ভারী বৃষ্টিতে ভাঙল দুধিয়া সেতু, পরির্দশনে সাংসদ রাজু বিস্তা
ভারী বর্ষণের জেরে উত্তরবঙ্গের নদীগুলিতে জল বাড়ছে ৷ প্রবল বৃষ্টিতে বালাসন নদীতে জলস্তর বাড়ার কারণে 110 নম্বর জাতীয় সড়কের একাধিক জায়গা ধসে গিয়েছে।

Published : June 19, 2026 at 11:29 AM IST
|Updated : June 19, 2026 at 4:19 PM IST
মিরিক/শিলিগুড়ি, 19 জুন: সারারাত ধরে ভারী বৃষ্টি ৷ এর জেরে কার্শিয়াং মহকুমার বালাসন (দুধিয়া) নদী আবারও ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। নদীর প্রবল স্রোতে দুধিয়ায় অবস্থিত অস্থায়ী হিউম পাইপস সেতু ভেঙে পড়ল শুক্রবার ভোরে ৷ এর ফলে মিরিক-শিলিগুড়ি সড়ক সম্পূর্ণভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। তারপরই দুধিয়া এলাকায় তলিয়ে যাওয়া সেতু পরিদর্শনে যান দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা ৷ সেখানে গিয়ে কথা বলেন স্থানীয়দের সঙ্গে ৷
বর্ষার কোপে ফের বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ। গত কয়েকদিন ধরেই উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে বৃষ্টির দাপট বেড়েছে ৷ স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল রাতের ভারী বৃষ্টির পর বালাসন নদীর জলস্তর হঠাৎ বেড়ে যায় এবং প্রবল স্রোত বাড়তে থাকে। ভোরের দিকে নদীর জলের তোড়ে ভেসে যায় দুধিয়ার অস্থায়ী সেতুটি ৷ এর জেরে 110 নম্বর জাতীয় সড়কের একাধিক জায়গা ধসে গিয়েছে ৷ গতবছর অক্টোবরের দুর্যোগেই ভেঙে গিয়েছিল ওই দুধিয়া সেতু। পরে বালাসনের নদীবক্ষেই তৈরি হয় অস্থায়ী সেতু। তবে, এবারের বৃষ্টিতে সেই সেতুও ভেঙে গেল।
পাশাপাশি, নির্মাণাধীন নতুন লোহার সেতুর পিলারগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে ৷ স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কার্শিয়াং ও পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টি হলেই বালাসন নদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পায়, যার ফলে বারবার এই ধরনের বিপর্যয় দেখা দেয়। ঘটনার পর এলাকাবাসীরা রয়েছেন আতঙ্কে ৷
এদিকে, NDRF এবং জেলা প্রশাসনের বিপর্যয় মোকাবিলা দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধস সরিয়ে এবং রাস্তা মেরামত করে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কিছুটা সময় লাগবে।
সাংসদ রাজু বিস্তার জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে তিনি এসেছেন ৷ প্রতিবছরই বর্ষা এলেই ক্ষতির মুখে পড়তে হয় এখানে স্থায়ীকরণের জন্য ৷ বেইলি ব্রিজ করার আবেদন করেছেন স্থানীয়রা ৷ এই বিষয়টি সেনা এবং মুখ্যমন্ত্রীকে জানানো হবে ৷
উল্লেখ্য, গত বছরের 5 অক্টোবর প্রবল বর্ষণের ফলে দুধিয়া এলাকার প্রধান লোহার সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এরপর যান চলাচল সচল রাখতে প্রায় 15 দিনের মধ্যেই এই অস্থায়ী হিউম পাইপস সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। সেই সেতুর মাধ্যমেই মিরিক ও শিলিগুড়ির মধ্যে যানবাহন চলাচল করছিল ৷ এবছর জুন মাসের শুরুতে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল দুধিয়া পরিদর্শনে এসে নির্মাণাধীন সেতুর কাজ খতিয়ে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে আলোচনা করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা ভবিষ্যতে স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকারের কাছে দ্রুত বেইলি ব্রিজ (Bailey Bridge) নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

