ETV Bharat / state

সরকারি যাত্রী প্রতীক্ষালয়ে জুতোর দোকান ! ভাড়া দিয়েছে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতি

পঞ্চায়েত সমিতির দাবি, যাত্রীরা আবেদন করলেই সাতদিনের মধ্যে খুলে নেওয়া হবে দোকান ৷ তৃণমূল বিধায়কের নিদান, অভিযোগ এলে পুলিশ দিয়ে তুলিয়ে দেব ৷

passenger waiting room
যাত্রী প্রতীক্ষালয়ে জুতোর দোকান (নিজস্ব ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : December 7, 2025 at 5:36 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

পিংলা, 7 ডিসেম্বর: যাত্রী প্রতীক্ষালয়ে দেখা নেই যাত্রীর ৷ বরং থরে থরে সাজানো জুতো ৷ কারণ যাত্রী প্রতীক্ষালয়টিকে ভাড়া নিয়ে জুতোর দোকান করেছেন এক ব্যবসায়ী ৷ যা দেখে চোখ ছানাবড়া এলাকাবাসীর ৷ যদিও ওই ব্যবসায়ীকে যাত্রী প্রতীক্ষালয়টি ভাড়া দিয়েছে খোদ পঞ্চায়েত সমিতিই ৷ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পিংলা বিধানসভার পলস্যা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ঘটনা ৷

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত 10 বছর আগে জনগণের সুবিধার জন্য সরকারি খরচে তৈরি হয়েছে ওই যাত্রী প্রতিক্ষালয়টি ৷ খড়গপুর 2 পঞ্চায়েত সমিতি থেকে যাত্রীদের বসার জন্য তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল সেটি । কিন্তু পঞ্চায়েত সমিতির দাবি, ওই যাত্রী প্রতিক্ষালয়ে কেউ বসে না ৷ তাই সেটিকে বাড়গোকুল এলাকার বাসিন্দা লাল্টু হেমব্রমকে জুতোর দোকান করার জন্য লিজে দিয়েছে তারা । তার বিনিময়ে ওই যুবকের কাছ থেকে 6 হাজার টাকাও নিয়েছে পঞ্চায়েত সমিতি । একথা জানিয়েছেন স্বয়ং লাল্টু হেমব্রম ৷

সরকারি যাত্রী প্রতীক্ষালয়ে জুতোর দোকান ! ভাড়া দিয়েছে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতি (ইটিভি ভারত)

তিনি বলেন, "সরকারি জায়গায় ব্যবসা করছি ঠিক কথা ৷ কিন্তু প্রতীক্ষালয়টি যখন হয় তখন একটা ঘর ব্যবসার জন্য দেওয়া হয় ৷ আমি টেন্ডারের মাধ্যমে দোকান করার জন্য জায়গাটা পেয়েছি ৷ পাশে প্রতীক্ষালয়ের জায়গা আছে ৷ এখানে যে দোকান করবে তাকে পুরো জায়গাটা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে ৷ তেমনই বলা আছে ৷ প্রতীক্ষালয়টি এখনও ব্যবহারযোগ্য হয়নি ৷ আমি ব্যবসা করার জন্য ভাড়া দিই ৷ মাসে 500 অর্থাৎ বছরে 6 হাজার টাকা দিই আমি পঞ্চায়েত সমিতিকে । তার রসিদও আছে আমার কাছে ।"

passenger waiting room
পঞ্চায়েত সমিতির রসিদ (নিজস্ব ছবি)

যাত্রী প্রতীক্ষালয়টি ব্যবসায়ীকে ভাড়া দেওয়ার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন খড়গপুর 2 পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায় ৷ তিনি বলেন, "ওই যাত্রী প্রতীক্ষালয়ে কেউ বসে না । দীর্ঘদিন অযত্নে পড়েছিল ৷ তাতে ওটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল । তাই রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সামান্য টাকায় জুতোর দোকান করার জন্য একজনকে ভাড়া দেওয়া হয়েছে । যেদিন যাত্রীরা আবেদন করবে তার সাতদিনের মধ্যে দোকান সরিয়ে দেব । যাত্রীরা তাদের প্রতীক্ষালয় ব্যবহার করতে পারবে ।"

passenger waiting room
যাত্রী প্রতীক্ষালয়ে থরে থরে সাজানো জুতো (নিজস্ব ছবি)

পিংলার তৃণমূল বিধায়ক অজিত মাইতি বলেন, "আমার কাছে এই বিষয়ে কোনও অভিযোগ আসেনি । যদি আসে পুলিশ দিয়ে ওই দোকান তুলে দেব । এই ভাবে প্রতীক্ষালয় ভাড়ায় দেওয়া যায় না ।"

passenger waiting room
যাত্রী প্রতীক্ষালয়টি ভাড়া নিয়েছেন লাল্টু হেমব্রম (নিজস্ব ছবি)

যাত্রী প্রতীক্ষালয় কীভাবে জুতোর দোকান হতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে । যদিও এ বিষয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি । পিংলা এলাকার বিজেপি সভানেত্রী অন্তরা ভট্টাচার্য বলেন, "তৃণমূল নামক দলটা শুধু তোলামূল করে কেটে গেল । এদের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করতে পারবেন না । প্রতিবাদ করতে গেলেই পুলিশ গাঁজার কেস দিয়ে তুলে নিয়ে যায় । তাই সরকারিভাবে ঢাকঢোল পিটিয়ে উদ্বোধন করা যাত্রী প্রতীক্ষালয় উলটে ভাড়া দিয়ে দিয়েছে । যাতে ওদের পকেটে টাকা ভরে তাই এটা করেছে । আজকে প্রতিবাদের ভাষা হারিয়েছে মানুষ ৷"