ETV Bharat / state

SIR নিয়ে উদ্বিগ্ন রাজ্যের যৌনকর্মীরা, বাংলাদেশ-নেপালে ফিরে যাওয়ার হিড়িক

যৌনকর্মী মায়েদের ভোটার তালিকায় নাম নেই এরকম অনেক রয়েছেন । তাই তাঁদের সন্তানরা সবচেয়ে বেশি চিন্তিত এসআইআর নিয়ে ৷

Sex workers
SIR নিয়ে উদ্বিগ্ন রাজ্যের যৌনকর্মীরা (নিজস্ব ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : November 8, 2025 at 6:20 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 8 নভেম্বর: রাজ্যে এসআইআর নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশপাশি এবার উদ্বেগ ধরা দিল যৌনকর্মীদের মধ্যেও । সোনাগাছি-সহ রাজ্যের 50টি বেশি যৌনপল্লির কর্মীদের মধ্যে চিন্তা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির তরফে । একইভাবে যে সমস্ত যৌনকর্মীরা গত পাঁচ-সাত বছরের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে এসেছিলেন কিংবা নেপাল থেকে যাঁরা এসেছিলেন, অধিকাংশই এখন বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন বলে সূত্রের দাবি ।

ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর নিয়ে এখন রাজনৈতিক তরজা অব্যাহত । বিশেষ করে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং কেন্দ্রের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হচ্ছে । কোথাও কোনও ব্যক্তির মৃত্যু হলে 'SIR আতঙ্কে মৃত্যু' বলে চালিয়ে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে পালটা বিজেপির তরফে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে । ঠিক তেমনই উত্তর 24 পরগনা বসিরহাট-সহ বিভিন্ন জায়গায় বাংলাদেশিদের ফিরে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে ।

গোটা রাজ্যের বিভিন্ন যৌনপল্লিতে 30 হাজারের বেশি যৌনকর্মী রয়েছেন । যাঁদের অধিকাংশেরই ভোটার আইডি কার্ড থেকে রেশন কার্ডের মতো প্রয়োজনীয় নথি নেই । এসআইআর চালু হওয়ায় নথি না-থাকায় যৌনকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে । স্বাভাবিকভাবে উদ্বিগ্ন যৌনকর্মীরা তাঁদের সংগঠন দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করছেন । 2025 সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকার সুবাদে কোথাও কোথাও কেউ কেউ এসআইআর-এর ফর্ম পেয়েছেন । কিন্তু তাঁদের মধ্য়ে অনেকের বাবা-মায়ের নথি বা 2002 সালের ভোটের তালিকার নথি নেই ।

দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির এক পদাধিকারী বলেন, "এই পেশাতে যাঁরা আছেন, অধিকাংশই ছোটবেলার বাড়িঘর ছেড়ে এসেছেন । বাড়ির সঙ্গে কার্যত যোগাযোগ নেই । আমার নিজের বাড়ির সঙ্গে 30 বছর আমার কোনও যোগাযোগ নেই । আমার মতো হাজারও কর্মীদের একই সমস্যা । তাহলে আমরা কী করব? যে 11টি নথির কথা বলা হচ্ছে সেগুলোও তো নেই আমাদের । স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কে থাকা উচিত ।"

তবে, সরকার কিংবা জাতীয় নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলেই বিশ্বাসী তিনি । কারণ, বিভিন্ন জেলা-বাড়ি ছেড়ে ভিন রাজ্যে বা ভিন জেলায় যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করার সুবাদে যে যেখানে কাজ করেন, সেখানে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুবিধা পান যৌনকর্মীরা । ঠিক তেমনই বিভিন্ন যৌনপল্লিতে বছরের বিভিন্ন সময় ক্যাম্প করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার কর্মসূচিও চালু রয়েছে । যেখানে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন সকল সংস্থায় যথেষ্ট সহযোগিতা করছেন বলে তাঁদের দাবি ।

ফলে এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন পদক্ষেপ করবেন বলে তাঁরা বিশ্বাসী । কিন্তু, যদি পদক্ষেপ না-হয় তাহলে দলবদ্ধ হয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের । এরপরেও চিন্তা কাটছে না । কারণ, যৌনকর্মী সন্তানদের ক্ষেত্রে সমস্যাটা আরও প্রকট । প্রথমত, যৌনকর্মী মায়েদের নিজেদের ভোটার তালিকায় নাম নেই এরকম সংখ্যাটা অনেক । ফলে তাঁদের সন্তানদের ভোটার হওয়া কিংবা ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হয় । এসআইআর প্রক্রিয়া যে যে নথি বা 2002 সালের ভোটের তালিকার বিষয়টি কোনোভাবে জোগাড় করা সম্ভব হবে না বলেই তাঁরা মনে করছেন ।

যৌনকর্মী-সন্তানদের সংগঠনের এক সদস্য বলেন, "মায়েদের ডকুমেন্টস না-থাকলে সন্তানের থাকবে কি করে? সোনাগাছির প্রায় 30 শতাংশ যৌনকর্মীর কোনও ভোটার আইডি কার্ড নেই । তাদের সন্তানেরা কী করবে? তবে, 2025 সালের তালিকার ভিত্তিতে যাঁদের কাছে ফর্ম পৌঁছবে, আমরা পূরণ করে জমা দেব এবং আমরা আমাদের সংগঠনের তরফে নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছি ।"

এদিকে নির্বাচন কমিশন সূত্রের দাবি, শুধু যৌনকর্মীরা নন, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ এবং বিচারাধীন বন্দিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের । যাঁদের 2025 সালের ভোটার তালিকায় নাম নেই, তাঁদের জন্য কোনও ব্যবস্থা নেই । মূলত, 2025 সালের ভোটার তালিকার ভিত্তিতে বাড়ি বাড়ি এন্যুমারেশন ফর্ম পৌঁছে যাচ্ছে । সেই ফর্ম পূরণ করে জমা দিলে হয়ে যাবে । তারপর, নির্বাচন কমিশন সেই তথ্য খতিয়ে দেখে সংশয় প্রকাশ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ডেকে পাঠানো হবে যাচাইয়ের জন্য ।