তামান্নার মা’কে দেখতে হাসপাতালে আরজি করের নির্যাতিতার বাবা-মা, তৃণমূলকে গদিচ্যুত করার ডাক
অসহযোগিতার অভিযোগে পুলিশ প্রশাসনের সমালোচনা আরজি করের নির্যাতিতার বাবা-মা’র ৷ সুবিচার পেতে একসঙ্গে লড়াই চালানোর বার্তা ৷

Published : January 3, 2026 at 2:41 PM IST
কলকাতা, 3 জানুয়ারি: তামান্নার মা’কে দেখতে হাসপাতালে আরজি কর-কাণ্ডে মৃত চিকিৎসক পড়ুয়ার বাবা-মা ৷ শুক্রবার কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে দীর্ঘ সময় তাঁরা কালীগঞ্জের বোমা বিস্ফোরণে মৃত তামান্নার মায়ের কাছে ছিলেন ৷ সেখান থেকে বেরিয়েই রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলকে নিশানা করলেন আরজি করের নির্যাতিতার বাবা-মা ৷ আসন্ন নির্বাচনে ফের তৃণমূলের সরকারকে উৎখাতের ডাক দিলেন তাঁরা ৷
আরজি করের নির্যাতিতার বাবা-মা’র বক্তব্য, "আমরা সব সময় তামান্নার মায়ের সঙ্গে আছি ৷ ও আমাদের আন্দোলনের মুখ ৷ ওঁর পাশে আমরা থাকব ৷ এই যে দুর্নীতি, অপশাসন ও মিথ্যাচার একটা সরকার চালাচ্ছে, তার পরতে-পরতে দুর্নীতি ৷ চাকরি বিক্রির ইস্যু থেকে শুরু করে, সব জায়গায় চুরি ৷ এই চোরেদের রাজত্ব ভাঙতে চাই ৷ স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) ব্যর্থ ৷ ওঁর পদত্যাগের দাবি আমি প্রথমদিন থেকেই করে এসেছি ৷ দুর্নীতি, অপশাসন ও চোরদের সরকার আমরা আর চাই না ৷"
নিজেদের মেয়ের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তামান্নার মায়ের মানসিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন তাঁরা ৷ যেখানে পুলিশের বিরুদ্ধে সরাসরি অসহযোগিতার অভিযোগ করেছেন আরজি করের নির্যাতিতার বাবা-মা ৷ তাঁরা বলেন, "পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির জেরে তামান্নার মা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন ৷ ঘুমের ওষুধ বেশি খেয়ে ফেলেছিলেন ৷ ওখানেই চিকিৎসা হয়ে যেত ৷ কিন্তু, ওখানে চিকিৎসা না-করিয়ে পুলিশ পাঠিয়ে দিয়েছে ৷ তারপর কলকাতার এই বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ৷ লড়াইটা অনেক দীর্ঘ, মনোবল আরও বাড়াতে হবে ৷ আমাদেরও মেয়ে আর ফিরে আসবে না ৷ কিন্তু, বিচারের জন্য লড়াইটা আমাদের চালিয়ে যেতে হবে ৷ আমাদের সঙ্গে প্রথম থেকেই পুলিশ অসহযোগিতা করেছে ৷"
পুলিশের বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ তুলে তাঁরা বলেন, "পুলিশ তথ্য প্রমাণ লোপাটের জন্য যত চেষ্টা করেছে, তার কিছুটা সঠিক কাজ করলে খুনিদের শাস্তি দিতে পারত পুলিশ ৷ তাহলে এতদিনে আমার বিচার পেয়ে যেতাম ৷" তবে, তামান্নার মা’কে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা ৷ বলেছেন, লড়াই দীর্ঘ হবে ৷ বিচার চাই বললে, কেউ বিচার দেবে না - মন্তব্য আরজি করের নির্যাতিতার বাবা-মায়ের ৷
তাঁরা বলেন, "আক্ষেপ কিছু নেই, হতাশাও নেই ৷ বিচার আমরা পেয়ে ছাড়ব ৷ এই লড়াই যত দীর্ঘ হোক, আমরা ধৈর্য রাখব ৷ বিচার চাই বললে কেউ দেবে না, বিচার ছিনিয়ে নিতে হবে ৷ হুমকি দিলে পালটা প্রতিবাদ করবেন ৷ আমাদের ওপরেও অনেক হুমকি এসেছে ৷ আমরা রুখে দাঁড়িয়েছিলাম ৷ আমাদের উপরে এখনও চাপ আছে ৷ তবে, পাত্তা দিই না ৷ আমরা ওঁকে বুঝিয়েছি, আপনিও পাত্তা দেবেন না ৷ কেউ আপনার কিছু করতে পারবে না ৷ আমার মেয়ের মৃত্যুর পর যত ঘটনা ঘটেছে, ওঁকে পাশে পেয়েছি ৷ বাকি ঘটনাগুলি কোথাও না-কোথাও, বোঝাপড়া হয়ে গেছে ৷ আমরা যেভাবে লড়াই করে বিচার ছিনিয়ে আনার চেষ্টা করছি, তামান্নার মা-ও সেই কাজটি করছেন ৷"

