যোগ্য চাকরিহারাদের জন্য শূন্যপদ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিলেন শিক্ষামন্ত্রী
সোমবার এই ইঙ্গিত দেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু৷ তিনি জানান, এই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও তাঁর আলোচনা হয়েছে৷

Published : November 17, 2025 at 6:38 PM IST
কলকাতা, 17 নভেম্বর: যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষকদের জন্য বাড়তে পারে আসন সংখ্যা। সোমবার সেই ইঙ্গিতই দিলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তিনি জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এই নিয়ে আলোচনা হয়েছে তাঁর। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী করা হবে পরবর্তী পদক্ষেপ৷
সোমবার তিনি বলেন, "প্রক্রিয়া শেষ হোক। আমার সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর শূন্যপদ বানানো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু যতক্ষণ না পুরো প্রক্রিয়া শেষ হচ্ছে, এই নিয়ে আইনিভাবে কোনও কথা আমি বলব না৷ বলতে পারি না। এই নিয়ে মন্ত্রিসভা নিশ্চয় বিবেচনা করে দেখবে।"
উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে স্কুল সার্ভিস কমিশন নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে৷ লেখা পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর ইন্টারভিউয়ের জন্য যোগ্যদের তালিকাও বের হয়েছে গত শনিবার৷ তার পর থেকেই গোল বেঁধেছে ফের৷ নতুন পরীক্ষার্থীদের দাবি, পুরো নম্বর পেয়েও শুধুমাত্র অভিজ্ঞতার 10 নম্বর না-থাকায় তাঁরা বঞ্চিত হয়েছেন৷ আবার যোগ্য চাকরিহারাদের অনেকে ইন্টারভিউ-তে ডাক পাননি৷ তাঁদের দাবি, প্রায় 47 শতাংশ নতুন পরীক্ষার্থীদের ডাকা হয়েছে৷ ফলে যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও ডিসেম্বরের পর তাঁরা বেকার হতে চলেছেন৷
এই পরিস্থিতিতে সোমবার নতুন পরীক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে৷ করুণাময়ী থেকে বিকাশ ভবন অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন নতুন চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁরা শূন্যপদ বৃদ্ধি করার দাবি তুলেছেন৷ পাশাপাশি ওএমআর শিট প্রকাশ করার দাবিও তুলেছেন তাঁরা৷ সেই প্রেক্ষিতে শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ৷ যদিও নতুনদের প্রসঙ্গে ব্রাত্য বসু বলেন, "নতুনদের কাছ থেকে কোনোরকম আমরা কিছু পাইনি। এসএসসির কাছে জমা দিয়েছে কি না, তাও জানি না। যতক্ষণ না জানতে পারব, বলতে পারব না।"
এদিকে রায়গঞ্জের নীতিশরঞ্জন বর্মন এবার ফের ইন্টারভিউতে ডাক পেয়েছেন৷ তিনি বিশেষভাবে সক্ষম হলেও গতবার তাঁর নাম অযোগ্যদের তালিকায় ছিল৷ প্রশ্ন উঠেছে, একজন অযোগ্যকে কীভাবে আবার ইন্টারভিউতে ডাকা হল? এই প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, "এই নিয়ে আইনজীবীদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের কোনও ছাড় দেওয়া আছে কি না, সেটা আমরা আইনিভাবে খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।" শিক্ষামন্ত্রীর দাবি, ওই একজন ছাড়া আর কোনও অযোগ্যর নাম ইন্টারভিউ তালিকায় ওঠেনি। তবে ব্রাত্য এও জানান, নথি যাচাইয়ের সময় সবদিক খতিয়ে দেখা হবে।
এছাড়াও এক ব্যক্তি, যাঁর 1997 সালে জন্ম, তিনি অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে 10 নম্বর পেয়েছেন বলে অভিযোগ। এই নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন জমা পড়েছে। কিন্ডারগার্ডেন স্কুলে চাকরি করেছে, সেই অভিজ্ঞতা দিয়েছে। এই কারণেই এসএসসি ভেরিফিকেশনের জন্য ডেকেছে। সেখানে সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।" তবে এরকম ঘটনা তো একজনই মাত্র নজরে এসেছে বলেই জানান শিক্ষামন্ত্রী।

