ETV Bharat / state

পরিবেশবান্ধব গঙ্গাসাগর মেলা: প্লাস্টিক বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে তৈরি হবে গ্রামীণ রাস্তা

প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে 'শ্রেডেড প্লাস্টিক' ৷ গঙ্গাসাগরের প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করে তা পাঠানো হচ্ছে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইউনিটে ৷

GREEN GANGASAGAR MELA
প্লাস্টিক বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে তৈরি হবে গ্রামীণ রাস্তা ৷ (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : January 7, 2026 at 4:53 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

গঙ্গাসাগর, 7 জানুয়ারি: গঙ্গাসাগর মেলাকে পরিবেশবান্ধব করতে উদ্যোগী দক্ষিণ 24 পরগনা জেলা প্রশাসন ৷ সাগর মেলায় যত্রতত্র পড়ে থাকা প্লাস্টিক বর্জ্যকে প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করা হচ্ছে ৷ মূলত, প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে 'শ্রেডেড প্লাস্টিক' বা প্লাস্টিকের কুচি তৈরি করছে প্রশাসন ৷ যা দক্ষিণ 24 পরগনার বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় রাস্তা তৈরির কাজে ব্যবহার করা হবে ৷

উল্লেখ্য, সংক্রান্তিতে পুণ্যস্নানের জন্য প্রতিবছর লক্ষ-লক্ষ মানুষের সমাগম হয় সাগরতটে ৷ মেলা শেষের পর প্রতিবছর সাগরে বিশাল পরিমাণে আবর্জনার স্তূপ তৈরি হয় ৷ যার একটা বড় অংশ প্লাস্টিক ৷ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এই প্লাস্টিক বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে ৷

Green Gangasagar Mela
গঙ্গাসাগর মেলা থেকে সংগ্রহ করা বর্জ্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে ৷ (নিজস্ব ছবি)

গঙ্গাসাগর মেলাকে পরিবেশবান্ধব করে তুলতে, সেই প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহের পর পৃথকীকরণ করা হবে ৷ এর জন্য বর্জ্য জমা করতে তিনটি পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে সাগরদ্বীপের ৷ সেগুলি হল- 6 নম্বর বিচ, 1এ বিচ ও সাগরের নতুন বাসস্ট্যান্ড ৷ সেখানে জমা হওয়া বর্জ্য পৃথকীকরণের মাধ্যমে প্লাস্টিক আলাদা করা হয় ৷ এরপর তা পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে রুদ্রনগরের প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বা পিডব্লিউএম ইউনিটে ৷

ইউনিটে রাসায়নিক ও আধুনিক মেশিনের সাহায্যে 'শ্রেডেড প্লাস্টিক' বা প্লাস্টিকের কুচি তৈরি করা হচ্ছে ৷ প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, এই শ্রেডেড প্লাস্টিক দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা জুড়ে গ্রামীণ রাস্তা তৈরির কাজে ব্যবহার করা হবে ৷ মূলত, বিটুমিন বা পিচের সঙ্গে এই শ্রেডেড প্লাস্টিক মিশিয়ে রাস্তা তৈরি করা হয় ৷ প্লাস্টিক থাকায় রাস্তার জল ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং সহজে তা রাস্তাকে ভাঙতে দেয় না ৷

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রুদ্রনগরে তৈরি এই শ্রেডেড প্লাস্টিক বা বর্জ্য উপজাত দ্রব্য ইতিমধ্যেই জেলার বিভিন্ন ব্লকে পাঠানো হয়েছে ৷ ক্যানিং, বারুইপুর এবং ঠাকুরপুকুর-মহেশতলার মতো ব্লকগুলিতে রাস্তা তৈরির কাজে এই সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে ৷ তবে, শুধু রাস্তা তৈরি নয়, প্লাস্টিক বর্জ্যের বাকি অংশকে অন্যান্য অনেক কাজে লাগানো হচ্ছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে ৷

পৃথকীকরণের পর যে প্লাস্টিক রুদ্রনগরে পাঠানো হয় না, তা পাঠিয়ে দেওয়া হয় কুলপিতে ৷ সেখানে এই বর্জ্য থেকে প্লাস্টিকের দানা বা 'গ্রানিউলস' তৈরি করা হয় ৷ এই দানাগুলি অটোমোবাইল শিল্প, প্রযুক্তিপণ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম, বায়োপ্লাস্টিক এবং ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয় ৷

Green Gangasagar Mela
গঙ্গাসাগর মেলা থেকে সংগ্রহ করা প্লাস্টিক বর্জ্যের প্রক্রিয়াকরণ ৷ (নিজস্ব ছবি)

পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, "রাস্তা তৈরিতে প্লাস্টিক ব্যবহার করলে একাধিক সুবিধা পাওয়া যায় ৷ প্লাস্টিক মিশ্রিত বিটুমিন রাস্তার ফাটল রোধ করে এবং রাস্তার গুণমান বাড়ায় ৷ এই ধরনের রাস্তা অতিরিক্ত তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে, ভারী যান চলাচলের চাপ নিতে সক্ষম এবং জল জমলেও সহজে খারাপ হয় না ৷"

পাশাপাশি, রাস্তার কাজে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবহার করলে বিটুমিনের খরচ অনেকটাই কমে যায় ৷ গত কয়েক বছর ধরেই গঙ্গাসাগরকে প্লাস্টিক মুক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে জেলা প্রশাসন ৷ এর ফলে সাগর ব্লক ও সমুদ্র সৈকত থেকে নিয়মিত প্লাস্টিক সংগ্রহের কাজ সহজ হয়েছে ৷ তিনি এও জানিয়েছেন, গত বছর গঙ্গাসাগর মেলার সময় প্রায় দু’শো কেজির মতো প্লাস্টিক বর্জ্য পাওয়া গিয়েছিল ৷ এবার সেই জন্য, এই প্লাস্টিক সংগ্রহের কাজ আরও গুরুত্ব দিয়ে হচ্ছে ৷

উল্লেখ্য, চলতি বছর 'পথশ্রী-রাস্তাশ্রী' প্রকল্পের আওতায় রাজ্যজুড়ে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবহার করে 1,759.619 কিলোমিটার বিটুমিনাস রাস্তা তৈরির ছাড়পত্র পেয়েছে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর ৷ গঙ্গাসাগর মেলার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেই লক্ষ্যপূরণে বড় ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে ৷