SIR শুনানির নোটিশ পেতেই কোমায় বৃদ্ধা ! 6 দিন পর হাসপাতালে মৃত্যু
বৃদ্ধার পরিবারের অভিযোগ, এসআইআরের নোটিশ পেয়ে 'আতঙ্ক' হঠাৎই মাথা ঘুরে চেয়ার থেকে পড়ে যান বৃদ্ধা । ব্রেন স্টোকে আক্রান্ত হন ।

Published : January 10, 2026 at 10:44 PM IST
ব্যারাকপুর, 10 জানুয়ারি: এসআইআর 'আতঙ্কে' একের পর এক মৃত্যুর অভিযোগ রাজ্যে ! হাসনাবাদের পর এবার সোদপুরে মৃত্যু হল 75 বছরের এক বৃদ্ধার । মৃত বৃদ্ধার নাম অলকা বিশ্বাস ৷ এসআইআর আতঙ্কে তাঁর প্রাণ গিয়েছে বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের ।
জানা গিয়েছে, অলকার বাড়ি সোদপুরের ঘোলার তালবান্দা এলাকায় । গত 4 জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনের তরফে এসআইআরের নোটিশ আসে বৃদ্ধার কাছে । অভিযোগ, বাড়িতে সেই নোটিশ পৌঁছতেই 'আতঙ্ক' হঠাৎই মাথা ঘুরে চেয়ার থেকে পড়ে যান বৃদ্ধা । ব্রেন স্টোকে আক্রান্ত হন । পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে তড়িঘড়ি তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা ।
পরে, অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে বৃদ্ধাকে স্থানান্তরিত করা হয় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে । সেখানে চিকিৎসা চলাকালীন তিনি কোমায় চলে যান । এতদিন ওই হাসপাতালেই মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন । অবশেষে 6 দিন পর শনিবার সকালে সেখানেই মৃত্যু হয় বৃদ্ধার ৷
এদিকে, এই মৃত্যুর ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের তীব্র সমালোচনা করেন খড়দার তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় । এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটারদের হেনস্থা করা হচ্ছে বলে সরাসরি কমিশন-বিজেপি আঁতাতেরও অভিযোগ তোলেন । যদিও মন্ত্রীর অভিযোগ মানতে চায়নি গেরুয়া শিবির । পাল্টা বিজেপি এসআইআর নিয়ে শাসক দলের বিরুদ্ধেই অযথা 'আতঙ্ক' তৈরির অভিযোগ এনে সরব হয়েছে ।
বৃদ্ধার মৃত্যু প্রসঙ্গে রাজ্যের পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব বলেন, "এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যু যেন এখন নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে । এসআইআর নিয়ে এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি করেছে নির্বাচন কমিশন । সাধারণ মানুষ যথেষ্ট আতঙ্কিত । সমস্ত নথি ও 2002 সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও বৈধ্য ভোটারের বাড়িতে কমিশন নোটিশ পাঠিয়ে দিচ্ছে । আমার পরিবারেও এসআইআর নোটিশ পাঠানো হয়েছে । এটা এসআইআর হচ্ছে, নাকি অন্য কিছু, তা আমি নিজেও বুঝে উঠতে পারছি না । নির্বাচন কমিশন বিজেপির কথায় চলছে, তা ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে । আমরা ওই বৃদ্ধার পরিবারের পাশে রয়েছি ।"
একই সুর শোনা গিয়েছে বিলকান্দা 1 নম্বর পঞ্চায়েতের তৃণমূল উপপ্রধান প্রবীর দাসের গলাতেও । তাঁর কথায়, "করোনার সময়ে ওই বৃদ্ধা তাঁর একমাত্র ছেলেকে হারান । পরিবারটি খুবই অসহায় । বৃদ্ধার এভাবে মৃত্যু কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না । এই মৃত্যুর দায় নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে । আমরা প্রথম দিন থেকেই ওই বৃদ্ধার পরিবারের পাশে ছিলাম । আগামিদিনেও থাকব ।"
মন্ত্রী শোভনদেবকে পাল্টা জবাব দিয়েছে পদ্ম শিবির । খড়দার বিজেপি নেতা জয় সাহা বলেন, "যে কোনও মৃত্যুই দুর্ভাগ্যজনক । তবে, এসআইআর নিয়ে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত নন ৷ রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল ভয় পেয়েছে । তাই, কেউ মারা গেলেই এসআইআর আতঙ্ক বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে । তৃণমূল বুঝতে পারছে এসআইআর হলে ওদের বিদায় নিশ্চিত ।"
উল্লেখ্য, নতুন বছরের শুরুতে এসআইআর 'আতঙ্কে' স্বরূপনগর, হিঙ্গলগঞ্জ, নৈহাটি ও মধ্যমগ্রামে পরপর চার জনের মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে ।শুক্রবারই হাসনাবাদে ঘুমের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় আরও এক যুবকের । সেক্ষেত্রেও তৃণমূলের তরফে এসআইআর 'আতঙ্কে' মৃত্যুর অভিযোগ করা হয় । এবার একই অভিযোগ উঠল সোদপুরের ঘটনাতেও । গত এক সপ্তাহে শুধুমাত্র উত্তর 24 পরগনা জেলায় এসআইআর 'আতঙ্কে' মোট 6 জনের মৃত্যুর অভিযোগ উঠল ৷ বিষয়টিকে হাতিয়ার করে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে তৃণমূল ।
এদিকে, এসআইআরের শুনানিতে গিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হন এক বৃদ্ধা ! ঘটনাটি ঘটেছে চাঁচল 1 নম্বর ব্লকের উত্তর বসন্তপুর এলাকায় । জানা গিয়েছে, বসন্তপুর এলাকার বাসিন্দা হামেদা বিবিকে এসআইআরের শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল শনিবার ৷ পরিবারের অভিযোগ, সমস্ত নথি দেখানোর পরও তাঁর থেকে জমির দলিল চাওয়া হয় । সাতদিন পর তাঁকে ফের ডাকা হয় ৷ শুনানি কেন্দ্র থেকে বেরনোর পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন বৃদ্ধা । তড়িঘড়ি তাঁকে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় । পরিবারের আরও দাবি, হামেদা বিবি পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়েছেন ।

