নবান্নে দাঁড়িয়ে শমীকের ঘোষণা, 25শে বৈশাখ ব্রিগেডে নয়া মন্ত্রিসভার শপথ
9 মে শপথ নেবে বিজেপির নেতৃত্বে গঠিত নয়া মন্ত্রিসভা, জানালেন রাজ্য সভাপতি শমীক ৷ ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ করবে বিজেপি, জানিয়েছেন নেতা ৷

Published : May 6, 2026 at 4:07 PM IST
হাওড়া, 6 মে: রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন শপথ নেবে বিজেপির নেতৃত্বে বাংলার নতুন মন্ত্রিসভা ৷ বুধবার নবান্নে দাঁড়িয়ে জানালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ৷ নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিতে তাঁর নবান্নে আসা, জানান বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতা ৷ এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব দুষ্যন্ত নারিয়ালা, রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল, সাংসদ সৌমিত্র খাঁ এবং রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক শশী অগ্নিহোত্রী ৷
উল্লেখ্য, এদিন বিজেপি প্রতিনিধি দল নবান্নে পৌঁছালে সচিবালয়ের কিছু সাধারণ কর্মচারীর মধ্যেও ব্যাপক উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়। এমনকি, তাঁদের একাংশকে 'জয় শ্রীরাম' ধ্বনি দিয়ে বিজেপি নেতাদের স্বাগত জানাতেও দেখা গিয়েছে ৷
বুধবার তিনি জানিয়েছেন, এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা উপস্থিত থাকবেন ৷ পাশাপাশি 20টি বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও আসবেন ৷ ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনায় তাঁর মন্তব্য, "বিজেপির তৃণমূলীকরণ হতে দেব না ৷" তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা বিজেপির পতাকা নিয়ে গেরুয়া আবির গায়ে মেখে তৃণমূলের কার্যালয় দখল করছে ৷ তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে ৷ তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিজেপি'র দু'জন কর্মী শহিদ হয়েছে ৷
এদিন সাংবাদিকদের কাছে শমীক বলেন, "আগেও নবান্নে এসেছি ৷ কিন্তু এই অনুভূতি সম্পূর্ণ ভিন্ন ৷ আজকে এসেছি, আমাদের সরকার অর্থাৎ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মাটিতে শ্যামাপ্রসাদের সরকার গড়ার প্রস্তুতি নিতে ৷ আগামী 8 তারিখ বিকেল 4টেয় আমাদের বিধায়ক দলের বৈঠক হবে ৷ সেখানে বিধায়ক দলের নেতা নির্বাচিত হবে এবং 9 তারিখ ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে সকাল 10টার সময় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিজেপির আরও নেতৃবৃন্দ এবং বিজেপি শাসিত 20টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের উপস্থিতিতে শপথ গ্রহণ হবে ৷"
সরকার গঠনের এই জোরালো প্রস্তুতির মাঝেই রাজ্যের ভোট পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রবল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিজেপি নেতৃত্ব ৷ পালাবদলের পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যে বিক্ষিপ্ত অশান্তি ও সংঘাতের খবর আসছে, তা অবিলম্বে কড়া হাতে দমন করার জন্য মুখ্যসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজিকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন বিজেপি নেতারা ৷
শমীক ভট্টাচার্য দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন, এই বিপুল জয়ে সাধারণ মানুষের অবদান সবচেয়ে বেশি ৷ তাই কোনওভাবে অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না ৷ ইতিমধ্যে তাঁদের দলের দু'জন কর্মী শহিদ হয়েছেন ৷ পুলিশকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে কড়া পদক্ষেপ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ৷
রাজ্যের বেশ কিছু জায়গায় তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয় দখল করার অভিযোগ প্রসঙ্গেও এদিন কড়া বার্তা দেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি ৷ তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, "বিজেপির কোনও প্রকৃত কর্মী এই ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত নন ৷ রাতারাতি দলের পতাকা হাতে নিয়ে, গেরুয়া আবির মেখে কিছু সুবিধাবাদী মানুষ এই কাজ করছে ৷"
তৃণমূলের মতো 'দখলদারি'র রাজনীতি বিজেপি করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন শমীক ৷ পঞ্চায়েত বা পুরসভা দখলের যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে ৷ এই ধরনের কাজে যুক্ত থাকলে দল থেকে সরাসরি বহিষ্কার করার কড়া হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি ৷ পাশাপাশি, রাজ্যের কোনও কোনও জায়গায় ইচ্ছাকৃত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি ৷ এই বিষয়ে প্রশাসনকে কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দলের তরফে ৷
এদিকে, নতুন সরকারের প্রশাসনিক সদর দফতর কোথায় হবে, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে ৷ বিরোধিতায় থাকার সময় বিজেপি একাধিকবার দাবি করেছিল, ক্ষমতায় এলে তারা নবান্ন থেকে নয়, ঐতিহাসিক মহাকরণ থেকেই সরকার চালাবে ৷ মহাকরণে এখন দীর্ঘস্থায়ী সংস্কারের কাজ চলছে ৷ সেখানে ভিতরে ইতিমধ্যে ব্যানার টাঙানো হয়েছে ৷
এই অবস্থায় সেখান থেকে প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে দলের অন্দরেই জল্পনা রয়েছে ৷ সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শমীক ভট্টাচার্য এদিন স্পষ্ট করে দেন, আগামী 8মে পরিষদীয় দলের বৈঠকের পরই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে ৷ নতুন মুখ্যমন্ত্রী ঠিক করবেন তাঁর সরকারের সচিবালয় নবান্নে হবে নাকি মহাকরণে ৷ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক কোথায় হবে, তাও পরে দলের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি ৷ এদিকে গতকালই নবান্নে সরকারি কর্মচারীরা গেরুয়া আবির খেলে 'জয় শ্রীরাম' ধ্বনি দিয়ে নতুন সরকারকে স্বাগত জানিয়েছেন ৷

