বারুইপুর-কাণ্ডে তদন্তে সিট, গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত
বারুইপুর-কাণ্ডে পুলিশ মোট তিনটি পৃথক মামলা রুজু করেছে । ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন সিটের সদস্যরা ৷

Published : July 6, 2026 at 11:28 AM IST
বারুইপুর ও কলকাতা, 6 জুলাই: বারুইপুরে নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন ও খুনের ঘটনায় গ্রেফতার হলেন প্রধান অভিযুক্ত ৷ আনন্দ সরদারকে গ্রেফতার করল বারুইপুর জেলা পুলিশের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম । এই নিয়ে গ্রেফতারির সংখ্যা মোট তিন । আটক রয়েছেন অতিরিক্ত তিনজন । গোটা ঘটনা কীভাবে ঘটেছিল তা জানতে চাইছেন তদন্তকারীরা ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বারুইপুর জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, "আমরা এলাকায় শান্তি ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছি। ঘটনাস্থলের ফরেন্সিক পরীক্ষাও করানো হচ্ছে ৷"
তিনজন আটক
বারুইপুর-কাণ্ডের তদন্তে গতি বাড়িয়েছে পুলিশ । ইতিমধ্যেই গঠন করা হয়েছে 6 সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। ভবানী ভবন সূত্রে খবর, বারুইপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিনাকী দত্তের নেতৃত্বে তদন্তকারী দল ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে । পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে । পাশাপাশি রাতভর এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালিয়ে সিটের সদস্যরা নৃশংস ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে আরও তিনজনকে সোমবার ভোরে আটক করেছেন এবং ধৃতদের বারুইপুর থানায় নিয়ে আসা হয়েছে । একইসঙ্গে পলাতক অন্য অভিযুক্তদের খোঁজে একাধিক জায়গায় তল্লাশি অভিযান জারি রয়েছে ।
তিনটি মামলা রুজু
ঘটনায় পুলিশ মোট তিনটি পৃথক মামলা রুজু করেছে । প্রথম মামলাটি নাবালিকার যৌন নির্যাতন ও খুন সংক্রান্ত। এছাড়া আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, পুলিশের উপর হামলা, পথ ও রেল অবরোধ এবং গণপিটুনিতে এক অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরও দুটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে বারুইপুর থানার পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইলের ভিডিয়ো এবং অন্য ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখে আশান্তি ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে । ধৃতদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে । ঘটনার সময় ওই তিন ব্যক্তি কীভাবে মদত দিয়েছিল এবং তারা সেখানে উপস্থিত ছিল কি না কিংবা এই নৃশংস অপরাধ মূলক ষড়যন্ত্রে তারা কোনওরকম ভূমিকা পালন করেছিল কি না সেই বিষয়টিও সিটের তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন ।
এলাকায় 163 ধারা জারি
রবিবারের পর সোমবারও এলাকায় জারি রয়েছে বিএনএস 163 নম্বর ধারা(পূর্বের 144 ধারা) । এলাকায় দোকানপাট বন্ধ । শুনশান চারপাশ । পুলিশের গাড়ি থেকে শুরু করে র্যাফ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা এলাকায় টহল দিচ্ছেন । নতুন করে যাতে কোনওরকমের অশান্তির সৃষ্টি না হয়, তার জন্য বদ্ধপরিকর বারুইপুর জেলা পুলিশ ।
এই ঘটনায় শুধুমাত্র বারুইপুর জেলা পুলিশ নয় বরং রবিবারই ভবানী ভবন থেকে রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিলেন । কারা প্রত্যক্ষভাবে মদত দিয়েছিলেন এবং অশান্তি ছড়ানোর ঘটনায় কারা যুক্ত ছিলেন, সেই বিষয়গুলিও পৃথকভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে । আপাতত বারুইপুরের ঘটনায় ধৃত ও আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন সিটের তদন্তকারীরা ।
নাবালিকার বাবার সঙ্গে কথা মুখ্যমন্ত্রীর
ঘটনাকে ঘিরে প্রশাসনিক স্তরেও তৎপরতা বেড়েছে । মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিহত নাবালিকার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন । পাশাপাশি, মঙ্গলবার নির্যাতিতার পরিবারকে কলকাতার ভবানী ভবনে ডেকে পাঠানো হয়েছে বলেও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে ।
বারুইপুরে নাবালিকার দেহ উদ্ধার
প্রসঙ্গত, দক্ষিণ 24 পরগনা জেলার বারুইপুর থানা এলাকায় 12 বছরের এক নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন ও খুনের অভিযোগে রবিবার দিনভর তোলপাড় হয়ে ওঠে রাজ্য ৷ পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল ওই নাবালিকা । পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনও সন্ধান পাননি । রবিবার ভোরে বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে উদ্ধার হয় নাবালিকার দেহ । পরিবারের অভিযোগ, নাবালিকাকে ধর্ষণের পর খুন করে দেহ পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল প্রমাণ লোপাট করতে।
আর এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয় । স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ কুলপি রোডে মৃতদেহ রেখে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখান । টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধ করা হয় । পরে শিয়ালদা দক্ষিণ শাখার নামখানা লাইনে ট্রেনও আটকে দেওয়া হয় । প্রায় ঘণ্টাখানেক রেল চলাচল ব্যাহত হয় । পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ বাধে ।
বারুইপুরে অশান্তি
অভিযোগ, পুলিশের গাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয় । এই উত্তেজনার মধ্যেই জনতার হাতে ধরা পড়ে এক অভিযুক্ত । অভিযোগ, গণপিটুনিতে গুরুতর জখম হওয়ার পর তার মৃত্যু হয় । ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে । আর এরপরেই তদন্তে গতি আনতে বারুইপুর পুলিশ জেলা 6 সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে ।
বারুইপুরের নাবালিকার নৃশংস মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যে ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, তা রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা এবং নারী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে । এখন নজর পুলিশের তদন্ত কত দ্রুত শেষ হয় এবং এই বহুচর্চিত মামলায় আদালতে কতটা শক্তিশালী প্রমাণ পেশ করা যায় ।

