ফুল দিয়ে দোল, অন্যরকম বসন্ত উৎসবে 'রংবাজি' দৃষ্টিহীন কচিকাঁচাদের
এদের 'রংবাজি' ফুল দিয়ে ৷ লাইট হাউজ ফর দ্য ব্লাইন্ডের ফুল দোলের এক দশক পার ৷

Published : March 3, 2026 at 5:23 PM IST
পাপড়ি চট্টোপাধ্যায়
কলকাতা, 3 মার্চ: 'রাঙা হাসি রাশি রাশি অশোক পলাশে...' রবীন্দ্রসঙ্গীতের লাইনের সঙ্গে মিলে যায় ওদের জীবন ৷ ওদের কাছে পৃথিবীটা চিরতরে অন্ধকারে তলিয়ে গিয়েছে ৷ কিন্তু মুখে হাসি ও আনন্দের শেষ নেই ৷ তাই তো ওদের রঙের উৎসবটাও অন্যরকম ৷ রং দিয়ে নয়, ফুল দিয়ে উৎসব পালন করল দৃষ্টিহীন শিশু থেকে কিশোর-কিশোরীরা ।
মূলত বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, দোলের ক্ষতিকর কেমিক্যাল যুক্ত রং চোখে লেগে অনেকের চোখ আংশিক বা পুরোপুরিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে । কলকাতার রাসবিহারীর 'লাইট হাউজ ফর দ্য ব্লাইন্ড'-এও এমন বেশ কিছু খুদে রয়েছে যাদের চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রঙেই । তাই এখানের খুদেদের কাছে দোলের রং হল নানা বর্ণের ও গন্ধের ফুল । রং দিয়ে নয়, তারা খেলে 'ফুল দোল' ।
আজ থেকে 12 বছর আগে শারদীয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের উদ্যোগে যেই অনুষ্ঠান খুব ছোট আকারে শুরু হয়েছিল, সেই 'ফুল দোল' উৎসব দেখে উপচে পড়ে ভিড় । রং দিয়ে দোল খেললে এই শিশুদের চোখ থেকে শুরু করে শরীরের আরও ক্ষতি হতে পারে । তাই রঙের পরিবর্তে তাদের হাতে মিষ্টি গন্ধের ফুল তুলে দেওয়া হয় । আর প্রকৃতির শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি ফুল দিয়েই এ এক অন্যরকম হোলি খেলায় মেতে ওঠে তারা ।

এই দিনটার জন্য সারা বছর অপেক্ষা করে থাকে এইসব ছেলেমেয়েরা । ফুলে ফুলে ভরে ওঠে সারা স্কুল চত্বর । গাঁদা, চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া, গোলাপ জুঁই থেকে দোপাটি কী ফুল নেই সেই তালিকায় । রঙের বদলে একে অপরের গায়ে নানারকমের ফুল ছুঁড়ে হোলি খেলে এরা । হাসিতে মুখরিত হয় স্কুল চত্বর ৷ গান, আবৃত্তি ও নাচের মধ্যে দিয়ে এই দিনটায় বসন্তকে আহ্বান করে আবাসিকরা ।

শারদীয়ার ম্যানেজিং ট্রাস্টি সৌমনকুমার সাহা বলেন, "এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই কাজটা চালিয়ে যাচ্ছি আমরা । প্রথম বছর 20টা মালা ও তিন-চার কেজির মতো ফুল দিয়ে শুরু হয়েছিল এই উৎসব ৷ সেখানে আজ সেই ফুল দোল বিরাট আকার নিয়েছে । ভোর চারটে থেকে শুরু হয়ে যায় প্রস্তুতি পর্ব । প্রতিবার পরীক্ষার মধ্যে ফুল দোলটা পড়ে ৷ তবে এই বছর পরীক্ষা নেই ৷ তাই কচিকাঁচারা মন খুলে চিন্তাবিহীন হয়ে আনন্দ করতে পারছে ।"

এখনকার এই সহকারী শিক্ষক দিলীপ শাহু'র কথায়, "2020 সাল থেকে এই স্কুলের সঙ্গে যুক্ত রয়েছি । এটা একটা অসাধারণ অনুভূতি ৷ এটা ঠিক ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয় । যে না এখানে এসে নিজের চোখে দেখবে সে এই ফুল দোল উৎসবের ব্যাপকতা অনুভব করতেই পারবে না ।"

বারাসত থেকে খুদে রাজদীপ পাল এই প্রথমবার ফুল দোলে সামিল হয়েছে । একেবারে নতুন এক অভিজ্ঞতা তার জীবনের । চতুর্থ শ্রেণির এই শিশু নিজেকে কথায় ভালোভাবে প্রকাশ করতে না পারলেও নতুন বন্ধুদের সঙ্গে চেটেপুটে উপভোগ করেছে এই দিনটা । সে বলে, "খুব ভালো লেগেছে এখানে এসে ফুল দোল খেলে ৷"


