ব্রিটিশ সংসদ থেকে জাদুঘরের জাতীয় খেতাব এনেছিলেন শ্যামাপ্রসাদ : মিউজিয়ামের ডিরেক্টর সায়ন ভট্টাচার্য
সোমবার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের 125তম জন্মজয়ন্তীতে শেষ হল ‘শ্যামাপ্রসাদ পক্ষ’৷ সেই কারণে জাদুঘরে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল৷

Published : July 6, 2026 at 8:30 PM IST
কলকাতা, 6 জুলাই: শেষ হল ‘শ্যামাপ্রসাদ পক্ষ’। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় স্মরণে 23 জুন থেকে চালু হওয়া ধারাবাহিক কর্মসূচি সোমবার দিনভর বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে শেষ হয়েছে। তাঁর রাজনৈতিক দর্শন, মনন ও শিক্ষাক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের বিশদ বিবরণ আলোচিত হয়েছে।
একই সঙ্গে অনেক অজানা তথ্য সামনে আসতে শুরু করেছে। যেমন, তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হওয়ার আগে ভারতীয় জাদুঘরের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। শুধু তাই নয়, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় জাদুঘরের সঙ্গে যুক্ত থাকার সময়েই কলকাতা সংগ্রহশালার জাতীয় গুরুত্ব ব্রিটিশদের থেকে আদায় করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো সোমবার কলকাতার ভারতীয় জাদুঘরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তী উদযাপিত হয়। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য তথা বর্তমানে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুরঞ্জন দাস। ছিলেন প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের 30 জন পড়ুয়া। সেই মঞ্চেই কলকাতায় ভারতীয় যাদুঘরের ডিরেক্টর সায়ন ভট্টাচার্য শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে সংগ্রহশালার জড়িত থাকার ইতিহাস তুলে ধরলেন।

জাদুঘরের ডিরেক্টর সায়ন ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘এশিয়ার মধ্যে সব থেকে পুরনো সংগ্রহশালা হল কলকাতার ভারতীয় জাদুঘর। সেই জাদুঘরের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ছিলেন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হওয়ার তিন বছর আগে ট্রাস্টি হয়েছিলেন। 1931 সাল থেকে টানা সাত বছর সেই পদে ছিলেন। সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উনি ট্রাস্টি থাকাকালীন ব্রিটিশ পার্লামেন্ট থেকে কলকাতার ভারতীয় জাদুঘরের জন্যে জাতীয় গুরুত্বের খেতাব এনেছিলেন।’’

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাবা আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, ‘‘1914 সালে ভারতীয় জাদুঘরের 100 বছর উদযাপন করে। সেই সময় জাদুঘরের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন বাংলার বাঘ স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের নামে থাকা মিউজিয়াম ভারতীয় জাদুঘরের যৌথ সহযোগিতায় গড়ে ওঠে। ভারতীয় সংগ্রহশালায় সে কাজ ধারাবাহিক ভাবে চালিয়ে যাবে।’’

এদিকে, প্রায় 50 মিনিটের ভাষণে সুরঞ্জন দাস শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবনে আলোকপাত করেন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়-সহ ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নের রিপোর্ট তুলে ধরেন। সুরঞ্জন দাসের কথায়, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি ঔপনিবেশিক প্রতিষ্ঠান থেকে জাতীয়তাবাদী আধুনিকতার প্রতিফলনকারী একটি প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করার জন্য শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রচেষ্টার উপর আলোকপাত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রাথমিক সম্পৃক্ততা, 1934 থেকে 1938 সাল পর্যন্ত উপাচার্য হিসেবে শিক্ষা, প্রশাসন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপক সংস্কার হয়েছে।’’ তিনি ভারতীয় ভাষা, বিজ্ঞান, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং ছাত্রকল্যাণের প্রতি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অঙ্গীকারের উপর জোর দেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের চিঠি চালাচালির ইতিহাস স্মরণ করেন। কিংবা, নীলরতন সরকার থেকে তৎকালীন সময়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সম্পর্কে কী কী ভালো কথা বলেছিলেন, সেই তথ্য তুলে ধরেন।


