নিউটাউনে স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনে সিট গঠন, প্রাক্তন বিডিওর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের তোড়জোড়
নিউটাউনে স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের ফাইল খুলল পুলিশ । নতুন করে প্রমাণ সংগ্রহে ফরেন্সিক দল ।

Published : July 9, 2026 at 2:57 PM IST
নিউটাউন, 9 জুলাই: নিউটাউনে স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুনের ঘটনার তদন্তে ফের বড়সড় পদক্ষেপ করল পুলিশ । এই অপহরণ ও হত্যা মামলায় পুনরায় ফাইলের জট খুলল বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট এবং বুধবার রাতে পুলিশের একটি বিশেষ দল প্রশান্ত বর্মনের নিউটাউনের ফ্ল্যাটে গিয়ে নতুন করে তল্লাশি চালায় । এই মামলায় প্রধান অভিযুক্ত জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মন ।
একইসঙ্গে মামলার তদন্তপ্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা হয়েছে । পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধাননগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ডেপুটি কমিশনারের নেতৃত্বে এই ছয় সদস্যের সিট গঠিত হয়েছে । এই দলে ডিসি ডিডি ছাড়াও রয়েছেন সহকারী কমিশনার, সাইবার ক্রাইম থানার পরিদর্শক এবং আরও তিনজন দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তা ।

পুলিশ সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই মামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং আদালতের নির্দেশে দ্রুত চার্জশিট গোছানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ করেছে পুলিশ । বুধবার রাতে নবগঠিত সিটের সদস্যরা বেঙ্গল এসটিএফ, বিধাননগর সাইবার ক্রাইম ও গোয়েন্দা বিভাগের পুলিশ কর্মী এবং রাজ্য ফরেন্সিক ল্যাবের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়ে নিউটাউনের সেই ফ্ল্যাটে পৌঁছন, যেখানে স্বপন কামিল্যাকে মারধর করে খুন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ । ফ্ল্যাটের দরজা বন্ধ থাকায় পুলিশ আধিকারিকরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন । সেখানে টানা চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে তল্লাশি অভিযান ও নমুনা সংগ্রহের কাজ । ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা ঘরগুলি থেকে একাধিক রাসায়নিক ও প্রযুক্তিগত প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন ।
পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতনের বাসিন্দা স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা ৷ তিনি সল্টলেকের দত্তাবাদ এলাকায় ব্যবসা করতেন । গত বছরের 28 অক্টোবর তাঁর দোকান থেকে তাঁকে অপহরণ করার অভিযোগ ওঠে রাজগঞ্জের তৎকালীন বিডিও প্রশান্ত বর্মন ও তাঁর সঙ্গীদের বিরুদ্ধে । অভিযোগ ছিল, বিডিও-র বাড়ি থেকে চুরি যাওয়া সোনা স্বপন কিনেছিলেন, এই সন্দেহে তাঁকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে নিউটাউনের এবি ব্লকের একটি ফ্ল্যাটে আটকে রেখে বেল্ট ও লাঠি দিয়ে অকথ্য অত্যাচার করা হয় । 29 অক্টোবর বাগজোলা খালের পাশ থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ।

এই খুনের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট ও কলকাতা হাইকোর্ট অভিযুক্ত প্রশান্ত বর্মনকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিলেও তিনি দীর্ঘ চার মাস ধরে পলাতক ছিলেন । তবে মে মাসে নিউটাউনে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনা ঘটানোর পর সাধারণ মানুষের সহায়তায় ইকো পার্ক থানার পুলিশের হাতে আটক হন তিনি । পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয় ৷
ওই ট্রাফিক সংক্রান্ত মামলায় জামিন পেলেও স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনের তরফ থেকে এবার কড়াকড়ি পদক্ষেপের তোড়জোড় শুরু হয়েছে । নতুন করে পুলিশি তৎপরতা শুরু হওয়ায় দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সুবিচার পাওয়ার আশায় বুক বাঁধছেন নিহত স্বর্ণ ব্যবসায়ীর পরিবার । অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যাতে দ্রুত কঠোরতম আইনি শাস্তি নিশ্চিত করা যায়, সেই লক্ষ্যেই পুলিশ কোমর বেঁধে নেমেছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে ।

