চলন্ত ট্রেনে 2 বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী তরুণীকে পাকড়াও আরপিএফের
তরুণীদের সঙ্গে এক ভারতীয় যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে ৷ ধৃতদের পাঁচদিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছেন বিচারক ৷

Published : January 8, 2026 at 6:04 PM IST
মালদা, 8 জানুয়ারি: অশান্ত বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এখন প্রায় তলানিতে ৷ প্রতিদিনই কোনও না কোনও ইস্যুতে ভারতের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছেন প্রতিবেশী দেশের নাগরিকরা ৷ ঠিক সেই সময় ভারতীয় রেল সুরক্ষা বলের হাতে ধরা পড়লেন দুই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী তরুণী ৷ বুধবার রাতে চলন্ত ট্রেনে তাঁদের ধরে ফেলেন আরপিএফ জওয়ানরা ৷
পাকড়াও করা হয় ওই তরুণীদের সঙ্গে থাকা এক ভারতীয় যুবককেও ৷ পরে তাঁদের তুলে দেওয়া হয় মালদা টাউন জিআরপির হাতে ৷ সাতদিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে ধৃতদের বৃহস্পতিবার মালদা জেলা আদালতে পেশ করেছে রেল পুলিশ ৷
মালদা টাউন জিআরপি থানার আধিকারিক প্রশান্ত রাই বলেন, "বুধবার রাতে আরপিএফ-এর এসকর্ট ছিল ৷ শিলচর থেকে কোয়েম্বাটোরগামী এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি জেনারেল কামরায় আরপিএফ এসকর্ট টিম দুই বাংলাদেশি তরুণী-সহ এক ভারতীয় যুবককে আটক করে ৷ আজ ভোরে আরপিএফ-এর তরফে তিনজনকে আমাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ৷ আমরা তিনজনকেই গ্রেফতার করেছি ৷ নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে সাতদিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে বৃহস্পতিবারই ধৃতদের মালদা জেলা আদালতে পেশ করা হচ্ছে ৷"
তিনি আরও বলেন, "ধৃত দুই তরুণীর বাড়ি বাংলাদেশের ঢাকায় ৷ সেখানে তাঁরা কাজ করতেন ৷ জেরায় তাঁরা জানিয়েছেন, তাঁদের গ্রামের একজন বেঙ্গালুরুতে কাজ করতেন ৷ সেখানেই তাঁরা কাজের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন ৷ তাঁরা সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন ৷ তাঁদের বক্তব্য আমরা তদন্ত করে দেখছি ৷ এই দুই তরুণীর সঙ্গে যে ভারতীয় যুবক ধরা পড়েছেন তিনি অসমের বাসিন্দা ৷ এর আগেও তিনি বেঙ্গালুরুতে কাজ করতেন ৷ তাঁর সঙ্গেই ওই দুই তরুণী বেঙ্গালুরু যাচ্ছিলেন ৷ শিলচর-কোয়েম্বাটোর এক্সপ্রেসের অসংরক্ষিত কামরা থেকে তাঁদের ধরা হয় ৷"
রেল পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত দুই তরুণীর নাম সাইমা আখতার (19) ও ওসমিয়া আখতার (21) ৷ তাঁদের সঙ্গে ভারতীয় যুবকের নাম ইমরান হোসেন লস্কর ৷ তিনি অসমের কোকরাঝাড় এলাকার বাসিন্দা ৷ দুই বাংলাদেশি তরুণীর কাছ থেকে কোনও বৈধ নথিপত্র পাওয়া যায়নি ৷ শুধুমাত্র মোবাইল ফোন ও বাংলাদেশি সিম কার্ড পাওয়া গিয়েছে ৷ তাঁদের এভাবে ভারতে প্রবেশ করার পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে ৷ এদিকে জেলা আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের পাঁচদিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্য দায়রা বিচারক ৷

