বারবার গায়ে হাত, ক্ষুব্ধ মেসি জানিয়েছিলেন নিরাপত্তা কর্মীদের ! চাঞ্চল্যকর দাবি শতদ্রুর
শতদ্রুর দাবি, প্রথমে 150 জনের গ্রাউন্ড অ্যাক্সেস কার্ড হলেও পরে বিভিন্ন মহলের চাপে তা তিনগুণ করতে হয়। আর্থিক লেনদেন নিয়েও বিস্ফোরক তথ্য দেন তিনি ৷

Published : December 20, 2025 at 1:03 PM IST
কলকাতা, 20 ডিসেম্বর: কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হওয়া চরম বিশৃঙ্খলার তদন্তে এবার সামনে এল একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য । বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গতকাল দীর্ঘ সময় ধরে অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক শতদ্রু দত্তকে জেরা করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে পেয়েছেন বলে সূত্রের তরফে জানা গিয়েছে ।
জেরায় শতদ্রু দত্ত দাবি করেছেন, অনুষ্ঠানের দিন মেসির নিরাপত্তা নিয়ে প্রথম থেকেই সমস্যা তৈরি হয়েছিল মাঠে । শতদ্রুর বক্তব্য অনুযায়ী, ভিড়ের মধ্যে বারবার পিঠে হাত দেওয়া ও তাঁর কাছে চলে আসার চেষ্টা একেবারেই পছন্দ করেননি বিশ্বখ্যাত ফুটবলার । এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মেসি বিদেশ থেকে আসা তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের বিষয়টি জানিয়েছিলেন । সেই নিরাপত্তা আধিকারিকরাই পরে আয়োজকদের কাছে বিষয়টি পৌঁছে দেন বলে দাবি করেছেন শতদ্রু ।

তিনি তদন্তকারীদের আরও জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে মাইকে বারবার ঘোষণা করা হলেও দর্শকদের একাংশের আচরণে কোনও পরিবর্তন আসেনি । গ্রাউন্ডের ভিতরে অনিয়ন্ত্রিত ভিড় ও নিরাপত্তা ঘাটতির কারণেই পরিস্থিতি ক্রমশ হাতের বাইরে চলে যায় বলে শতদ্রুর দাবি ।
গ্রাউন্ড অ্যাক্সেস কার্ড নিয়েও বিস্ফোরক তথ্য সামনে এসেছে জেরায় । শতদ্রু দত্তের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথমে মাত্র 150 জনের জন্য গ্রাউন্ড অ্যাক্সেস কার্ড তৈরি করা হয়েছিল । কিন্তু পরে বিভিন্ন মহলের চাপে সেই সংখ্যাটা তিনগুণ বাড়াতে বাধ্য হন আয়োজকরা । তদন্তকারীদের মতে, এই সিদ্ধান্তই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও দুর্বল করে তোলে ।
এছাড়াও, অনুষ্ঠানের আর্থিক দিক নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তদন্তকারীদের হাতে এসেছে । শতদ্রু দত্ত জানিয়েছেন, লিওনেল মেসির সফরের জন্য মোট 89 কোটি টাকা দেওয়া হয় । এর পাশাপাশি ভারত সরকারকে কর বাবদ প্রায় 11 কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল বলে দাবি । শতদ্রুর দাবি, সব মিলিয়ে মেসির অনুষ্ঠানের জন্য খরচ হওয়া প্রায় 100 কোটি টাকার মধ্যে প্রায় 30 শতাংশ অর্থ এসেছে স্পনসরদের কাছ থেকে এবং বাকি প্রায় 30 শতাংশ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে টিকিট বিক্রির মাধ্যমে ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিটের এক তদন্তকারী আধিকারিক জানান, "এই আর্থিক লেনদেন, গ্রাউন্ড অ্যাক্সেস ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে যোগসূত্র খতিয়ে দেখাই এখন মূল লক্ষ্য ।" যুবভারতীকাণ্ডে অব্যবস্থার দায় কার, তা নির্ধারণ করতে এই তথ্যগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে তদন্তকারী দল । যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর সব মহলের ৷

