লালের পর সবুজ, শ্রীলঙ্কার বিরল প্রজাতির মাকড়সার দেখা মিলল কেশপুরে
লাল রঙের পর সবুজ মাকড়সা ৷ শ্রীলঙ্কার অলিওস মিলেটির প্রজাতির মাকড়সার দেখা পাওয়া গেল পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরের গ্রামে ৷

Published : January 7, 2026 at 8:04 PM IST
কেশপুর, 7 জানুয়ারি: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জীববৈচিত্র্য অনন্য ! লাল রঙের পর এবার সবুজ রঙের মাকড়সার দেখা মিলল কেশপুরে । তথ্য অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কার অলিওস মিলেটির (Olios Milleti) প্রজাতির এই মাকড়সা গাছের পাতায় মিশে থাকে ৷ রঙ সবুজ হওয়ায় সাধারণভাবে চোখে পড়ে না। সেই সুযোগে মধু খেতে আসা মৌমাছি, প্রজাপতিদের অতর্কিতে শিকার করে । সেই সঙ্গে, মশাও শিকার করে এরা । এমনকী, কখনও কখনও নিজের আকৃতির থেকে বড় শিকারকেও কাবু করে কামড়ে বিষ ঢেলে দেয় ।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জীববৈচিত্র্য অতি সমৃদ্ধ বলেই অনুমান গবেষকদের। রকমারি ওষধি গাছের পাশাপাশি রয়েছে রকমারি পতঙ্গ ও প্রাণি। আর সেই কারণে, বিভিন্ন এলাকা থেকে নতুন উদ্ভিদ যেমন আবিষ্কার হয় তেমনই নতুন প্রাণীরও সন্ধান পাওয়া যায় ।
2020 সালে পশ্চিম মেদিনীপুরে লাল মাকড়সার সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল ৷ এবার দেখা মিলল সবুজ মাকড়সার । কেশপুরের কলাগ্রামে শ্রীলঙ্কার বিশেষ এই প্রজাতির মাকড়সার দেখা পাওয়া গিয়েছে ৷ কেশপুরের কলাগ্রামে খুঁজে পেলেন অলিওস মিলেটি। জানা গিয়েছে, পোকা না-পেলে ফুলের রেনু, মধু দিয়েও পেট ভরায় বিরল প্রজাতির এই মাকড়সা ।

এই বিষয়ে কেশপুর সুকুমার সেনগুপ্ত মহাবিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক সুমন প্রতিহার বলেন, "অলিওস মিলেটি হল অলিওস গণের একটি প্রজাতি । ভারত ও শ্রীলঙ্কায় এই ধরনের মাকড়সার দেখা পাওয়া যায় । কিন্তু, পশ্চিম মেদিনীপুরে এর আগে কখনও এই ধরনের মাকড়সার দেখা পাওয়া যায়নি ।" অলিওস গণের সবুজ মাকড়সার সন্ধান পশ্চিম মেদিনীপুরের জীববৈচিত্রকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলেই আশাবাদী প্রাণিবিদ্যার এই অধ্যাপক ।
উল্লেখ্য, ভাদুতলার জঙ্গল লাগোয়া হরিনামারি থেকে সম্প্রতি লিভারওয়ার্ট প্রজাতির এক নতুন উদ্ভিদের আবিষ্কার করেন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা । নয়া প্রজাতির এই উদ্ভিদের নামকরণ করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের নামে ‘ফসমব্রোনিয়া বেঙ্গলিনেসিস’ বলে । আবার 2020 সালে মেদিনীপুর সদর ব্লকেরই নয়াগ্রামে কেশপুর সুকুমার সেনগুপ্ত মহাবিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক সুমন প্রতিহার ও স্নাতক দ্বিতীয় বছরের ছাত্র চন্দন দণ্ডপাট খুঁজে পেয়েছিলেন ‘মেগালোমর্ফ’ মাকড়সা । ‘ইডিয়পস’ গণের এই মাকড়সাও প্রথম আবিষ্কার হয় এখান থেকে । তাই তার মেদিনীপুরের নামে নাম রাখা হয় ‘ইডিয়পস মেদিনী’ । সেটি ছিল লাল রঙের ।
অধ্যাপক সুমন প্রতিহার জানান, মাটির ভেতর গর্ত খুঁড়ে বাসা তৈরি করে ‘ইডিয়পস’ গণের মাকড়সা । কেউ যাতে এদের উপস্থিতি টের না-পায় সেই জন্য গর্তের মুখ বন্ধ রাখে ছোট্ট একটি ঢাকনার মতো অংশ দিয়ে । তাই এদের ‘ট্র্যাপডোর স্পাইডার’ও বলা হয় । সুমনদের এই আবিষ্কার ‘ওয়ার্ল্ড স্পাইডার ক্যাটালগ’-এ নথিভুক্তও করা হয় । আবার সুমনেরই ছাত্র অভিজিৎ সেনাপতি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাতে যে এই মাকড়সার সন্ধান পেয়েছেন, সেটি জেলা জীব বৈচিত্রের ক্যাটালগে নথিভুক্ত করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি ।

