SIR ফর্মে বাবা রামকৃষ্ণ-মা সারদা ! সন্ন্যাসীকে তলব শুনানিতে
শুনানিতে শিষ্যকে নিয়ে মহকুমাশাসকের অফিসে হাজির হন ওই সন্ন্যাসী ৷ তাঁর সঙ্গে ছিল প্যানকার্ড, আধারকার্ড থেকে পাসপোর্টও ৷

Published : December 31, 2025 at 3:49 PM IST
শিলিগুড়ি, 31 ডিসেম্বর: বাবা রামকৃষ্ণ দেব । মা সারদা । এসআইআর ফর্মে এমন তথ্য দিয়ে বিপাকে পড়তে হল এক সন্ন্যাসীকে । সেজন্য মঙ্গলবার শিলিগুড়িতে নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে হাজিরা দিতে হল তাঁকে ।
ওই সন্ন্যাসীর নাম স্বামী রাঘবানন্দ পুরি । দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে শহরের প্রধাননগরে বাঘাযতীন কলোনিতে রামকৃষ্ণ বেদান্ত আশ্রমে বাস করেন ওই সন্ন্যাসী । সংশ্লিষ্ট এলাকার বুথ নম্বর 27 । তা শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের অধীনে ।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই সন্ন্যাসীর এন্যুমারেশন ফর্মে বাবা হিসেবে রামকৃষ্ণ দেব এবং মাতা হিসেবে সারদামণিদেবীকে উল্লেখ করেছেন । এজন্যই এসআইআর-এর শুনানিতে ওই সন্ন্যাসীকে তলব করা হয় । বুধবার দুপুরে তিনি এক শিষ্যকে নিয়ে মহকুমাশাসকের অফিসে যান । সঙ্গে প্যানকার্ড, আধারকার্ড, পাসপোর্ট প্রভৃতি নথি নিয়ে ছিল তাঁর । আর ওই সমস্ত নথিতেই তাঁর পিতা হিসেবে রামকৃষ্ণদেব ও মাতা হিসেবে সারদামণিদেবীর নাম উল্লেখ রয়েছে ।
শুনানির পর ওই সন্ন্যাসী স্বামী রাঘবানন্দ পুরি বলেন, "কমিশনের কাছে সমস্ত নথি দাখিল করেছি । এখন তারা ভোটার তালিকায় নাম রাখলে রাখবে । না রাখলে কিছু করার নেই ।"
তাঁর শিষ্য বেদব্রত দত্ত বলেন, "সংসার ত্যাগের পর বীরজা হোম করে সন্ন্যাস গ্রহণ করেন উনি । এজন্য নিজের অন্ত্যোষ্টি ক্রিয়া করেছেন তিনি । এরপর স্বামী রাঘবানন্দ পুরি নাম গ্রহণ করে রামকৃষ্ণদেবকে পিতা ও সারদামণিদেবীকে মাতা হিসেবে মানছেন । 2002 সাল থেকে তিনি এখানে আছেন । এখানে চারবার ভোট দিয়েছেন । তাঁকে শুনানিতে ডেকে হয়রানি করেছে কমিশন । এটা মানা যায় না ।"

সংশ্লিষ্ট বুথের বিএলও মনীষা গোস্বামী বলেন, "ওই সন্ন্যাসী এন্যুমারেশন ফর্মে 2002 সালের তথ্য উল্লেখ করেননি । এজন্য তাঁর নাম ম্যাপহীন অবস্থায় ছিল । তবে তাঁর 1981 সালে জন্ম । কমিশনের নির্ধারিত 13টি নথির মধ্যে একটি তিনি দেখিয়েছেন । তাঁর সমস্যা মিটবে বলেই আশা করছি ।"
তৃণমূল নেতা বেদব্রত বলেন, "বাংলার মণীষী, বিপ্লবী, দেশের জাতীয় গান বন্দেমাতরম, সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে অপমান করেছে কেন্দ্রীয় সরকার । এখন বিজেপির হাতের 'কাঠ পুতুল' আমাদের রামকৃষ্ণদেব ও সারদা মা'কে চেনে না । কাজেই সন্ন্যাসীকে শুনানিতে ডেকে অপমান করেছেন । এজন্য ওদের ধিক্কার জানাই । এর থেকেই স্পষ্ট মুখে ধর্ম, সনাতনী শব্দ আওড়ালেও গেরুয়া পার্টি কার্যত হিন্দু সন্ন্যাসীদের বিরুদ্ধে ।"

যদিও মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিজেপি বিধায়ক আনন্দময় বর্মন বলেন, "নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিজেপির সম্পর্ক নেই । বিদায়ঘণ্টা বেজে যাওয়ায় তৃণমূল সর্বত্র বিজেপি ভূত দেখছে । আইন অনুসারেই সন্ন্যাসীকে শুনানিতে ডেকেছে কমিশন । এনিয়ে আপত্তির কিছু নেই । আর সন্ন্যাসী, আধ্যাত্মিকদের নাম ভোটার তালিকায় না থাকলেও চলে ।"

