কীসের ভিত্তিতে 'টেন্টেড', নথির কপি চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছেন 'অযোগ্য'-দের একাংশ
এসএসসি মামলায় অভিযুক্ত বা সাক্ষী না-হওয়ায় সিবিআই-এর বিশেষ আদালতে আবেদন খারিজ 'অযোগ্য' চাকরিহারাদের একাংশের ৷

Published : January 7, 2026 at 4:07 PM IST
কলকাতা, 7 জানুয়ারি: এসএসসি-2016 নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কমিশন ঘোষিত 'টেন্টেড' বা 'দাগী'রা এবার কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করতে চলেছেন ৷ কীসের ভিত্তিতে অর্থাৎ, কোন-কোন নথির প্রেক্ষিতে দায়ের হওয়া চার্জশিটের কপি চেয়ে এই মামলা করছেন 'দাগী'দের একাংশ ৷ সেই মামলা দায়রের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী ঋষভ আহমেদ খান ৷
উল্লেখ্য, এসএসসি যে 'দাগী'দের তালিকা প্রকাশ করেছে, তা কোন-কোন নথির ভিত্তিতে এবং সেই নথির কপি চেয়ে আলিপুরে সিবিআই-এর বিশেষ আদালতে মামলা করেছিলেন প্রায় দু’শো জন 'দাগী' চাকরিহারা ৷ কিন্তু, সেই মামলাকারীদের একাংশের আবেদন খারিজ করে দেয় সিবিআই-এর বিশেষ আদালত ৷
আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, যাঁরা আবেদন জানিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অনেকে এসএসসি-র মূল মামলার সঙ্গে সংযুক্ত অভিযুক্ত বা সাক্ষী নন ৷ ফলে ফৌজদারি আইন অনুযায়ী, মামলার সঙ্গে সংযুক্ত সাক্ষী এবং অভিযুক্তরাই নথি এবং চার্জশিটের কপি পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন ৷
আদালতের এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে, 'দাগী' চাকরিহারাদের একাংশের আবেদন খারিজ করে দেয় সিবিআই-এর বিশেষ আদালত ৷ সেই আবেদন খারিজের বিরুদ্ধেই এবার কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করছেন ওই 'দাগী' চাকরিহারারা ৷ উল্লেখ্য, সিবিআই আদালতে আগামী 14 জানুয়ারি বাকি আবেদনকারীদের মামলার শুনানি রয়েছে ৷ তার আগেই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করার পরিকল্পনা রয়েছে আবেদন খারিজ হওয়া 'দাগী'দের ৷
এই বিষয়ে 'দাগী'দের পক্ষে আইনজীবী ঋষভ আহমেদ খান বলেন, "সিবিআই যাঁদের 'টেন্টেড' হিসাবে স্কুল সার্ভিসের তালিকা থেকে চিহ্নিত করেছে, তার ভিত্তিতেই এসএসসি 'দাগী'দের চাকরি বাতিল করেছে ৷ কিন্তু, এঁরা কেউ 'টেন্টেড' নয় ৷ এরা একটা সিস্টেমের শিকার ৷ এঁদের চাকরি গেল কোন তথ্যের ভিত্তিতে ৷ সুপ্রিম কোর্টের এবং হাইকোর্টের নির্দেশে কোথাও 'টেন্টেড' শব্দের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি ৷ সিবিআই মোট তিনটে কেস দায়ের করেছিল ৷ আরসি-2, আরসি-3 ও আরসি-4 ৷ আমরা সিবিআই আদালতে আবেদন জানিয়েছিলাম ৷ কয়েকজনের আবেদন বাতিল হয়েছে ৷ ফের 14 জানুয়ারি সিবিআই আদালতে মামলার শুনানি হবে ৷ তার আগে আমরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হব ৷ সেই প্রক্রিয়া চলছে ৷"
উল্লেখ্য, 2016 সালের স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিযুক্ত প্রায় 26 হাজার চাকরিরত শিক্ষক/অশিক্ষক কর্মীদের চাকরি বাতিল করে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ৷ পরে 2025 সালের 3 এপ্রিল শীর্ষ আদালত কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশই বহাল রাখে ৷ সুপ্রিমো কোর্টের নির্দেশে অনুযায়ী, সিবিআই তদন্তে সরাসরি যাঁদের দেখা গিয়েছে দুর্নীতি করে চাকরি পেয়েছেন, তাঁদের চাকরি বাতিলের পাশাপাশি নতুন পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হয়নি ৷

