ভোটমুখী বাংলায় ফের ডিএ নিয়ে আন্দোলনে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ, চিঠি রাজ্যপালকে
দাবি নিয়ে আলোচনার জন্য রাজ্যপালকে চিঠি দেওয়া হয়েছে । সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের তরফে হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে ফের নবান্ন অভিযান ও অবস্থানের ।

Published : January 3, 2026 at 6:28 PM IST
কলকাতা, 3 জানুয়ারি: বকেয়া ডিএ নিয়ে পিছু হটা নয়, বরং নতুন বছরের শুরুতে ডিএ-সহ আরও বেশ কয়েক দফা দাবিকে সামনে রেখে আন্দোলন চাঙ্গা করাই লক্ষ্য । তাই ভোটমুখী বাংলায় আবারও সরকারি কর্মীদের প্রাপ্য ডিএ আদায়, শূন্যপদে নিয়োগ-সহ বেশকিছু দাবি নিয়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ । দাবি নিয়ে আলোচনার জন্য সময় চেয়ে রাজ্যপালকে দেওয়া হয়েছে চিঠিও । পাশাপাশি হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে ফের নবান্ন অভিযান ও অবস্থানের ।
2026 সালের শুরু হতেই এখন নির্বাচন মুডে রাজ্য । শাসক-বিরোধী সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলি পুরোদমে ভোট প্রস্তুতি শুরু করেছে ময়দানে নেমে । বিধানসভা নির্বাচন ঘোষণার প্রাক্কালে সরকারি কর্মীদের প্রাপ্য নিয়ে লড়াইয়ে ময়দানে নামার কথা জানাল সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ । তারা সংগঠনের তরফে চিঠি দিয়ে রাজ্যপালকে জানিয়েছে, "সরকারি কর্মচারী এবং স্কুল শিক্ষকদের একটি অরাজনৈতিক যৌথ প্ল্যাটফর্ম হল সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ ৷ রাজ্যের বিপুল সংখ্যক কর্মচারী এবং শিক্ষকদের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু জরুরি ও দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা আপনার সামনে উপস্থাপন করার জন্য বিশেষ করে জানুয়ারি 2026-এর প্রথম দিকে আপনার সঙ্গে ব্যক্তিগত সাক্ষাতের সুযোগ কামনা করা হচ্ছে ।"

চিঠি অনুযায়ী, 5 দফা বিষয় নিয়ে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গে বিস্তর আলোচনা করা হবে । তাতে বলা হয়েছে, কর্মচারী ও শিক্ষকদের যাতে ন্যায্য ও সংশোধিত বেতন সুবিধা পেতে আর দেরি না-হয়, সেজন্য নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশন গঠন করা । ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশের দ্বিতীয় অংশ অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা, যা এখনও বিচারাধীন এবং এর ফলে কর্মীদের মনোবল নিম্নমুখী হয়েছে, যার ফলে কর্মক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং জনসেবা প্রদানের মান বিরূপভাবে প্রভাবিত হয়েছে ।
আরেকটি দাবি, সকল যোগ্য চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদের নিয়মিতকরণ, যাঁরা বছরের পর বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে চাকরি করছেন, কিন্তু চাকরির নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা এবং মৌলিক পরিষেবা সুবিধা থেকে বঞ্চিত । সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়, AICPI অনুসারে মহার্ঘ্য ভাতা জমা হওয়ার তারিখ থেকে প্রদান এবং এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় সরকার যাতে মান্যতা দেয়, কেন্দ্রীয় এবং বেশিরভাগ রাজ্য-স্বীকৃত নিয়মের সঙ্গে যেন সমতা নিশ্চিত করা হয় এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে কর্মচারীদের সুরক্ষা প্রদান করা হয় ।
এছাড়াও দাবি করা হয়ছে, সরকারি অফিস এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় 6 লক্ষ শূন্যপদ অবিলম্বে একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ এবং সময়সীমাবদ্ধ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পূরণ করা, যা জনসেবা প্রদানের উন্নতি, বেকারত্ব হ্রাস এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য অপরিহার্য । এই বিষয়গুলি সরাসরি হাজার হাজার কর্মচারী, শিক্ষক এবং তাঁদের পরিবারের জীবিকা, মর্যাদা এবং মনোবলের সঙ্গে সম্পর্কিত ।
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ চিঠিতে লিখেছে, "আমরা আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি যে, আপনার (রাজ্যপাল) সদয় হস্তক্ষেপ এবং নির্দেশনা দীর্ঘদিনের এই অভিযোগগুলির ন্যায্য ও সময়োপযোগী সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে ।" সংগঠনের তরফে শুধু রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা, আলোচনা বা দাবির প্রতি হস্তক্ষেপের কথা জানিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়নি ।
যুগ্ম আহবায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেন, "আমরা দেখব রাজ্যের সরকার আমাদের ডিএ-সহ বাকি দাবি নিয়ে কী পদক্ষেপ নেয় । কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ না-দেখতে পেলে চলতি মাসের শেষের দিকেই বিক্ষোভ জমায়েত কর্মসূচি নেব । প্রয়োজনে ফের নবান্ন অভিযান ও অবস্থান করব ।"

