শুনানিতে হেনস্তা ! মগরাহাটে কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষকে ঘিরে বিক্ষোভ, গাড়িতে হামলা
বিক্ষোভের মধ্যেই মাইক্রো অবজার্ভারদের সঙ্গে কথা বলেন সি মুরুগান ৷ তিনি জানান, তিনি সব কাজ সেরে তবেই যাবেন ৷

Published : December 29, 2025 at 5:41 PM IST
মগরাহাট, 29 ডিসেম্বর: মগরাহাটে শুনানি কেন্দ্রে গিয়ে ভোটারদের একাংশের প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়লেন নির্বাচন কমিশনের বিশেষ রোল পর্যবেক্ষক সি মুরুগান ৷ এসআইআর প্রক্রিয়ার শুনানিতে ভোটারদের হেনস্তা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে তাঁর গাড়িতে হামলা চালালেন বিক্ষোভকারীরা ৷ ভেঙে দেওয়া হল গাড়ির দরজার হাতল ৷ এসআইআর না-করে 100 দিনের কাজের বকেয়া টাকাও দাবি করেন বিক্ষোভকারীরা ৷ তবে বিক্ষোভের মধ্যেই মাইক্রো অবজার্ভারদের সঙ্গে কথা বলেন মুরুগান ৷ তিনি জানিয়ে দেন, গণ্ডগোল হলেও তিনি সব কাজ সেরে তবেই যাবেন ৷
রাজ্যজুড়ে চলছে এসআইআরের শুনানিপর্ব । প্রতিদিন 'নো ম্যাপিং' ভোটারদের ডেকে তথ্য ও নথি সংগ্রহ করছে কমিশন । তবে অনেকেরই অভিযোগ, শুনানিপর্বে ভোটারদের নানা ঝক্কি সামলাতে হচ্ছে । ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে বয়স্কদের । সোমবার নির্বাচন কমিশনের স্পেশাল রোল অবজার্ভার সি মুরুগান এসআইআর-এর কাজ খতিয়ে দেখতে গিয়েছিলেন মগরাহাট সিরাকল হাইস্কুলে এসআইআরের শুনানি কেন্দ্রে ৷ তাঁকে দেখেই ক্ষোভ উগরে দেন শুনানিতে আসা ভোটারদের একাংশ ৷ মুরুগানকে ঘিরে ধরে তাঁরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন ৷ তাঁর গাড়ির উপর হামলা চালানো হয় ৷
বিক্ষোভকারীদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন মহিলা ৷ তাঁদের অভিযোগ, বাড়িতে বাড়িতে না-গিয়ে স্কুলে বসে এসআইআরের কাজ করা হচ্ছে । ডেকে পাঠানো হচ্ছে গ্রামবাসীদের । বহুক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে বয়স্কদের । কমিশন বিনা কারণে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করছে বলে অভিযোগ করা হয় ।
একইসঙ্গে এদিন উঠেছে 100 দিনের কাজের বকেয়া টাকা দেওয়ার দাবিও । মুরগানকে কাছে পেয়ে তাঁর কাছেই এই দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা । তাঁদের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার 100 দিনের কাজের টাকা বন্ধ করে দিয়েছে । অথচ এসআইআরের নামে তাঁদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে । কেন বিএলএ 2-দের হিয়ারিং সেন্টারের মধ্যে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিক্ষোভকারীরা ।

তবে এই বিক্ষোভের মাঝেই মাইক্রো অবজারভারদের সঙ্গে কথা বলতে থাকেন মুরুগান । তিনি জানতে চান, সমস্ত নথি ঠিকমতো খতিয়ে দেখা হচ্ছে কি না ৷ কোথাও কোনও সমস্যা হলে কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শও দেন তিনি । এরপর শুনানি কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসার সময়ে দক্ষিণ 24 পরগনার জেলা পরিষদের অধ্য়ক্ষ তথা তৃণমূল নেতা মুজিবর রহমানের নেতৃত্বে বিক্ষোভকারীরা আবার তাঁকে ঘিরে ধরে একই দাবি জানাতে থাকেন ।
কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক যদিও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানান, "আমি যা কাজ করতে এসেছি, সেই কাজ করে তবেই যাব ।" এমন বিক্ষোভের মুখে পড়ে তিনি নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন কি না, এই প্রশ্নের জবাবে মুরুগান বলেন, "আমি নিরাপত্তার অভাব বোধ করছি না । আমি আজ মগরাহাট এক নম্বর ব্লক এবং দু'নম্বর ব্লকের হিয়ারিং-এর কাজ সরজমিনে খতিয়ে দেখতে এসেছি ৷ দু'জায়গায় বাধার সম্মুখীন হয়েছি । প্রশাসন আছে ৷ প্রশাসন এই বিষয়টি দেখে নেবে ।"

প্রসঙ্গত, রবিবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিএলএ-2-দের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে তাঁদের শুনানি পর্বে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন । বিএলএ-2-দের কাজের প্রশংসা করে তিনি বলেন, "এখন যুদ্ধের সময়, এক ইঞ্চি জমিও ছাড়বেন না । হিংয়ারিংয়েও থাকবেন ।" কিন্তু কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, শুনানিতে থাকার কথা নয় বিএলএ-2 দের । সেখানে মাইক্রো অবজার্ভারদের থাকার কথা । কিন্তু শুনানিতেও গরমিল হতে পারে, সেই আশঙ্কা থেকেই অভিষেকের এই পরামর্শ । রবিবারের এই বৈঠকের পরই এদিন কোমর বেঁধে নেমে পড়েন তৃণমূল নেতা-কর্মীরা ৷ ডানকুনিতেও বিধায়ক অসিত মজুমদার একই দাবিতে শুনানি বন্ধ করে দেন । যদিও এই ঘটনার পরও কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, শুনানি কেন্দ্রে বিএলএ 2-রা থাকতে পারবেন না ।

