'রক্তপাতহীন' নির্বাচনের দাবিতে শান্তিনিকেতনে পথে নামলেন প্রবীণরা
রক্তপাতহীন নির্বাচনের দাবিতে শান্তিনিকেতনের পথে নামলেন প্রবীণরা৷ হাতে ব্যানার, তাতে লেখা 'রক্তপাতহীন নির্বাচন চাই। রক্ত মাটিতে নয়, ব্ল্যাড ব্যাঙ্কে নয়'।

Published : February 27, 2026 at 3:19 PM IST
বোলপুর, 27 ফেব্রুয়ারি: 'রক্তপাতহীন নির্বাচন চাই', এই দাবিতে শান্তিনিকেতনের পথে নামলেন প্রবীণরা ৷ শিয়রে বিধানসভা নির্বাচন। অতীতে রাজ্যে প্রতি নির্বাচনে ঝরেছে রক্ত ৷ তাই এবার নির্বাচনে যাতে প্রাণহানি না-হয়, সেই সংক্রান্ত যাবতীয় ব্যবস্থা যেন করে নির্বাচন কমিশন ৷ এই আবেদনেই শান্তিনিকেতনে রাস্তায় পদযাত্রা করলেন প্রবীণরা ৷
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা এখন সময়ের অপেক্ষা ৷ ইতিমধ্যে রাজ্যে 240 কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছে নির্বাচন কমিশন ৷ সাত কোম্পানি বাহিনী আসছে বীরভূমে ৷ আজ, শুক্রবার থেকেই ধাপে ধাপে রাজ্যে ঢুকতে শুরু করবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। অথচ পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, 28 ফেব্রুয়ারিতেই রাজ্যে আসার কথা ছিল বাহিনীর ৷ কিন্তু তার একদিন আগেই তাদের আগমন ঘিরে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে প্রশাসনিক মহলে ৷ এদিকে, রাজ্যের অর্ধেকের বেশি বুথ স্পর্শকাতর ৷
এই অবস্থায় এবার নির্বাচনে যাতে রক্ত না-ঝরে, রক্তপাতহীন নির্বাচনের দাবিতে শান্তিনিকেতনের পথে নামলেন প্রবীণরা ৷ হাতে ব্যানার, তাতে লেখা 'রক্তপাতহীন নির্বাচন চাই ৷ রক্ত মাটিতে নয়, ব্ল্যাড ব্যাঙ্কে চাই' ৷ পাশাপাশি লিফলেটও বিলি করেন তাঁরা ৷ তাঁদের দাবি, প্রতি বছর যে কোনও নির্বাচন এলে, যেমন- পঞ্চায়েত, পুরসভা, লোকসভা, বিধানসভা নির্বাচন এলেই শুরু হয় বোমাবাজি, খুনোখুনি, সংঘর্ষ ৷ আর তাতে কত মায়ের কোল খালি হয়ে যায়, রক্ত ঝরে ৷ তাই এবার বিধানসভা নির্বাচনে যাতে 'রক্তপাতহীন' হয়, সেই দাবিতে পথে নামলেন প্রবীণরা ৷

প্রসঙ্গত, এবার বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালেই শাসক-বিরোধী তরজা তুঙ্গে ৷ টানটান রাজনৈতিক উত্তেজনা । প্রবীণদের মধ্যে কিশোর ভট্টাচার্য ও খুশি সরকার বলেন, "আসন্ন নির্বাচনে রক্ত ঝড়ুক চাই না ৷ নির্বাচন গণতান্ত্রিক অধিকার ৷ সবাই ভোট দেবেন, কিন্তু অশান্তি যাতে না হয় ৷ প্রতিবার নির্বাচনে দেখি কত মায়ের কোল খালি হয়, কত স্ত্রী স্বামী হারান ৷ তাই নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে নজর দিক, বাংলায় যেন রক্তপাতহীন নির্বাচন হয় ৷"

একনজরে গত নির্বাচনগুলিতে হিংসার ঘটনা
- 2013 সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে 'পুলিশকে বোমা মারুন', 'বিরোধীদের বাড়ি জ্বালিয়ে দিন' বলেছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। তারপরই বীরভূমের কসবায় সাগর ঘোষকে গুলি করে হত্যায় রাজ্যরাজনীতি উত্তাল হয়েছিল ৷ এরপরেও সেই পঞ্চায়েত নির্বাচনে রক্ত ঝরেছে বীরভূম জেলাজুড়ে ৷
- 2016 সালে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল-সিপিএম সংঘর্ষে পাঁড়ুই থানার ওসি-সহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছিল ৷ নানুর বিধানসভার খুন হয়েছিলেন তৃণমূল নেতা ৷
- 2019 সালের লোকসভা নির্বাচনে দুবরাজপুর ভোট কেন্দ্রে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে ৷ সামাল দিতে গুলি চালায় কেন্দ্রীয় বাহিনী। বীরভূমের গঙ্গারামপুরে বোমা বিস্ফোরণ হয় ৷
- 2021 সালের বিধানসভা নির্বাচনে ইলামবাজার, খয়রাশোল, ময়ূরেশ্বর, সাঁইথিয়া, বোলপুর প্রভৃতি এলাকায় তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে জখম হন দুই দলের কর্মীরাই ৷
- তারপর ভোট পরবর্তী হিংসায় রাজ্যের মধ্যে নজির গরে বীরভূম ৷ 2021 সালের 2 মে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন ইলামবাজারে ভোট পরবর্তী হিংসায় খুন হন বিজেপি নেতা গৌরব সরকার ৷ এছাড়াও, কঙ্কালীতলা এলাকায় বিজেপির মহিলা কর্মীকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে ৷ চলে লুটপাট, মারধর, ভাঙচুর। যা নিয়ে এখনও সিবিআই তদন্ত চলছে ৷

