ETV Bharat / state

বাড়ি ফিরলেই তো মার খেতে হবে, বহু ভোটারের নাম বাদ পড়ায় ভয়ে বাড়ি ফিরতে চাইছেন না বিএলও-রা

উত্তর 24 পরগনার আমডাঙা ও দেগঙ্গার ঘটনা৷

SIR IN WEST BENGAL
বহু ভোটারের নাম বাদ পড়ায় ভয়ে বাড়ি ফিরতে চাইছেন না বিএলও-রা (নিজস্ব ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : February 28, 2026 at 9:45 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

আমডাঙা (উত্তর 24 পরগনা), 28 ফেব্রুয়ারি: চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় উত্তর 24 পরগনার আমডাঙা ও দেগঙ্গায় বহু ভোটারের নাম বাদ পড়ায় আতঙ্কিত বুথ লেভেল অফিসাররা। আতঙ্ক এতটাই গ্রাস করেছে তাঁদের একাংশের মধ্যে যে ভয়ে তাঁরা আর বাড়ি ফিরতে চাইছেন না। আতঙ্কে অনেকেরই ঠাঁই হয়েছে বিডিও অফিসে। বিএলও-দের একাংশের দাবি, ‘‘আমরা অসহায়। বাড়ি ফিরলেই তো পাবলিকের হাতে মার খেতে হবে। পাবলিকের মার তো আর কমিশন খায়নি। খেলে বুঝতে পারবে।’’ অসহায় বিএলও-রা নিরাপত্তা চেয়ে এদিন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণও করেছেন।

শনিবার চূড়ান্ত ভোটার প্রকাশিত হয়েছে এ রাজ‍্যে। তবে, 60 লক্ষ ভোটারের ভাগ‍্য এখনও ঝুলে রয়েছে। সেগুলি বিবেচনা করার পর জুডিশিয়াল অফিসারদের তত্ত্বাবধানে পরবর্তীতে ধাপে ধাপে প্রকাশ করা হবে কমিশনের তরফে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর জেলায় জেলায় যে ছবিটা উঠে এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে উত্তর 24 পরগনা জেলায় বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা 1 লক্ষ 42 হাজার 297 জন।

বহু ভোটারের নাম বাদ পড়ায় ভয়ে বাড়ি ফিরতে চাইছেন না বিএলও-রা (ইটিভি ভারত)

এর মধ্যে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আমডাঙা ও দেগঙ্গা বিধানসভায় বাদ যাওয়া ভোটার যথাক্রমে 7 হাজার 558 ও 856।অন‍্যান‍্য বিধানসভাতেও ভোটারের বাদ যাওয়ার সংখ্যা নেহাতই কম নয়। সূত্রের খবর, 60 লক্ষ ভোটারের মধ্যে শুধুমাত্র উত্তর 24 পরগনাতেই প্রায় 6 লক্ষের কাছাকাছি বিচারাধীন ভোটারের ভাগ্য ঝুলে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অমীমাংসিত ভোটারের সংখ্যা থেকে আরও নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি ঘোরালো হওয়ার শঙ্কা করছেন অনেকেই।

এদিকে, আমডাঙা ও দেগঙ্গা বিধানসভার বেশ কিছু বুথে ভোটারের নাম বাদ পড়া নিয়ে ক্ষুব্ধ বিএলও-দের একাংশ। এই নিয়ে ক্ষোভও উগরে দিয়েছেন তাঁরা। আমডাঙা পঞ্চায়েতের 86 নম্বর বুথের বিএলও মহম্মদ ইসকারুল ইসলাম। তাঁর বুথ থেকে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সিতে ডাক পেয়েছিলেন মোট 543 জন। তার মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় আন্ডার অ্যাজুডিকেশন-এ নাম রয়েছে 386 জনের। যা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছেন আমডাঙার 86 নম্বর বুথের বিএলও।

এই বিষয়ে মহম্মদ ইসকারুল ইসলাম বলেন, "ছোটখাটো ভুল থাকায় এসআইআরের লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সিতে ডাকা হয়েছে 543 জনকে। শুনানির পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় দেখছি 386 জনকে আন্ডার অ্যাজুডিকেশনে ফেলে দেওয়া হয়েছে। আমি প্রায় 18 বছর ধরে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। কখনও এরকম সমস্যার সন্মুখীন হতে হয়নি। আমার হাত ধরে অনেকেরই ভোটার লিস্টে নাম উঠেছে। আমার বাবার নামের সামান্য ভুল থাকায় আন্ডার অ্যাজুডিকেশনে রাখা হয়েছে। আমরা এঁদের হয়ে আন্ডার টেকিং-ও দিয়েছি। তার পরেও কিছু হয়নি। আমরা চাই, কমিশন যেন কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ না দেয়। ভোটার তালিকায় সন্দেহজনক বলে তাঁদের যেন দেখানো না-হয়।"

একই অবস্থা আমডাঙার চণ্ডীপুরের 68 নম্বর বুথের। সেখানে তো বিএলও রীতিমতো ভয়ে কাঁপছেন। এমনই পরিস্থিতি যে তিনি আর বাড়ি ফিরতে চাইছেন না। ওই বুথের বিএলও শেখ আব্দুল নঈম বলেন, "শুনানিতে বৈধ কাগজপত্র দেখানোর পরেও চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় বহু ভোটারের নামের পাশে যদি অমীমাংসিত লেখা থাকে, তাহলে বুঝতেই পারছেন তো কী অবস্থা হবে। নিরাপত্তা না-দিলে তো মার খেতে হবে। এঁদের মধ্যে অনেকেরই 2002 সালের সংশোধিত ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে। তার পরেও কী ভাবে নাম বাদ যাওয়া থেকে অমীমাংসিত থাকে সেটাই বোধগম্য হচ্ছে না। বাড়ি ফিরলেই তো পাবলিকের হাতে মার খেতে হবে। এর থেকে বিডিও অফিসে বসে থাকাই ভালো। আমরা নিরাপত্তার দাবি করছি।"

অন‍্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে বারাসতের মহকুমাশাসক সোমা দাস বলেন, "ইআরও-র তরফে কোনও লিখিত অভিযোগ আসেনি। সংবাদ মাধ্যমের কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম। খোঁজ নিয়ে দেখছি। অভিযোগ এলে যথাযথ পদক্ষেপ করা হবে।"

আরও পড়ুন -