ভাড়া বাড়িতে সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র ! সরকারি নথির সঙ্গে মিল নেই বাস্তবের, উদাসীনতার অভিযোগ
সরকারি নথিতে কেন্দ্রটি 6 শয্যা থেকে উন্নীত হয়ে 20 শয্যার । কিন্তু বাস্তবে? পত্রা এলাকার একটি ভাড়াবাড়িতে মাত্র দু’টি শয্যা নিয়ে কোনওমতে চলছে পরিষেবা !

Published : March 1, 2026 at 3:36 PM IST
বংশীহারী , 01 মার্চ : দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারী ব্লকের পটরা অঞ্চলে মা ও শিশুর চিকিৎসা সেবার একমাত্র ভরসা শ্রীরামপুর সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র । অথচ সেই কেন্দ্রেরই একতলা নিজস্ব ভবনের নির্মাণ কাজ প্রায় দু’বছর ধরে বন্ধ । 2023 সালের শুরুতে যে কাজের সূচনা হয়েছিল, তা 2025 সালের শেষের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন ভবন দাঁড়িয়ে আছে আধাখানা স্বপ্নের মতো—নীরব, অচল !
সরকারি নথিতে কেন্দ্রটি 6 শয্যা থেকে উন্নীত হয়ে 20 শয্যার । কিন্তু বাস্তবে? পত্রা এলাকার বিশ্বনাথ সরকারের একটি ভাড়া বাড়িতে মাত্র দু’টি শয্যা নিয়ে কোনওমতে চলছে পরিষেবা ! স্বল্প পরিসরে প্রসূতিদের নরমাল ডেলিভারি, মাতৃত্বকালীন সেবা, নারী ও কিশোরীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা—সবই হচ্ছে সীমিত সামর্থ্যে । চিকিৎসাকর্মীরা বলছেন, "চেষ্টা করছি পরিষেবা সচল রাখতে, কিন্তু পরিকাঠামো না থাকলে সব পরিষেবা দেওয়া সম্ভব নয় ।"
গ্রামবাসীর অভিযোগ, সরকারি উদাসীনতার খেসারত দিতে হচ্ছে তাঁদের ৷ শরিফউদ্দিন মিয়ার কথায়, " দীর্ঘদিন ধরে ভবনটা তৈরি হয়ে পড়ে রয়েছে । অথচ আমাদের সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র চলছে ভাড়া বাড়িতে । আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত নজর দিক ।" গ্রামবাসী রিংকি মাহাতো বলেন, "গর্ভবতী মায়েদের অনেক দূর যেতে হচ্ছে চিকিৎসার জন্য । কীসের জন্য কাজ বন্ধ, তা আমরা জানি না । আমরা চাই, দ্রুত কাজ শেষ করে নতুন ভবনে পরিষেবা শুরু হোক ।"

স্বাস্থ্যকেন্দ্র সূত্রের খবর, শয্যা সংকটের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই জটিল প্রসূতিদের অন্যত্র রেফার করতে হচ্ছে । এতে সময় নষ্ট হচ্ছে, বাড়ছে দুশ্চিন্তা । এলাকার মানুষজনের প্রশ্ন, মা ও শিশুর মতো স্পর্শকাতর পরিষেবার ক্ষেত্রে এই বিলম্ব কেন? এ বিষয়ে হরিরামপুর বিধানসভার বিধায়ক তথা রাজ্যের ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রী বিপ্লব মিত্র বলেন, "আমি বিষয়টি খোঁজখবর নিচ্ছি । খুব তাড়াতাড়ি যেন এই সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র চালু করা যায়, তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।" তাঁর আশ্বাসে সাময়িক ভরসা মিললেও, পটরার বাসিন্দাদের চোখ এখন কাজ শুরুর দিন গোনায় ।

গ্রামবাসীদের বক্তব্য, মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক পরিকাঠামো যদি বছরের পর বছর থমকে থাকে, তবে উন্নয়নের ছবিতে ফাঁক থেকেই যায় । পত্রার মানুষ তাই আর আশ্বাসে নয়, চাইছেন ইট–সিমেন্টের কাজ শেষ হয়ে নতুন ভবনে দ্রুত পরিষেবা চালু হোক—নিরাপদ মাতৃত্ব আর শিশুর সুস্থ ভবিষ্যতের স্বার্থে।

