এসএসসি'র ফল প্রকাশ হলেও নিয়োগ নিয়ে সংশয়
একাদশ-দ্বাদশের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশের উপর স্থগিতাদেশ দিল না আদালত ৷ তবে বিচারপতি জানিয়েছেন, প্রার্থীদের নিয়োগ নির্ভর করবে হাইকোর্টের পরবর্তী রায়ের উপর ৷

Published : November 7, 2025 at 6:54 PM IST
কলকাতা, 7 নভেম্বর: 2016 সালের একাদশ-দ্বাদশের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হলেও হাইকোর্টে দায়ের হওয়ার মামলার নির্দেশের উপর নির্ভর করবে এই ফলাফলের ভবিষ্যৎ। 5 বছরের বেশি পড়ানোর অভিজ্ঞতার জন্য স্কুল সার্ভিস কমিশন অতিরিক্ত 10 নম্বর দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। এই মামলার রায় কোন দিকে যায় তার উপর নিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে ৷
এ সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে শুক্রবার বিচারপতি অমৃতা সিনহা স্কুল সার্ভিস কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন, তারা ফল যেভাবে প্রকাশ করছে করুক তাতে আদালত বিধিনিষেধ আরোপ করছে না । তবে হাইকোর্টে দায়ের হওয়া মামলায় কী রায় হয়, তার উপর নির্ভর করবে নিয়োগের ভবিষ্যৎ।
আবেদনকারীর বক্তব্য ও আদালতের পর্যবেক্ষণ
সুপ্রিম কোর্ট চলতি বছরের 3 এপ্রিল 2016 সালের নিয়োগ হওয়া 26 হাজার প্রার্থীর চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি 31 ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন পরীক্ষা নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছিল। সেই মতো পরীক্ষা নেয় কমিশন। এদিন তার ফল প্রকাশ । কিন্তু অভিজ্ঞতার জন্য কেন 10 নম্বর দেওয়া হবে সেই প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয়েছে একাধিক মামলা। যাঁদের অভিজ্ঞতা নেই সেই ধরনের একাধিক প্রার্থী কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, তাঁরা পরীক্ষা দেওয়ার আগেই 10 নম্বর পিছিয়ে থাকছেন । বিচারপতি সব পক্ষকে হলফনামা দিয়ে নিজেদের বক্তব্য জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন।
12 নভেম্বর এই মামলার বিস্তারিত শুনানির পর আদালত নির্দেশ দেবে বলে জানিয়েছেন বিচারপতি। তিনি এদিন বলেন, "10 নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে একাধিক মামলার শুনানি চলছে। সেই জন্য পরীক্ষার যে ফলাফল ঘোষণা করা হচ্ছে তার ভবিষ্যৎ এই মামলার উপর নির্ভর করবে। "
একাধিক মামলাকারী কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে জানিয়েছেন, এক বছরের অভিজ্ঞতার জন্য 2 নম্বর করে বরাদ্দ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্কুল সার্ভিস কমিশন। সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতার জন্য 10 নম্বর দেওয়া হবে। এতে নতুন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ৷ তাঁদের মতে এটা সম্পূর্ণ আইন বিরোধী। আবার অন্য আরও একটি পক্ষের দাবি, প্রায় সমস্ত প্রার্থীরা বেসরকারি স্কুলে কর্মরত ৷ তাঁদেরকে অভিজ্ঞতার জন্য কোনও নম্বর দেওয়া হচ্ছে না কেন ?
এসএসসি ও রাজ্য কী বলছে ?
স্কুল সার্ভিস কমিশনের পক্ষের আইনজীবী বলেন, "এই মামলা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রত্যেক মামলাকারী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। তাঁরা পরীক্ষা দেওয়ার আগে থেকেই আইন সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। এখন তাঁরা 2025 সালে 30 মে পরীক্ষা বিষয়ক যে বিজ্ঞপ্তি বেরিয়েছিল তাঁকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করতে পারেন না।"
রাজ্যের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আবেদন করেন, এখন যেন কোনও অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের নির্দেশ না-দেওয়া হয়। তার কারণ এই মামলা শীর্ষ আদালতে বিচারাধীন এবং আগামী 24 নভেম্বর এই মামলার শুনানি রয়েছে সেখানে। সমস্ত পক্ষের বক্তব্য শোনার হাইকোর্ট জানায় 12 নভেম্বর ফের এই মামবার শুনানি।

