বাংলো তৈরি হয়৷ এর প্রধান আকর্ষণ ছিল কাঠের তৈরি কাঠামো৷ সেই কারণেই দেশ-বিদেশের পর্যটকরা ছুটে আসতেন এই বাংলোয়৷ এমনকী, যাঁরা থাকার জায়গা পেতেন না, তাঁরা শুধু ছবি তোলার জন্য জলদাপাড়ার এই বাংলোয় আসতেন৷ সেই বিষয়টিও নতুন করে তৈরির সময় মাথায় রাখছে বন দফতর৷
প্রবীণ কাশোয়ান বলেন, ‘‘আগের মতোই হলং বাংলো তৈরি করা হবে। কাঠের বাংলো তৈরি করা হবে। আগামী সপ্তাহেই টেন্ডার করা হবে। যত টুকু জায়গাতে বাংলোটি ছিল, তত টুকু জায়গাতেই তৈরি করা হবে।’’ তাছাড়া দেশের নেতা-মন্ত্রী থেকে শুরু করে স্বনামধন্য ব্যক্তিত্বদের স্মৃতি বিজরিত এই বাংলো। নতুন করে তৈরির সময় সেই ঐতিহ্যের বিষয়টিও বন দফতর মাথায় রাখবে বলে জানা গিয়েছে৷
গত বছর 18 জুন রাত 9টা নাগাদ হঠাৎই আগুন লেগে পুড়ে যায় জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের ঐতিহ্যবাহী হলং বন বাংলো। এটি ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই ভস্মীভূত হয়ে যায়। তার পর পর্যটকরা অনেকেই মুখ ফিরিয়েছেন জলদাপাড়া থেকে। পর্যটন ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে পর্যটকরা চাইছিলেন এই বাংলোটি তৈরি করা হোক নতুন করে।
আগুনে পুড়ে যাওয়ার পর রাজ্যের বন প্রতিমন্ত্রী (স্বাধীনদায়িত্ব প্রাপ্ত) বীরবাহা হাঁসদা জলদাপাড়া আসেন। বাংলোটি পুনরায় করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। অবশেষে বাংলোটি তৈরি হতে চলেছে। তাই পুনরায় হলং বাংলো তৈরির খবরে উচ্ছ্বসিত বন দফতর ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা। নতুন করে আশার আলো দেখছে পর্যটন মহল। পর্যটন ব্যবসায়ীরাও চাইছেন তাড়াতাড়ি বাংলোটি আগের মতো করেই তৈরি করে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হোক।
ডুয়ার্স ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক সঞ্জয় দাস বলেন, ‘‘আমাদের জন্য খুব ভালো খবর। সরকারের এটা একটা ভালো পদক্ষেপ। উত্তরবঙ্গের পর্যটনে জলদাপাড়া হলং বাংলো একটা মাইল স্টোন। রাজ্য সরকার পদক্ষেপ করেছে৷ আমরা খুব খুশি। ডুয়ার্সের পর্যটন হলং বাংলোর ওপর অনেকটাই নির্ভর করে। এখানে থাকা ও দেখার জন্য প্রচুর মানুষ আসেন। আমরা চাই খুব তাড়াতাড়ি বাংলোর কাজ শেষ করে ফের পর্যটকদের জন্য খুলে যাক হলং বাংলো।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘হলং বাংলোকে কেন্দ্র করে জলদাপাড়ায় প্রচুর পর্যটক এসে থাকেন। বাংলোটি পুড়ে যাওয়ার আগে এখানে বুকিং না-পেলেও ছবি তুলে পর্যটকরা আশ মেটাতেন। জলদাপাড়াতে এই বনবাংলোকে ঘিরেই পর্যটনের বিরাট একটা অংশ নির্ভর করত।’’ আবার সেই আগের পরিস্থিতি ফিরে আসবে বলে আশা করছেন পর্যটন ব্য়বসায়ীরা৷

