ETV Bharat / state

স্কুলের দুই শিক্ষক বিএলও'র কাজে, কে নেবে ক্লাস ? চন্দ্রকোণায় উঠছে প্রশ্ন

চন্দ্রকোণার নীলগঞ্জ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই জন স্থায়ী শিক্ষক এবং একজন পার্শ্ব শিক্ষক ৷ বিএলও-এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দুই শিক্ষককেই ৷ এখন পড়ুয়াদের কে সামলাবেন ?

SIR IN WEST BENGAL
ক্লাস করাবেন কে? (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : November 2, 2025 at 8:07 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

চন্দ্রকোণা, 2 নভেম্বর: পূজোর ছুটি কাটিয়ে সবে স্কুল খুলেছে ৷ ছুটির পর স্কুলে ক্লাস চলা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা ৷ ক্লাস করাবেন কে? নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মতো বাংলায় ভোটার তালিকায় বিশেষ সংশোধনীর (SIR) কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে ৷ এসআইআর-এর কাজের জন্য বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও হিসেবে নিযুক্ত করেছে কমিশন ৷ তাতেই সমস্যায় পড়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোণা 2 নম্বর নীলাগঞ্জ প্রাথমিক বিদ্যালয় ৷

নীলাগঞ্জ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থায়ী শিক্ষক 2 জন এবং একজন পার্শ্ব শিক্ষক রয়েছেন ৷ স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা এবং বাকি একজন শিক্ষক বিএলও-এর দায়িত্ব পেয়েছেন ৷ আর সেখানেই উঠছে প্রশ্ন, ভোটার তালিকার কাজ শেষ না-হওয়া পর্যন্ত একজন পার্শ্ব শিক্ষক কীভাবে একা স্কুল চালাবেন? ছেলে মেয়েদের পড়াশোনা সেই সঙ্গে মিড ডে মিলের দায়িত্ব একা কীভাবে তিনি পালন করবেন? এই সমস্ত প্রশ্ন নিয়েই অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের তৈরি হয়েছে ৷ পাশাপাশি পড়ুয়াদের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে শিক্ষক শিক্ষিকাদের মনে ৷

পড়ুয়াদের ভবিষ্যত নিয়ে উঠছে প্রশ্ন (ইটিভি ভারত)

পড়ুয়াদের অভিভাবকদের দাবি, কয়েক দিন পর স্কুলে বাৎসরিক খেলা এবং পরীক্ষা রয়েছে ৷ এর মধ্যে স্কুলের দুই শিক্ষক যদি ভোটের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, তবে কীভাবে পড়ুয়াদের পড়াশোনা হবে? একই চিন্তা স্কুল শিক্ষকদেরও। বিএলও-এর দায়িত্ব পাওয়া স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা রমা কুণ্ডু দাস বলেন, "ভোটার তালিকায় কাজের জন্য আমাদের নাম এসেছে ৷ কিন্তু আমরা কী করব! এসআইআর-এর কাজ তো আগেই করতে হবে । জানি না কি হবে স্কুলের ভবিষ্যৎ ৷ আমরাও চিন্তায় রয়েছি ।"

এই বিষয়ে আতঙ্কগ্রস্থ পার্শ্ব শিক্ষক রাজকুমার বাগ বলেন, "একদিকে স্কুলের এতোগুলি পড়ুয়া, সেই সঙ্গে মিড ডে মিলের খাবারের ব্যবস্থা ৷ সবদিকে একার পক্ষে লক্ষ্য রাখা সম্ভব নয় ৷ জানি না এই স্কুলের ভবিষ্যৎ কি হবে! তবে আমি একা পুরো কাজ করে উঠে পারবো না ।" তবে ভোটের কাজের জন্য স্কুলের পড়াশোনার যাতে কোনও ক্ষতি না-হয়, সেই বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন চন্দ্রকোণা দু'নম্বর ব্লকের বিডিও উৎপল পাইক ৷

তিনি জানান, স্কুলের কাজ একই সঙ্গে BLO-এর কাজ করতে হবে শিক্ষকদের ৷ ছাত্রদের পড়াশোনার বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে । এই বিষয়ে প্রশাসন নজর রাখছে বলেও জানান তিনি । বিডিও আরও বলেন, "আমাদের কাছে এর আগেও কোনও অভিযোগ আসেনি ৷ তবে বিএলও-এর কাজ করতে গিয়ে স্কুলের কোনও সমস্যা হবে বলে মনে করি না ৷ সকাল 11টা থেকে 3টে পর্যন্ত ওনারা কাজ করবেন ৷ আর সকালে স্কুল করবেন । তাই সমস্যার কোনও অবকাশ নেই বলে মনে করি ।"

অভিভাবক সাবিত্রী সমাদ্দার বলেন, "আমাদের স্কুলে প্রায় 46 থেকে 50 জন পড়ুয়া রয়েছে ৷ তারপরও এই 3 জন শিক্ষকই পেরে উঠতে পারেন না । এই অবস্থায় দুই শিক্ষককে বিএলও-এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ৷ একজন পার্শ্ব শিক্ষকের পক্ষে কোনও ভাবেই বাচ্চাদের পড়াশুনা এবং তাদের মিড ডে মিল খাওয়ানো সম্ভব নয় । তাই উপর মহলের কাছে আমাদের আবেদন, অন্তত একজন শিক্ষকের নাম বাদ দেওয়া যায়, তাহলে স্কুলটা চলবে ।"

পড়ুন: স্কুল সামলে SIR কাজ, প্রশিক্ষণে বিক্ষোভ শিক্ষক-বিএলওদের