উত্তরবঙ্গে প্রথমবার আয়োজিত গজ উৎসব, হাতি-করিডোর সংরক্ষণে বছরভর কর্মসূচি
রাজ্যে বন দফতর ও ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্টের উদ্যোগে প্রথমবার আয়োজিত হল এই গজ উৎসব ৷ পশ্চিমবঙ্গের আগে আরও চারটি রাজ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ৷

Published : January 3, 2026 at 6:12 PM IST
দার্জিলিং, 3 জানুয়ারি: হাতি ও হাতির করিডোর সংরক্ষণে রাজ্যে প্রথমবার আয়োজিত হল গজ উৎসব । তামিলনাড়ু, কেরল, মেঘালয়, ওড়িশার পর এরাজ্যে হাতি সংরক্ষণ ও হাতি মানুষের সংঘাত এড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ।
ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া ও বন দফতরের যৌথ সহযোগিতায় এই কর্মসূচি শুরু হয় । সঙ্গে রয়েছে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, শিলিগুড়ি পুরনিগম, শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ, উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেল, জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ-সহ স্ন্যাপ ফাউন্ডেশন, স্পোর, এনডব্লুএ'র মতো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনরাও ।
গজ উৎসবে আমন্ত্রিতরা
শুক্রবার বিকেল থেকে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র ভানু মঞ্চে একটি কর্মশালা ও আলোচনা সভার মধ্যে দিয়ে ওই কর্মসূচি শুরু হয় । আগামী এক বছর ধরে রাজ্যের যেসব জেলায় হাতির বসবাস ও করিডোর রয়েছে, সেসব জায়গায় একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হবে । এদিনের ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়ার সহ-সভাপতি তথা চিফ কনজারভেটর সন্দীপ কুমার তিওয়ারি, রাজ্যের মুখ্য বনপাল বালা মুরুগান, কার্শিয়াং ফরেস্ট ডিভিশনের এডিএফও রাহুল মুখোপাধ্যায়, কাটিহার ডিভিশনের এডিআরএম অজয় সিং, প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর তথা স্ন্যাপ ফাউন্ডেশনের সম্পাদক কৌস্তভ চৌধুরী-সহ অন্যান্যরা ।

গজ উৎসবের লক্ষ্য
ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়ার সহ-সভাপতি সন্দীপ কুমার তিওয়ারি বলেন, "গজ উৎসবের মূল লক্ষ্যই হল গজ অর্থাৎ হাতিকে প্রচার অর্থাৎ মানুষের কাছাকাছি আনা । হাতির করিডোর রক্ষাই হল আমাদের মূল লক্ষ্য । এই জঙ্গলের করিডোরগুলো বেঁচে থাকলে হাতিও বেঁচে থাকবে । সে কারণে এবার এরাজ্যে যেসব জায়গায় হাতির করিডোর রয়েছে, সেসব জায়গায় সতর্কতামূলক প্রচার অভিযান, বন দফতরকে সঙ্গে নিয়ে হাতি মানুষ সংঘাত কমানোর উপর আমরা কাজ করব ।"

রাজ্যের মুখ্য বনপাল বালা মুরুগান বলেন, "এটা খুব ভালো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ডব্লুটিআইয়ের তরফে । বন দফতর সবরকমভাবে সাহায্য করবে ।" স্ন্যাপ ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম অর্ডিনেটর কৌস্তভ চৌধুরী বলেন, "শুধুমাত্র কর্মসূচি নিলে হবে না, সেগুলোকে বাস্তবায়িত করতে হবে । এক বছর ধরে প্রত্যেক করিডোর নিয়ে, প্রত্যেক স্টেক হোল্ডারদের নিয়ে কাজ করা হবে ।"

হাতি ও করিডরের খুঁটিনাটি
জানা গিয়েছে, উত্তরবঙ্গে হাতির সংখ্যা প্রায় 600টি । 2017 সালে হাতির সংখ্যা ছিল 448 টি । পাশাপাশি বর্তমানে দক্ষিণবঙ্গের হাতির সংখ্যা প্রায় 200টি । উত্তরবঙ্গে 14টি হাতির করিডোর রয়েছে এবং গোটা রাজ্যে 28টির মতো করিডোর রয়েছে । উত্তরবঙ্গের করিডোরগুলো ভৌগোলিকগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ । কারণ উত্তরবঙ্গের করিডোরগুলো নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের পাশাপাশি অসম ও সিকিম রাজ্যের একাংশের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ।

গত কয়েক বছরে এই করিডোরগুলো বিপন্ন হওয়ার মুখে চলে এসেছে । করিডোরগুলোর মধ্যে কোথাও সেনা ছাউনি, কোথাও সড়ক, রেললাইন অথবা মানুষের বসবাস গড়ে উঠেছে । করিডোরে বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় মানুষ ও হাতির সংঘাত চরমে উঠেছে । গত দু'বছরে দার্জিলিং জেলাতেই 15 জনের বেশি হাতির আক্রমণে মারা গিয়েছেন । প্রায় 250 একর চাষের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে । এইধরনের দুর্ঘটনা রুখতেই এবার গজ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে ।


