ETV Bharat / state

নেপালে বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ স্কুল শিক্ষিকা, বিপর্যয়ের পর ফোন 'বন্ধ'; উৎকণ্ঠায় পরিবার

21 অগস্ট ট্যুর এজেন্সির সঙ্গে নেপাল রওনা। আচমকা হিমবাহ ধস, হড়পা বান, ভূমিধস বিপর্যয় ! তার পর থেকে আর কোনও খোঁজ নেই মিতালীর ।

School teacher missing
নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকা মিতালী মণ্ডল (নিজস্ব চিত্র)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : August 28, 2026 at 10:40 AM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

ফলতা, 28 অগস্ট: নেপালে বেড়াতে গিয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর থেকেই নিখোঁজ ফলতা বিধানসভা এলাকার শিবপুর হাসির নগরের বাসিন্দা স্কুল শিক্ষিকা মিতালী মণ্ডল (47)। গত 21 অগস্ট একটি ট্যুর এজেন্সির মাধ্যমে নেপালের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন তিনি । পরিকল্পনা অনুযায়ী অন্যান্য পর্যটকের সঙ্গে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের দিকে এগোচ্ছিলেন মিতালী । কিন্তু সীমান্তের পথে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের খবর আসার পর থেকেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন । ফোন করা হলেও মিলছে না কোনও সাড়া ।

দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তাই উৎকণ্ঠা বাড়ছে পরিবারের । ঘটনার পর থেকে বাড়িতে কার্যত অপেক্ষার প্রহর । কখন ফোন বেজে উঠবে, কখন ওপার থেকে মিতালীর গলা শোনা যাবে, সেই আশাতেই রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা

পরিবার সূত্রে খবর, নেপালে পৌঁছনোর পর প্রথম কয়েক দিন সব কিছু স্বাভাবিকই ছিল । নিয়মিত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন মিতালী । বেড়ানোর অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছিলেন । তাঁর যাত্রাপথ নিয়েও পরিবারকে জানিয়েছিলেন । তখনও বিপদের কোনও ইঙ্গিত পাননি বাড়ির লোকজন ।

কিন্তু পরিস্থিতি বদলে যায় নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী পার্বত্য এলাকায় ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের খবর সামনে আসার পর । হিমবাহ ধস, হড়পা বান এবং ভূমিধসের জেরে ওই অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ার খবর আসে । তার পর থেকেই মিতালীর মোবাইলে ফোন করেও আর যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে পরিবারের দাবি ।

পরিবারের সদস্যেরা বার বার ফোন করেছেন । পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন । যে ট্যুরের মাধ্যমে মিতালী নেপালে গিয়েছিলেন, সেই সূত্র ধরেও তাঁর অবস্থান জানার চেষ্টা চলছে । কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাঁর কোনও নিশ্চিত খোঁজ মেলেনি ।

পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার মিতালীর নেপাল-তিব্বত সীমান্ত পার হওয়ার কথা ছিল । সেই লক্ষ্যেই তিনি এগোচ্ছিলেন । কিন্তু তার আগেই বিপর্যয় ঘটে । ফলে ঠিক কোথায়, কী অবস্থায় তিনি রয়েছেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা ।

মিতালীর দিদি মনিকা মণ্ডলের কথায়, উৎকণ্ঠার সেই ছবি আরও স্পষ্ট । তিনি বলেন, "সব কিছুই ঠিক ছিল । স্বাভাবিক ভাবেই পরিবারের সদস্যরা হাওড়া স্টেশনে তাঁকে বিদায় জানিয়েছিলাম । ঘটনার কয়েক দিন আগেও পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে । বৃহস্পতিবার নেপাল এবং তিব্বত সীমান্ত পার হওয়ার কথা ছিল । কিন্তু এখন আর কোনও ভাবেই যোগাযোগ করা যাচ্ছে না । আমরা ভীষণ চিন্তায় রয়েছি ।"

এক দিকে পাহাড়ি অঞ্চলে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ভয়াবহতা, অন্য দিকে প্রিয়জনের সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন- দুইয়ের মাঝে অপেক্ষা ছাড়া আপাতত আর কোনও পথ নেই পরিবারের । মিতালী নিরাপদে কোথাও আটকে থাকতে পারেন, বিপর্যয়ের কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে থাকতে পারে, এই আশাতেই রয়েছেন তাঁর আত্মীয়েরা ।

এর মধ্যেই খবর পেয়ে মিতালীর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে তাঁদের বাড়িতে পৌঁছন ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়কের আপ্তসহায়ক তথা বিজেপি নেতা গৌতম বাগ । পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতির খোঁজ নেন তিনি । তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন । গৌতম বলেন, "বিধায়কের নির্দেশে নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকা মিতালী মণ্ডলের পরিবারের কাছে এসেছি । পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি । পরিবারের সদস্যেরা অত্যন্ত উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন । আমরা তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছি । মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করব, নিখোঁজ রাজ্যবাসীদের উদ্ধারের জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হোক ।"

মিতালীর পরিবার এখন প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ চাইছে । তাঁদের দাবি, নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় যদি যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে থাকে, তা হলে সেখানে আটকে পড়া পর্যটকদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত তাঁদের অবস্থান চিহ্নিত করা হোক । বিশেষ করে মিতালীর সঙ্গে শেষ কখন, কোথা থেকে যোগাযোগ হয়েছিল, তিনি কোন রুটে এগোচ্ছিলেন এবং যে পর্যটকদলের সঙ্গে ছিলেন তাঁদের বর্তমান অবস্থান কী, এই তথ্যগুলি দ্রুত সামনে আনার দাবি পরিবারের ।