ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ স্বাস্থ্য় দফতরের, দেওয়া হল একগুচ্ছ পরামর্শ
প্রয়োজন হলে ফিভার ক্যাম্প করার নির্দেশও দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। এই ক্যাম্প সকাল 7টা থেকে রাত 9টা পর্যন্ত চালানোর কথা বলা হয়েছে।

Published : September 2, 2026 at 11:21 PM IST
কলকাতা, 2 সেপ্টেম্বর: রাজ্যে ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণ করতে বেশ কয়েকটি পরামর্শ দিল স্বাস্থ্য দফতর। ডেঙ্গি ও জ্বরের বাড়তে থাকা প্রবণতার জেরে এবার আরও জোরদার হচ্ছে নজরদারি। স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশ, বাড়ি বাড়ি গিয়ে জ্বরের রোগীর খোঁজ করবেন আশা কর্মীরা। 48 ঘণ্টার বেশি সময় ধরে জ্বর রয়েছে, এমন কোনও রোগীর সন্ধান মিললে তাঁর তথ্য এএনএম বা সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল অফিসারকে জানাতে হবে। পাশাপাশি, ওই রোগীকে ডেঙ্গি পরীক্ষার জন্য উৎসাহিত করার দায়িত্বও থাকবে আশা কর্মীদের। সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে বিনামূল্যে ডেঙ্গি পরীক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।
সরকারি পরীক্ষাকেন্দ্রের ঘাটতি রয়েছে এমন এলাকায় বেসরকারি ডায়াগনস্টিক ল্যাবগুলিকেও ডেঙ্গি পরীক্ষা বিনামূল্যে অথবা ভর্তুকিযুক্ত দরে করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে দফতরের তরফে। প্রয়োজনে রোটারি ইন্টারন্যাশনাল, লায়ন্স ক্লাব-সহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সাহায্য নেওয়ার কথাও ভাবছে প্রশাসন। আগামী 15 অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এই বিশেষ অভিযান। জোর দেওয়া হয়েছে সচেতনা বৃদ্ধিতেও

শুধু রোগী চিহ্নিত করার মধ্যেই থেমে থাকছে না স্বাস্থ্য দফতর। ডেঙ্গি আক্রান্ত রোগী চিহ্নিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং মশার আঁতুড়ঘর ধ্বংসের কাজ শুরু করতে হবে স্থানীয় প্রশাসনকে। পুরসভা এলাকায় আক্রান্তের বাড়ির আশপাশে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নজরদারি, লার্ভিসাইড প্রয়োগ, থার্মাল ফগিং এবং পরিচ্ছন্নতার কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের আক্রান্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ফলো-আপ ও পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থাও করতে হবে।
জ্বরের প্রকোপ বা ডেঙ্গির হটস্পট তৈরি হলে জেলা, ব্লক এবং পুরসভা এলাকায় ফিভার ক্যাম্প করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এই ক্যাম্প সকাল 7টা থেকে রাত 9টা পর্যন্ত চালানোর কথা বলা হয়েছে। সেখানে মেডিক্যাল অফিসার, নার্সিং কর্মী, ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান-সহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর্মী থাকবেন। ক্যাম্পে আসা প্রত্যেক জ্বরের রোগীর নাম, ঠিকানা ও যোগাযোগের নম্বর নথিভুক্ত করতে হবে। ম্যালেরিয়ার জন্য দ্রুত পরীক্ষার পাশাপাশি ডেঙ্গির NS1 বা IgM পরীক্ষার জন্য রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হবে। নমুনা একই দিনে পরীক্ষাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে এবং পরের দিন রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।
ডেঙ্গি ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীকে দ্রুত রিপোর্টটি জানাতে হবে। পাশাপাশি CBC, হেমাটোক্রিট ও প্লেটলেট কাউন্টের মতো রক্তের পরীক্ষাও করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্লেটলেটের মাত্রা 50 হাজারের নীচে নেমে গেলে স্লাইড পদ্ধতিতে তা ম্যানুয়ালি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। যাঁদের হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন, তাঁদের যথাযথ রেফারাল নোট দিয়ে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে পাঠাতে হবে। আর বাড়িতে চিকিৎসাধীন রোগীদের সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি কোনও বিপদসংকেত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দিতে হবে।

