হোটেলে রমরমিয়ে চলছে মধুচক্র, পুলিশি হানায় গ্রেফতার 12
হোটেলে হানা দিতেই চক্ষু চড়কগাছ পুলিশের ! গঙ্গারামপুর মহকুমা পুলিশ মধুচক্র চালানোর অভিযোগে 12 জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে ৷

Published : November 14, 2025 at 8:51 PM IST
বংশীহারী, 14 নভেম্বর: শুধু কলকাতা নয়, মফঃস্বল শহরের হোটেলেও রমরমিয়ে চলছে মধুচক্র। গঙ্গারামপুর মহকুমা পুলিশি অভিযানে হোটেলের ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়ল এক তরুণ-তরুণী। মধুচক্র চালানোর গ্রেফতার করা হয়েছে হোটেলের ম্যানেজার-সহ আরও দু'জনকে। মোট 12 জনকে গ্রেফতার করে বংশীহারী থানার পুলিশ।
এ বিষয়ে গঙ্গারামপুর মহাকুমার পুলিশ আধিকারিক দীপাঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, "আমাদের কাছে খবর ছিল বুনিয়াদপুর একটি হোটেলে দীর্ঘদিন ধরে দেহ ব্যবসা চলছিল। আমরা পুলিশের বেশ কয়েকটি মহিলা টিম নিয়ে হোটেলগুলিতে তল্লাশি জ্বালায়। প্রায় দুইজন ছেলে এবং সাতজন মহিলাকে গ্রেফতার করি। সেই সঙ্গে হোটেল ম্যানেজার, একজন স্টাফ এবং হোটেল মালিক গৌরীপাল চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার তাদের গঙ্গারামপুর মহকুমা আদালতে তোলা হবে।
দক্ষিণ দিনাজপুরে জেলার ছোট্ট শহর বুনিয়াপুর। দীর্ঘদিন ধরেশহরের কোর্ট মোড়-সহ বিভিন্ন হোটেল গুলোতে চলছিল রমরমিয়ে দেহ ব্যবসা। গোপন সূত্রে খবর, শুক্রবার দুপুরে ওই হোটেলে হানা দেয় গঙ্গারামপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিকদের নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী। একইসঙ্গে বুনিয়াদপুরে দু'টি হোটেলে ও তল্লাশি চালানো হয়। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হোটেলের একটি ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় ছিল দুই তরুণ ওদুই তরুণী সহ মোট 4 জন, হোটেলের ম্যানেজার ও আরও একজন স্টাফ এবং হোটেল মালিক গৌরীপাল চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে বংশীহারী থানার পুলিশ।
ধৃতদের সকলের বাড়ি দক্ষিণ দিনাজপুর, উত্তর দিনাজপুর, মালদা কলকাতা এবং শিলিগুড়িতে। আগামিকাল সকলকেই তোলা হবে গঙ্গারামপুর মহাকুমা আদালতে। ওই হোটেলে কারা দেহ ব্যবসা চালাচ্ছে, তা জানার জন্য হোটেলের ম্যানেজার-সহ মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ ৷ গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে শুক্রবার দুপুরে বংশীহারী থানার পুলিশ আচমকা হানা দেয় বুনিয়াদপুর পুরসভার তিনটি হোটেলে। তার মধ্যে দু'টি হোটেলে তল্লাশি চালিয়েও কোনও কিছু উদ্ধার হয়নি।

পরবর্তীতে কোট মোড় এলাকার একটি হোটেলে হানা দেয় গঙ্গারামপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী। ওই হোটেল থেকে 7 জন মহিলা ও 2 জন পুরুষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। হোটেল ম্যানেজার এবং স্টাফ-সহ হোটেল মালিক তরিকাল চৌধুরীকেও গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কতদিন ধরে তারা ওই হোটেলে মধুচক্র চালাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মধুচক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, শহর ও শহরতলিতে মানবপাচারের ঘটনা না হলেও প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে এখনও এই চক্র সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগ, হতদরিদ্র পরিবারের কিশোরীদের কাজের প্রলোভন দেখিয়ে কলকাতা-সহ বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে এসে যৌন ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দিচ্ছে পাচারকারীরা। আরও অভিযোগ, উত্তরবঙ্গ সীমান্ত এলাকা থেকেও নাবালিকাদের নিয়ে আসা হচ্ছে। প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গেও এ দেশের একটা বড় চক্র কাজ করছে। সেখান থেকে কিশোরীদের বিক্রি করে এখানে পাঠানো হচ্ছে। কলকাতায় কাজ দেওয়ার নাম করে তাঁদের নিয়ে আসা হচ্ছে।
এই বিষয়ে গৌতম বিশ্বাস নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, বংশীহারী থানার পুলিশ-সহ গঙ্গারামপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক যে কাজটি আজকে করেছে তা খুবই প্রশংসনীয়। আরও অনেক আগে এ ধরনের কাজ করা উচিত ছিল পুলিশের। এ ধরনের ঘটনা ঘটার জন্য বুনিয়াদপুরে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। শৈলেন বিশ্বাস নামে আরও এক বাসিন্দা বলেন, "গঙ্গারামপুর মহকুমা শাসকের অফিসের ঠিক উল্টো দিকেই এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। প্রশাসনের সাহায্য ছাড়া এই ধরনের ঘটনা নিত্যদিন ঘটতে পারে না। মহকুমা প্রশাসন কেন সঠিকভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছে না হোটেল ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ? আমরা চাইব প্রশাসন কঠোর হয়ে এর ব্যবস্থা করুক।"

